Image description

সাজেকের উজোবাজারে (গঙ্গারাম বাজার) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথে অবরোধ ডেকেছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সাজেকের সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন সেখানকার আন্দোলনরত জনগণের দাবি মেনে নিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। বৃহস্পতিবার উজোবাজারে শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।’

এদিকে আগে থেকেই সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এসব অস্থিরতার প্রভাবে সাজেক এখন পর্যটকশূন্য। বাতিল হয়েছে শতাধিক রিসোর্ট-কটেজের বুকিং। ফলে আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছেন সাজেককেন্দ্রিক পর্যটন উদ্যোক্তারা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর উজোবাজারে গোলাগুলি হয়। এরপর থেকে সেখানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। বাজারের দোকানও বন্ধ। আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

শুক্রবার সাজেক সড়কের কয়েকটি স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে টায়ার জ্বালিয়েছে অবরোধকারীরা। সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের ১০ নম্বর, ১৪ কিলোসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে সড়কে টায়ার জ্বালানো হয়। অবরোধে যানচলাচলে বন্ধ রয়েছে।

সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘আমাদের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় আমাদের শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত আটজন।’

 

 

সাজেক খুলে দেওয়ার দাবিতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ করেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ছবি: সংগৃহীত
সাজেক খুলে দেওয়ার দাবিতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ করেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ছবি: সংগৃহীত

 

 

 

উজোবাজার এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি, দোকানপাট ফেলে অন্য জায়গায় চলে গেছে। আতঙ্কে তারা এলাকায় ফিরতে পারছে না।’

উজোবাজার ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা জানান, ‘লোকজন বাড়িঘর, দোকান ফেলে যে যেখানে পারে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে গেছে। কেউ জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে। বাজারের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।’

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, উজোবাজারসহ আশপাশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। গোলাগুলির ঘটনায় এখনো কোনো কোনো মামলা হয়নি। যারা ভয়ে-আতঙ্কে চলে গেছে, তাদের বাড়ি ফিরতে কোনো বাধা নেই।’

এদিকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবিতে শুক্রবার বিকেলে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ করেছেন পর্যটন উদ্যোক্তা ও খাতসংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১২০টি রিসোর্ট-কটেজ রয়েছে। প্রায় তিন হাজার পর্যটকের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। বৃহস্পতিবার পুনরায় অবরোধ শুরুর কারণে আগের বুকিংগুলো বাতিল হচ্ছে।

 

 

সাজেক ভ্যালির রুইলুই হলিডে রিসোর্টের ব্যবস্থাপক রাশু চাকমা জানিয়েছেন, ‘চলমান অস্থিরতার মধ্যেও আমাদের রিসোর্টে ১০টি কক্ষ বুকিং ছিল। অবরোধের কারণে সব বাতিল হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে বুকিংয়ের টাকা ফেরত দিয়েছি। এই পরিস্থিতি সব রিসোর্টেই।’

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতি সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, ‘সাজেক ভ্যালির অনেক রিসোর্ট-কটেজে ৩০ তারিখ পর্যন্ত বুকিং ছিল। অবরোধের কারণে সেগুলো বাতিল হচ্ছে। এভাবে বুকিং বাতিল হলে পর্যটন ব্যবসায় বড় ধস নামতে পারে।’

সাজেক ভ্যালির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র রাঙামাটি জেলায় হলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ে খাগড়াছড়িতে। বেশিরভাগ পর্যটক খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা হয়ে সাজেক যান।

 

এ কারণে সাজেকের অস্থিরতার প্রভাব খাগড়াছড়ির পর্যটন অর্থনীতিতে পড়লেও রাঙামাটিতে খুব একটা পড়েনি। রাঙামাটির শহরকেন্দ্রিক ও আশপাশের পর্যটন স্পটগুলোয় জনসমাগম রয়েছে। রিসোর্ট-কটেজ ও হোটেল-মোটেলে পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।

রাঙামাটি সদর উপজেলায় অবস্থিত বার্গী লেকভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রাঙামাটি রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুমেত চাকমা বলেন, ‘সাজেকের অস্থিরতার প্রভাব এখানে নেই। উল্টো আমাদের রিসোর্টে পর্যটক ও দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ২০০-৩০০ দর্শনার্থী বেড়াতে আসতেন, সেখানে এখন আসছেন দ্বিগুণ।’