Image description

গাইবান্ধায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফুলছড়ি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম রাশেদুজ্জামান রোকন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ফুলছড়ি উপজেলাসহ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রশ্ন, কিভাবে যুবলীগের একজন সাধারণ সম্পাদক দেখা করলো। এই নিয়ে দল ও সংগঠনের ভেতরে তৈরি হয়েছে নানা অসন্তোষ ও ক্ষোভ।

স্থানীয় সূত্রে জানায়, সংসদ সদস্য মমতাজ আলোকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর সময় উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল। এ ঘটনায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

 

তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশে সংশ্লিষ্ট যুবলীগ নেতাকে সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপির হামলা-মামলায় নিপীড়নের শিকার অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীদের তার সাথে দেখার করার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয় না।

 

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম রাশেদুজ্জামান রোকন অত্যাচার-নির্যাতন নেতাকর্মীরা এলাকায় থাকতে পারেনি।

 

বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে ইচ্ছা করে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। এসব মামলায় অনেকেই জেল খেটেছেন। অথচ তার সঙ্গে এখন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠতার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটে উঠছে।

এদিকে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল যুবলীগ নেতাকে তার কাছে নিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মমতাজ আলো। সাধারণ সম্পাদক টিটুলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে কারণ দর্শানোসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু ও জেলার বিএনপি সভাপতি কাছে লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

আবেদনপত্রে মমতাজ আলো জানান, গত ১৮-১৯ অক্টোবর গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, শাড়ি বিতরণ এবং নদীভাঙন কবলিত এলাকায় চাল বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের উদ্দেশে গাইবান্ধা সফর করি। সফরকালে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন নেতার পরিচয় স্পষ্ট না করে কলেজের অধ্যক্ষ পরিচয়ে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করান এবং সংশ্লিষ্ট কলেজ জাতীয়করণের বিষয়টি উত্থাপন করেন।

এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিজে পাশে দাঁড়িয়ে পুষ্পস্তবক প্রদান ও ছবি তোলেন। জেলা বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতার মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর। এ ঘটনায় জেলা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্তপূর্বক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের নিকট লিখিত কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান, ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান আবেদনপত্রে।

অপর দিকে, জেলা বিএনপির সভাপতির চেম্বারে তার কার্যালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান যুবলীগের এটিএম রাশেদুজ্জামান রোকন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি মইনুল হাসান সাদিক কালবেলাকে বলেন, ওই লোক কঞ্চিপাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল পরিচয়ে আমার চেম্বারের কুশল বিনিময় করতে এসেছিলেন। আমি তাকে চিনতাম না। কলেজের একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে এসেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে কলেজের শিক্ষক, বিএনপি ও যুবদলের নেতারা ছিলেন। কে যুবলীগ, কে আওয়ামী লীগ করে তাদের সবাইকে তো চেনা সম্ভব নয়।