‘অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ও এসবকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন। এই দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব হয়েছে এবং বাংলাদেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে।’
আজ রবিবার শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দুর্গাপূজার মূল দর্শন ও বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারছেন— এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জোর গলায় বলতে পারি, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নাই।’
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়।’
রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘১৯৭১ সালে এটা ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে এটা ধ্বংস করা হয়। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তাদের হাতেই এই অপকর্ম হয়েছিল।’
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রমনা কালীমন্দির পুনঃস্থাপিত হয় এবং তখন থেকেই এটা আবার পুরনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।
এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সকলকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে সবসময় অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, অপপ্রচার করা হয় । বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যে সকল সমস্যা আছে, সেগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।’
এ সময় মঞ্চে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য।
অনুষ্ঠানে রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।