Image description

একটি বিদেশি কারখানা বাংলাদেশে এলো। জমি নিলো, মেশিন বসালো, কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়োগ দিলো, পণ্য উৎপাদন করলো এবং তা রফতানি করলো। হিসাবের খাতায় সেখানে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রফতানি তিনটিই আছে। কিন্তু একটি কারখানার অর্থনৈতিক প্রভাব কি শুধু তার নিজস্ব উৎপাদনেই শেষ হয়ে যায়?

এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যেসব প্রশ্ন আড়ালে থেকে যায়, তা হলো- কার্টন কে তৈরি করছে? প্যাকেজিং, লেবেল, হ্যাঙ্গার ও প্লাস্টিক সামগ্রী কোথা থেকে আসছে? যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ করছে কারা? পণ্য পরিবহন, গুদামজাতকরণ, নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দিচ্ছে কোন প্রতিষ্ঠান? বিদেশি কারখানার সঙ্গে বাংলাদেশের কতগুলো ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান ব্যবসার সুযোগ পাচ্ছে? অর্থাৎ একটি বিদেশি কারখানা কি শুধু নিজের জন্য উৎপাদন করছে, নাকি তাকে ঘিরে বাংলাদেশের আরও প্রতিষ্ঠান তৈরি হচ্ছে?

তিন পর্বের এই অনুসন্ধানের শেষ পর্বে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে বাংলা ট্রিবিউন। কারণ চীনা পুঁজি বাংলাদেশে কারখানা তৈরি করলেই তার সুফল পূর্ণ হয় না। সেই কারখানাকে ঘিরে স্থানীয় সরবরাহকারী, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা, সেবা প্রতিষ্ঠান ও নতুন রফতানি সক্ষমতা কতটা তৈরি হচ্ছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য বড় হিসাব।

একটি কারখানা কি শত প্রতিষ্ঠানের বাজার তৈরি করতে পারে?

একটি বড় পোশাক, ইলেকট্রনিকস কিংবা অন্য কোনো শিল্পকারখানা একা চলে না। তার প্রয়োজন হয় কার্টন, প্যাকেজিং, লেবেল, হ্যাঙ্গার, প্লাস্টিক সামগ্রী, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন, গুদাম, নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ অসংখ্য পণ্য ও সেবা। এসবের বড় অংশ যদি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করতে পারে, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগের প্রভাব কারখানার চার দেয়ালের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। একটি বিদেশি কারখানা তখন হয়ে উঠতে পারে শত শত বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের নতুন বাজার।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে এর উদাহরণ রয়েছে। একসময় সুতা, কাপড়, ডাইং, প্রিন্টিং কিংবা কার্টন-প্যাকেজিংয়ের মতো অনেক উপকরণ বিদেশ থেকে আনতে হতো। সময়ের সঙ্গে এসবের একটি বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে শুধু পোশাক কারখানা নয়, তাকে ঘিরে একটি বিস্তৃত দেশীয় শিল্পভিত্তি তৈরি হয়েছে। চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এমন শিল্প-সংযোগ তৈরি করতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকে আমরা শুধু নতুন কারখানা স্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। আমাদের প্রয়োজন পশ্চাৎমুখী শিল্প, উচ্চমূল্যের পণ্য এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ। আমাদের অনেক কারখানা আছে, উৎপাদন সক্ষমতা আছে, কিন্তু কোথাও পুঁজির অভাব, কোথাও প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা।’

স্থানীয় প্রতিষ্ঠান কেন সরবরাহকারী হতে পারছে না?

