Image description

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে রাস্তায় নামা, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং এ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর একদিনের ব্যবধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন নতুন করে আলোচনায় এলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর কর্মকাণ্ডের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তাঁর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে ফেসবুকে একের পর এক স্ট্যাটাস দিচ্ছেন অনেকে। কেউ তাঁর উদ্দেশ্যকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, কেউ বলছেন, ভালো উদ্যোগ হলেও আইন মেনেই তা করা উচিত ছিল। আবার কেউ কেউ মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতার দায় নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন ইশরাক।

ইশরাক হোসেন বলেন, আমি ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখ শপথ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে আসছি।

এদিকে পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিক্রিয়ায় ইশরাকের প্রতি সমর্থন, সহানুভূতি ও সমালোচনা, তিন ধরনের অবস্থানই দেখা যাচ্ছে। তবে অনেকের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি।

ফেসবুকে মোহাম্মদ জুনাইদ লিখেছেন, ‘আগামীর জন্য শুভকামনা ইশরাক ভাই। আপনার অভিযানটা খুব সুন্দর ছিল মাদকের বিরুদ্ধে, আপনার ভুলটা ছিল প্রশাসন ছাড়া নিজে অস্ত্র হাতে নিয়ে অভিযান করা। আপনি অভিযান করার সময় যদি প্রশাসন সাথে নিয়ে অভিযানটা করতেন আজকে আপনার উপর এই বিপদটা আসতো না।’

এমডি মুসা খলিফা লিখেছেন, ‘ভালো কাজের ভাত নাই এ যুগে। এটাই তার জলন্ত প্রমাণ।’ মাহাবুর রহমান মিলন লিখেছেন, ‘নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েও কাজটা কিন্তু সঠিক করেছিল।’

মো. রেজোয়ান সরকার মনে করেন, ইশরাকের উদ্দেশ্য মহৎ হলেও পদ্ধতিতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘উদ্দেশ্য মহৎ ছিলো কিন্তু উপায়টা আইন লঙ্ঘন।’ মোস্তফা মাসুমের বক্তব্যেও উঠে এসেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন। তিনি লিখেছেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার দায় জনাব ইশরাক হোসেনকে নিতে হচ্ছে।’

এদিকে, হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও কেন ইশরাক হোসেনকে নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো। তাঁর মতে, এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন সরাসরি মাঠে নামতে হবে, সেই জবাব সরকারের কাছে চাওয়া জরুরি।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়াই যদি সমস্যার সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে। তাঁর বক্তব্যে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা তদারকিতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি পরিদর্শনের উদাহরণও উঠে এসেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলে মনে করেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহর পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর হলো, ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে সংকট সামাল দেওয়া গেলেও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সমাধান হয় না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিশ্চিত করা, ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।