Image description

কার্তিকের শুরুতেই প্রকৃতিতে বাজতে শুরু করেছে শীতের আগমনী সুর। হিমেল হাওয়া আর ভোরের হালকা কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের বার্তা। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা কমে আসায় ভোর ও শেষরাতে শীতের আমেজ বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যার প্রভাবে পাঁচ দিন সারা দেশে বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ বর্তমানে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আগামী শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা পরবর্তীতে আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই লঘুচাপের প্রভাবে বর্ধিত ৫ দিনের শেষভাগে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

আজ বুধবার সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে চট্টগ্রামে সামান্য হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

আগামীকাল ও পরবর্তী ৩ দিন দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ও অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রায় তেমন বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তবে ২৩ অক্টোবরের দিকে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

 

দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ায় উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় গত কয়েক দিন ধরেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে।

 

গতকাল মঙ্গলবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রামের আমবাগানে ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সোমবার তেঁতুলিয়ায় ১৯.২ ডিগ্রি এবং আমবাগানে ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল।

 

আবহাওয়াবিদদের মতে, ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা নামলে সাধারণত হালকা ঠান্ডা অনুভূত হতে শুরু করে। উত্তরাঞ্চলে এভাবে তাপমাত্রা কমতে থাকলে দ্রুতই এর প্রভাব রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে।

 

প্রকৃতিতে শীতের আবহ তৈরি হলেও এবার শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে আবহাওয়াবিদদের মনে কিছুটা সংশয় রয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে 'এল নিনো' পরিস্থিতি জোরালো হচ্ছে।

 

এর প্রভাবে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ ও রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। ফলে বাংলাদেশে এবার শীতের স্থায়িত্ব তুলনামূলক কম হতে পারে কিংবা শীত কিছুটা উষ্ণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক ও আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, হেমন্তের শুরুতে তাপমাত্রা কমলেই তা তীব্র শীতের ইঙ্গিত দেয় না। সার্বিক শীতের রূপ নির্ভর করবে আগামী কয়েক মাসের বাতাসের গতিপ্রকৃতি, ঘন কুয়াশা, শৈত্যপ্রবাহ এবং জলবায়ুর সাময়িক পরিবর্তনের ওপর। সমুদ্রের লঘুচাপ কতটা শক্তিশালী হয় এবং কোথায় আঘাত হানে, তার ওপরও আগামী দিনগুলোর বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ওঠানামা বহুলাংশে নির্ভর করছে।