Image description

চোখ পরীক্ষা করলেই ধরা পড়ছে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা। দেশের ১৯টি জেলায় ৩১ হাজার ৫৩৫ জন যানবাহনচালকের চোখ পরীক্ষা করে ২৪ হাজার ১০ জনকে চশমা দেওয়া হয়েছে।

মূলত বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের চোখ পরীক্ষা করতে ঢাকাসহ দেশের ১৯টি জেলায় আন্তর্জাতিক দৃষ্টি সেবা সংস্থা ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ বিশেষ হেলথ ক্যাম্পে পরিচালনা শুরু করে গত বছরের অক্টোবরে। চলবে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওই ক্যাম্প থেকে দৃষ্টিশক্তি সমস্যার এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে আসে।

চোখ পরীক্ষা করা প্রায় ৭৬ শতাংশ চালককে চশমা দিতে হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে ১৪ হাজার ৬৪৬ জন (প্রায় ৬০ শতাংশ) প্রথমবারের মতো চশমা ব্যবহার করছেন। এই ৬০ শতাংশ চালক জানতেনই না তাঁদের দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা রয়েছে। চোখ পরীক্ষায় ৪৯ শতাংশের নিকটদৃষ্টি এবং ৫১ শতাংশের দূরদৃষ্টির সমস্যা পাওয়া গেছে।

বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের চোখ পরীক্ষায় বিশেষ হেলথ ক্যাম্প পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের চোখের সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চশমা দেওয়া এবং চোখের অন্যান্য সমস্যার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সড়ক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ভিশন অ্যাকসেস প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক উম্মে সাউদা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন চালকের স্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি তাঁর নিজের, যাত্রীদের এবং সড়কে চলাচলকারী অন্য সবার নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা চাই, পরিবহন খাতের কর্মীদের জন্য নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় দৃষ্টিসেবা সহজলভ্য হোক। এর জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন এবং অন্যান্য অংশীজনের সম্মিলিত সহযোগিতার বিশেষ প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা শুধু সড়ক অবকাঠামো বা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, এর সঙ্গে চালকের শারীরিক সক্ষমতা, সচেতনতা এবং উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির বিষয়ও নিবিড়ভাবে জড়িত।

 
তাই বিভিন্ন পরিবহনের চালকদের নিয়মিত দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ বেশির ভাগ চালক জানেনই না তাঁদের দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা রয়েছে।’ জানা গেছে, বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের চোখ পরীক্ষার উদ্যোগের পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তির সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা কিংবা অন্য চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ। বিশেষ করে পেশাদার চালকদের চোখে সমস্যা থাকলে তা তাঁদের নিজেদের পাশাপাশি যাত্রী ও সড়ক ব্যবহারকারী মানুষের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।  ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী বগুড়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, দিনাজপুর, ঢাকা, গাইবান্ধা, গাজীপুর, খুলনা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নরসিংদী, নীলফামারী, নোয়াখালী, পাবনা, রাজবাড়ী, রংপুর, সিলেট ও রাজশাহীতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এ ছাড়া সৈয়দপুরেও চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩১ হাজার ৫৩৫ জনের চোখ পরীক্ষা করে ২৪ হাজার ১০ জনকে চশমা দেওয়া হয়েছে। চোখ পরীক্ষা করা ব্যক্তিদের মোট সংখ্যার প্রায় ৭৬ শতাংশকে চশমা দিতে হয়েছে।

ভিশনস্প্রিং সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহযোগিতায় দেশে ৫০ হাজার যানবাহনচালকের চোখ পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এই কার্যক্রম শেষ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিনা মূল্যে চশমা বিতরণ এবং ছানি আক্রান্ত চালকদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গাড়িচালকদের চোখের ত্রুটি সারাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ চোখের এমন অবস্থায় চিকিৎসা ছাড়া গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা শুধু চোখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব না। ক্রমান্বয়ে পরিবহন শ্রমিকদের সার্বিক সুরক্ষায় ধাপে ধাপে আরো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘চোখের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চশমার ব্যবস্থা এবং ছানি বা অন্য রোগে আক্রান্ত চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তিজনিত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে আমরা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি।’