Image description

পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটিতে (পিওএইচএস-১) গভীর রাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানামুখী মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। পার্টিতে অংশ নেওয়া ডিজে এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার পেশায় নিয়োজিতদের সাজা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পুলিশেরই ঊর্ধ্বতনরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেছেন, পুলিশের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে এ অভিযান চালানো হয়েছে। এখন ওই বাসায় আরও অনেক কর্মকর্তারা যেতেন— টার্গেট করেই এটা ছড়ানো হচ্ছে। যদিও এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

গত সোমবার রাত আড়াইটা থেকে ডিবি উত্তরা বিভাগের একটি দল ভাটারার পুলিশ হাউজিং-১ আবাসিক এলাকার তিনতলা ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে ২৬ জন নারী। এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর ওই বাড়ির মালিক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত বিচারে সাজা দেওয়া হয়েছে। নারীদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিন দিন কারাভোগের সাজা হয়েছে। আর পুরুষদের প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

       

 অভিযানে ওই বাড়ি থেকে দেশীয় কোম্পানি কেরুর তৈরি হুইস্কির ৭৫০ মিলিলিটারের একটি খালি বোতল পাওয়া গেছে। জব্দ করা হয় ভারতীয় রয়্যাল স্ট্যাগ এক লিটারের একটি বোতল। ওই বোতলে আনুমানিক ৫০০ মিলিলিটার মদ ছিল। জব্দ করা হয় স্মিরনফ ভদকার এক লিটারের একটি বোতল, যাতে ২০০ মিলিলিটারের মতো মদ ছিল। আর ভারতীয় একটি কোম্পানির হুইস্কির এক লিটারের একটি বোতল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ওই বাড়ি থেকে একটি ইয়াবা বড়ি ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং একচিলতে পরিমাণ কুশ উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে ডিবির জব্দ তালিকায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ আগামীর সময়কে বলেছেন, অভিযানটি নিয়ে আরও তদন্ত হওয়া উচিত। প্রকৃতপক্ষেই সেখানে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ব্যবহৃত হয়েছিল কি না? আবার, কারও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল কি না, তাও জানা দরকার।

এক প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম বলেছেন, লেটনাইট ওই পার্টিতে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া দরকার ছিল। প্রকৃতপক্ষেই ঘটনাস্থলে নিষিদ্ধ মাদক পাওয়া গেলে তার উৎস বের করা উচিত। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তার বাসাতে কী পার্টি হবে তা অবহিত হয়েই ভাড়া দেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবীর জানালেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে অভিযান চালিয়েছেন। ওই বাড়িতে পার্টি আয়োজনের বিষয়ে আগে তাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। তবে তার দাবি, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি করা হতো। অভিযানের আগেই আটক ব্যক্তিরা মদ ও ইয়াবা সেবন করে ফেলেন। ফলে অবশিষ্ট মাদকদ্রব্য যা পাওয়া গেছে, তা উদ্ধার করা হয়েছে।