Image description

‘আমি স্কুল থেকে ফেরার পর মা বলে, তোমার আব্বুর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরের দিন শুনি, আব্বু মারা গেছে।’ সৌদি আরবে হামলায় নিহত বাবা মো. শাহেদ আহম্মেদের কথা বলতে গিয়ে এভাবেই নিজের কষ্টের কথা জানায় ১০ বছর বয়সী কাউসার।

বাবাকে হারানোর শোকের মধ্যেও ছোট্ট কাউসারের মনে গেঁথে আছে বাবার একটি স্বপ্ন। ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন শাহেদ। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই থেমে গেছে বাবার পথচলা। বাবার মরদেহ দেশে ফিরলেও আর কখনো তাকে কাছে পাবে না বড় ছেলে কাউসার।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে সৌদি আরব থেকে নিহত মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে পৌঁছায়। সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে মরদেহবাহী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

কাউসার জানায়, বাবার সঙ্গে ঘটনার আগের দিন পর্যন্ত কথা হয়েছিল তাদের। এরপর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বাবার খোঁজ না পাওয়ার কথা প্রথমে মায়ের কাছ থেকে জানতে পারে সে। পরে জানতে পারে, তার বাবা আর বেঁচে নেই।

কাউসার বলে, আমি ঠিক জানতাম না, আমার আব্বুর সঙ্গে এমন ঘটনা হবে। আব্বু বিমান থেকে নামার পর শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কথা হয়েছে। তারপর আর যোগাযোগ হয়নি। আমি স্কুল থেকে ফেরার পর মা বলে-তোমার আব্বুর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এর পরের দিন শুনি, আব্বু মারা গেছে।

বাবার সঙ্গে মনে রাখার মতো বিশেষ কোনো স্মৃতি আছে কি না, জানতে চাইলে কাউসার জানায়, তেমন কিছু মনে পড়ে না তার। তবে বাবার একটি ইচ্ছার কথা মনে আছে। লেখাপড়া শিখিয়ে ছেলেকে ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন শাহেদ।

 

কাউসার বলে, আব্বু আমাকে ব্যবসায়ী বানাতে চাচ্ছিল। লেখাপড়া শিখিয়ে বিজনেসম্যান করার চেষ্টা করেছিল, তা আর হলো না।

শাহেদের মরদেহ দেশে

গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলায় নিহত হন বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদ। তিনি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

এরপর ২২ অক্টোবর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শাহেদের মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিএস-৩৬২। শাহেদের মরদেহ বহনকারী ইউএস-বাংলার ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ২২ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

শুক্রবার সকালে নিহত মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ গ্রহণ করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত হন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

এ সময় তিনি নিহতের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সরকারি সহায়তার চেক নিহতের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন।