সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ১৪ বছর বয়সী ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পরানদহা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. মোখলেছুর রহমান (৪০) আশাশুনি উপজেলার সরাপপুর দারুসসুন্নাহ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা মো. আক্তারুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার আশাশুনি থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওই মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র এবং আবাসিক বোর্ডিংয়ে থাকত। অভিযোগ করা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে ওই শিক্ষার্থীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে হয়রানি ও মারধর করা হতো। এছাড়া গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাতে নিজের কক্ষে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে দিয়ে হাত-পা টেপাতেন তিনি।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে বোর্ডিং থেকে চাল-ডাল নিয়ে রান্নাঘরে দিয়ে ফেরার পথে ওই শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক। সেখানে তাকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থী চিৎকার করলে প্রধান শিক্ষক তার মুখ চেপে ধরেন এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য নিষেধ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বাড়িতে ফিরে শিক্ষার্থী তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। অসুস্থ বোধ করায় তাকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমান বলেন, মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পরানদহা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।