Image description

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা হাসিমুখে গ্রহণ করেছিলেন প্রধান শিক্ষক নুর আজম (৫৬)। এর কিছুক্ষণ পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ২০১২ সালে তিনি ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগ দেন।

নূর আজম স্থানীয় মীরগড় এলাকার বাসিন্দা। তার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

বিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো আজ সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন প্রধান শিক্ষক নুর আজম। এদিন শিক্ষক দিবস উপলক্ষে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় শিক্ষার্থীরা। তিনি হাসিমুখে সেই ফুল গ্রহণ করেন। পরে অন্য শিক্ষকেরা পাঠদান করাতে শ্রেণিকক্ষে চলে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন প্রধান শিক্ষক।

অসুস্থ অবস্থায় শিক্ষক নুর আজমকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে তুলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান স্কুলের অফিস সহায়ক। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, সকালে স্কুলে আসার পর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে স্যারকে (নূর আজম) ফুল দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। এরপর আমরা যার যার শ্রেণিকক্ষে চলে যাই। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে জানতে পারি স্যার হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি তিনি আর বেঁচে নেই। শিক্ষক দিবসের দিনেই প্রিয় প্রধান শিক্ষককে এভাবে হারাতে হবে, তা ভাবতেও পারিনি।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান বলেন, শিক্ষক নূর আজমকে জরুরি বিভাগে আনার পর তার রক্তচাপ (ব্লাড প্রেশার) পাওয়া যাচ্ছিল না। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে বুকে চাপ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের চেষ্টা চালানো হয়। পরে ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে’ আক্রান্ত হয়েছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক নূর আজম আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার রাত ৯টার দিকে মীরগড় এলাকায় জানাজা শেষে নূর আজমকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।