কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ট্যাবলেটজাতীয় মাদক সেবনের পর অচেতন ও অসংলগ্ন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে অল্পবয়সী কিশোরদের। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তিনটি স্থানের এমন দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, তিন স্থানের এসব ভিডিও গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণ উপজেলার। ভিডিওগুলো নিয়ে অনেকে অজানা রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও স্থানীয়দের দাবি, কিশোরদের এমন অবস্থার পেছনে রয়েছে মাদক সেবন।
এ ঘটনায় কিশোরদের মাদকাসক্তি, সহজলভ্যতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু সভা-সেমিনার ও সচেতনতামূলক স্লোগানে সীমাবদ্ধ না থেকে মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি মাদকে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের জয়মঙ্গলপুর গ্রামে কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ৭ অক্টোবর সদর দক্ষিণ উপজেলার শুয়াগাজী বাজারের কাছে কানন হোটেলের সামনে একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সেখানে এক কিশোরকে ট্যাবলেটজাতীয় মাদক সেবনের পর ঝিমাতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
এর দুই দিন পর, ৯ অক্টোবর একই বাজারের টিআই কলেজের পেছনেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। এসব ঘটনার তিনটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে অল্পবয়সী কয়েকজনকে মাদকের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় অবস ও অসংলগ্ন অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
কাশিনগর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ভিডিওটি আমার ভাতিজা করেছিল। পরে এলাকাবাসী তাকে মারধর করেছে। এখন সে এসব করে না। যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। মাদক বন্ধ করা না গেলে সমাজ আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।
শুয়াগাজী এলাকার বাসিন্দা হাবিবুল বাশার বলেন, আমরা নিয়মিত মাদকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেই হবে না, তা কার্যকর করতে হবে। আমরা মাদকমুক্ত সমাজ চাই। যারা মাদকে জড়িয়ে পড়বে, তাদের মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়ে সুস্থ করার উদ্যোগ নিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে ঘরে ঘরে সচেতনতা তৈরি করে কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে। পাশাপাশি তাদের বেকার থাকতে দেওয়া যাবে না। কর্মসংস্থান ও গঠনমূলক কাজে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
কুমিল্লা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বজলুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, মাদক থেকে মানুষকে দূরে রাখতে আমরা নিয়মিত সভা-সেমিনারসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। যাদের আটক করা হচ্ছে, তাদের সুস্থ করার জন্য মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে, অন্যথায় আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেল অফিসের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস এশিয়া পোস্টকে বলেন, কিশোরদের বাইরে অবস্থান ও মাদক সংশ্লিষ্টতা ঠেকাতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে মুচলেকা নিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। এরপরও সংশোধন না হলে আইন অনুযায়ী কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সবার আগে নিজেদের সচেতন হতে হবে। নিজের সন্তান কী করছে, কোথায় যাচ্ছে এবং কার সঙ্গে মিশছে— এসব বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজ রাখতে হবে। পরিবার থেকে সচেতনতা তৈরি করা গেলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।