Image description

বরিশালের মুলাদীতে মাদক ও জুয়ার আসর এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় হামলার শিকার হন শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪২) নামের ওই বিএনপি নেতা। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শুক্কুর আলী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার উপজেলার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদকের আড্ডা, জুয়া খেলা এবং নয়াভাঙনী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার কথাও প্রকাশ্যে জানান তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, এর জের ধরে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা খাওয়ার সময় শুক্কুর আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

ঘড়িকিনুন

 

নিহতের বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারী অভিযোগ করেন, ডুমুরীতলা গ্রামের মোতালেব ওরফে মতু ফরাজীর ছেলে রহমত ফরাজী (৩৮), বারেক ফরাজী (৩৬), মুজাম্মেল ফরাজী (৩২), মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী ও তাসলিমা নাসরিনসহ কয়েকজন মিলে তাঁর ছেলের ওপর হামলা চালান। তারা লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে শুক্কুর আলীকে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযুক্ত বারেক ফরাজী গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।

হামলার পর স্থানীয় লোকজন শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে ভোররাত ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বরিশালে নেওয়ার পথে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়েছে পুলিশ। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।