Image description

খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানা এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে খুশি বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়ার ৭ নম্বর গলি এলাকায় রিকশা থেকে নামার পর মায়ের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নিহত খুশি বেগম দুই সন্তানের জননী ছিলেন। পুলিশ বলছে, খুশির স্বামীর সঙ্গে মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধ ছিল দুর্বৃত্তদের। এর জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। খুশির স্বামী সুমন সরদার মাদক ব্যবসায়ী।

খুশির মা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সন্ধ্যায় বাজার করা শেষে রিকশায় করে মেয়েকে নিয়ে বাসার গলির মাথায় নামি। এ সময় খুশি আমার আগে রিকশা থেকে নামে। হঠাৎ মোটরসাইকেল নিয়ে দুই ব্যক্তি কাছাকাছি এসে স্বামীর কথা খুশির কাছে জানতে চায়। তখন খুশি বলেছিল কোথায় গিয়েছে জানি না। এ অবস্থায় অস্ত্র বের করে তাদের একজন আমার সামনে খুশিকে গুলি করে এবং আরেকজন কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়। পরে শুনেছি তারা আশিক গ্রুপের লোকজন। কেন তারা আমার মেয়েকে এভাবে হত্যা করেছে তা জানি না। আমি হত্যায় জড়িতদের বিচার চাই।’

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে জিন্নাহপাড়ার বউবাজার ৭ নম্বর গলির মাথায় মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল দুই যুবক। কিছুক্ষণ পর খুশি ও তার মাকে নিয়ে রিকশা এসে গলির মাথায় থামে। খুশি রিকশা থেকে নামতেই তার কাছে এসে স্বামীর কথা জানতে চায় মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই দুই ব্যক্তি। এ সময় খুশির পেছনে থাকা ব্যক্তি তাকে একটি গুলি করে। এরপর আরও কাছাকাছি এসে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আবারও গুলি করে। দুটি গুলির পর খুশি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ওই অবস্থায় সঙ্গে থাকা অপরজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ওই দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় খুশিকে তার মা উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খুশির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। খুশি ও তার স্বামী সুমন হাওলাদার ওরফে ব্লেড বাবু দুজনেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মাদকের মামলাও রয়েছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

 

খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় কয়েকটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম বারবার আলোচনায় এসেছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে আছে বি-কোম্পানি, পলাশ গ্রুপ, হুমা বাহিনী, আরমান গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ, নাসিম গ্রুপ, আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ ও টেংকি শাওন গ্রুপ। 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে এসব গোষ্ঠী বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছে। এতে নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

তবে পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযান ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। গত ২৩ জুন লবণচরা থানা এলাকা থেকে পারভেজ গাজী (৩২) নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, পারভেজ মহানগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আশিক গ্রুপের শীর্ষ শুটার।