চাইলেই কোনো স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বিদেশি কারখানার সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে না। অনুসন্ধানে সামনে এসেছে কয়েকটি বাধা। আন্তর্জাতিক মান ও সনদ অর্জন, বড় অর্ডার একসঙ্গে সরবরাহের সক্ষমতা, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর মূলধনের সংকট এবং বিদেশি কোম্পানির নিজস্ব পূর্বনির্ধারিত সরবরাহ নেটওয়ার্ক এর মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ স্থানীয় শিল্পকে শুধু উৎপাদন করলেই হবে না। বিদেশি কোম্পানির মান, মূল্য, সময় ও নির্ভরযোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘পণ্যের মান, নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ, আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, সবগুলো শর্ত পূরণ করতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দেশের সামগ্রিক ব্যবসায়িক ব্যয় ও নীতিগত জটিলতা।’

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, ‘চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে, এটি ইতিবাচক। কিন্তু আমরা চাই এই বিনিয়োগের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাও যুক্ত হোক। স্থানীয় শিল্প সরবরাহ শৃঙ্খলে জায়গা না পেলে বিদেশি বিনিয়োগের গুণিতক প্রভাব সীমিত থাকবে।’

প্রকল্পে বাংলাদেশি প্রকৌশলী কোথায়?

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আজিজুল আকিল ডেভিডের মতে, শুধু কারখানা নয়, বিদেশি ঋণে নেওয়া প্রকল্পেও স্থানীয় জনবলকে যুক্ত করার বিষয়টি চুক্তির অংশ হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, বিদেশি ঋণে নেওয়া প্রকল্পে বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও জনবলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঋণ চুক্তিতেই সুনির্দিষ্ট শর্ত থাকা উচিত। প্রকল্পে কতজন বাংলাদেশি প্রকৌশলী, শ্রমিক ও অন্যান্য জনবল কাজ করবেন, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ ঋণ চুক্তিতে এ ধরনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয় না। ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রকৌশলী ও কারিগরি জনবল নিয়ে এসে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে তাদের লোকজনই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যায়।

আজিজুল আকিল ডেভিড বলেন, এমন প্রকল্পও রয়েছে, যেখানে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৌশলীর পাশাপাশি রাজমিস্ত্রিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক নিজেদের দেশ থেকে নিয়ে এসেছে। কোনো কোনো প্রকল্পে ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে বিদেশি জনবল কাজ করছে।

তার মতে, ঋণ চুক্তিতে স্থানীয় জনবল নিয়োগের বাধ্যবাধকতা না থাকায় বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা এসব প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা দরকার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর অনেক দক্ষ প্রকৌশলী বের হচ্ছেন। তাদের একটি বড় অংশ বিদেশে চলে যাওয়ায় দেশের বড় প্রকল্পগুলোতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর ঘাটতি তৈরি হয়। তাই বিদেশি প্রকল্পে স্থানীয় প্রকৌশলীদের কাজের সুযোগের পাশাপাশি দেশে তাদের ধরে রাখার পরিবেশও প্রয়োজন।

ডিজিটাল বাণিজ্যে ছোট উদ্যোক্তার দরজা

চীনা বিনিয়োগের বাইরে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের আরেকটি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে ডিজিটাল বাণিজ্যে। Alibaba.com-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি সরবরাহকারীরা গত বছর প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারের রফতানি ব্যবসা করেছেন। বর্তমানে ৩০০টির বেশি বাংলাদেশি সরবরাহকারী চারটি স্থানীয় অংশীদারের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটিতে কাজ করছে। আগামী তিন বছরে ১ হাজারের বেশি রফতানিকারককে ডিজিটালভাবে সক্রিয় করার লক্ষ্য রয়েছে।

২০২৬ সালের এপ্রিলে বিসিসিসিআই ও Alibaba.com-এর মধ্যে ডিজিটাল বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। তবে অনলাইনে দোকান খোলা আর আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত রফতানি করা এক বিষয় নয়। ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং প্রক্রিয়া, অর্থ পরিশোধ এবং ছোট অর্ডারের অর্থ দ্রুত দেশে আনার বিষয়গুলো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

