ঘটনাটি বলেছিলেন প্রয়াত ব্যাংকার খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং অগ্রণী, সোনালী, কৃষি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ঘটনাটি বিগত আওয়ামী লীগের সময়ের। বেসরকারি খাতের এক ব্যাংকে এক পরিবার থেকেই পাঁচজন পরিচালক ছিলেন। যদিও তখন ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী এক পরিবার থেকে দুজনের বেশি পরিচালক থাকার বিধান ছিল না। নিয়ম মেনে বাকি তিনজনকে পদত্যাগ করার জন্য সেই ব্যাংককে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক কিন্তু বেসরকারি খাতের সেই ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠির জবাব দেওয়ারই প্রয়োজন বোধ করেনি বরং এরপরই সরকার আইন পরিবর্তন করে এক পরিবার থেকে চারজন পরিচালক থাকার সুযোগ করে দেয়। তখন আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে পরিচালকেরা ব্যাংকে থাকতে পারবেন একটানা নয় বছর। তখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরিচালকদের মেয়াদ ও সংখ্যা বাড়ানোর বিল সংসদে তোলার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘সংশোধনীটি বেসরকারি ব্যাংকের মালিক ও উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে।’ তবে ভেতরের কথা হচ্ছে, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ।
এই দুই আইনের কারণে ব্যাংকে সে সময় পরিবারতন্ত্র কায়েম হয় এবং কয়েকটি পরিবারের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে ব্যাংক। বলা হয়, ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে ব্যাংকমালিকদের পরিবারতন্ত্র উপহার দিয়েছিল সরকার। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে আবার একটি উপহার পেয়েছিলেন তাঁরা। দেশের ব্যাংক খাত এখন যে দুর্দশায়, তার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল এভাবে পরিবারতন্ত্র কায়েম করা।
সেই আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারও চলে গেছে। ক্ষমতায় বিএনপি সরকার। এখনকার অর্থনীতির মন্দা উত্তরণের জন্য প্রয়োজন বড় ধরনের সংস্কার। এর মধ্যে অগ্রাধিকার হচ্ছে ব্যাংক খাতের সংস্কার।
এত কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, ব্যাংকে সেই পরিবারতন্ত্রের উচ্ছেদ হচ্ছে না। কেবল পরিবারের মুখগুলোর বদল হচ্ছে। যেমন বেসরকারি ব্যাংকে পরিবারতন্ত্রের প্রভাব কমাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেসব সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসছে বর্তমান সরকার। তারা ব্যাংকমালিকদের চাওয়া মেনে একই পরিবারের তিনজনকে ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। প্রস্তাব ছিল দুজন করার। এমনকি ঋণখেলাপি পরিচালকদের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান থাকছে না।
এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবদেনে মন্তব্য করা হয়েছিল, ‘বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে মনে হয়।’
কথাটা তাহলে এখনো প্রযোজ্য।