Image description

বিশ্বব্যাপী চলমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরেফ হোসাইন খান বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্ট্রিমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে বিশ্বে সরকারি সেবা, ব্যাংকিং, ই-কমার্স, সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার জন্য ইন্টারনেট ও সফটওয়্যার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ওয়েবসাইটের বড় একটি অংশ পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ওপর নির্ভরশীল।

সম্প্রতি পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তাগত দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলাকারীরা আক্রান্ত সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পেতে পারে।

এই ধরনের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির ফলে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ফাঁস, আর্থিক ক্ষতি, সরকারি ডিজিটাল সেবায় বিঘ্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন অবকাঠামোর নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহারকারীরা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত হালনাগাদ করতে অক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি নতুন নয়। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা দেশের আর্থিক খাতে সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

ওই ঘটনায় হ্যাকাররা আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের বার্তা আদান-প্রদান ব্যবস্থা সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনে (সুইফট) বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে ভুয়া নির্দেশ পাঠায়। এর মাধ্যমে ফিলিপাইনের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে ফেলা হয়।

 

সে সময় শ্রীলঙ্কায় পাঠানো আরও ২ কোটি ডলারের লেনদেন আটকে দিয়ে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশের বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তী সময়ে অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ, তদন্ত ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা শুধুই প্রযুক্তিগত বিষয় নয়। দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা, জনসাধারণের আস্থা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও এর সঙ্গেও জড়িত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সাইবার হামলা প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেমের নিরাপত্তা পরীক্ষা, সফটওয়্যার হালনাগাদ করা, সার্ভারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।

তারা আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা মানেই সেটি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে—বিষয়টি এমন নয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে কী ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।