Image description
গত ১৪ অক্টোবর পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্তদের বিষয়ে তথ্যের ঘাটতি ছিল ঢাকা-জেদ্দা দুই পক্ষেরই।
 
তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় ১৫ দিন আগের একটি নথি এসেছে স্টার নিউজের হাতে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে দুই হাজার ৪৬১ জন বাংলাদেশী বন্দির তালিকা পাঠায়। সেই তালিকায় ২২ জনের শাস্তির বিস্তারিত তথ্য ছিল না। তাদের মধ্যে ছিলেন সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার।
 
নথি অনুযায়ী, ওই ২২ জনের মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় বিচার হয়েছে। পাঁচজনের বিরুদ্ধে মাদক পাচার এবং আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অধিকার-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ, একজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের এবং একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মামলা রয়েছে। এই ২২ জনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
 
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দেশে বিদেশী নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা চললে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে সে বিষয়ে অবহিত করা কূটনৈতিক রীতি। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে শিথিলতা দেখা গেছে বলে মনে করছেন তারা।
 
এ বিষয়ে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের থেকে কিছুটা শিথিলতার সুযোগ নেওয়া, যে যেহেতু আমাদের সরকারের দিক থেকে এটার একটা প্রোঅ্যাকটিভ কোনো জায়গা নেই। কিন্তু অবশ্যই যখন মামলা চলমান আছে, সেই মামলা সম্পর্কে তথ্যটা সরকারকে দেয়া একটা মনে হয় যে সেটা আন্তর্জাতিক আইন বলি অথবা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিকের যেই শিষ্টাচার সেটার মধ্যে পড়ে যে তারা জানাবে। তারপরে কিন্তু দায়িত্বটা তখন আমাদের সরকার বা আমাদের দূতাবাসগুলোর পড়ে যে তারা এটা নিয়ে কোনো অ্যাকশনে যাচ্ছে কি যাচ্ছে না।
 
এ বিষয়ে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ কিছুটা শিথিলতার সুযোগ নিচ্ছে, কারণ এ বিষয়ে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সক্রিয় উদ্যোগ নেই। তবে মামলা চলমান থাকলে, সেই মামলা সম্পর্কে সরকারকে তথ্য জানানো উচিত বলে তিনি মনে করেন।
 
 
তিনি আরও বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন কিংবা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের আওতায় পড়ে। এরপর এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সেই দায়িত্ব আমাদের সরকার বা দূতাবাসগুলোর ওপর বর্তায়।
 
এখন দেখার বিষয়, সৌদি কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এসব মামলার রায়ের বিস্তারিত তথ্য জানায় এবং তাতে কার বিরুদ্ধে কী শাস্তির তথ্য উঠে আসে।