পিআই সোর্সিং লিমিটেডের উদাহরণটি এখানে সামনে আসে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালে ছোট একটি মার্চেন্ডাইজিং দল নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের বার্ষিক রফতানি ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি, যার বড় অংশ Alibaba.com-এর মাধ্যমে। তবে এই পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দাবি; এর স্বতন্ত্র নিরীক্ষা করা তথ্য এই অনুসন্ধানের হাতে নেই।

বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বড় বড় অঙ্কের আলোচনা থাকলেও বাস্তবায়নের চিত্র আলাদা করে দেখা জরুরি। বেপজার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৮টি কোম্পানির সঙ্গে লিজ চুক্তি হয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১ দশমিক ০২৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসার এবং প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির কথা। কিন্তু ওই সময় পর্যন্ত বাস্তবে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৬১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার। বিনিয়োগের চুক্তি, ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবে মূলধন আসা, কারখানা তৈরি, উৎপাদন শুরু ও কর্মসংস্থান তৈরির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

অনুসন্ধানে বারবার যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, বাংলাদেশে ঘোষিত বিদেশি বিনিয়োগের কতটা বাস্তবে উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতায় রূপ নিচ্ছে, বেপজার এই তথ্য সেই প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে।

ঋণ থেকে বিনিয়োগের সম্পর্ক

বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধরন বদলের চেষ্টাও চলছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বড় হলেও এখন প্রয়োজন শিল্পায়নভিত্তিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি। বাংলাদেশ ‘ঋণের সংস্কৃতি থেকে বিনিয়োগের সংস্কৃতিতে’ যেতে চায়।

চীনের রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে সহায়ক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।

শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতার ক্ষেত্রেও চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চীনের পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বৃত্তি বাড়ানো, যৌথ গবেষণা এবং আধুনিক পরীক্ষাগার সুবিধা তৈরির উদ্যোগ দক্ষ জনবল তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ না থাকলে কারখানা চলবে কীভাবে?

বিনিয়োগের পথে জ্বালানি সংকটও বড় বাধা। স্থানীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীর জন্য জ্বালানি সংকটকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

একটি কারখানা স্থাপনের জন্য বছরের পর বছর পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের পরও পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকলে সেটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারে না। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। আর উৎপাদন ব্যয় বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই বিদেশি বিনিয়োগের জন্য শুধু কর ছাড় বা প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ, দ্রুত বন্দরসেবা, কার্যকর কাস্টমস এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামোও প্রয়োজন।

কারখানার ভেতর থেকে বাইরে

চীনা পুঁজি বাংলাদেশে কারখানা তৈরি করতে পারে। চীনা প্রযুক্তি বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও কর্মীদের নতুন দক্ষতা শেখাতে পারে। কিন্তু এর পরের ধাপটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারখানার সঙ্গে স্থানীয় কতগুলো প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলো? কতজন বাংলাদেশি প্রকৌশলী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিলেন? কতগুলো ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান সরবরাহকারী হলো? নতুন কোন পণ্য তৈরি হলো? আর সেই পণ্য কতটা চীনের বাজারে বা বিশ্বের অন্য বাজারে গেল?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরেই বোঝা যাবে একটি বিদেশি কারখানা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কতটা গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তাই শুধু আমদানি-রফতানির হিসাবেও শেষ হয় না, শুধু বিনিয়োগের অঙ্কেও নয়। কারখানার ভেতরে প্রযুক্তি ও দক্ষতা তৈরি হচ্ছে কি না, বাইরে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি হচ্ছে কি না এবং উৎপাদনের শেষ প্রান্তে নতুন রফতানি বাজার তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও একই হিসাবের অংশ। শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মাপকাঠি হবে কারখানার সংখ্যা নয়, সেই কারখানাগুলো বাংলাদেশে কতটা সক্ষমতা রেখে যাচ্ছে।

যদি বাংলাদেশি প্রকৌশলী উন্নত প্রযুক্তি পরিচালনা করতে পারেন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বিদেশি কারখানার সরবরাহ শৃঙ্খলে জায়গা করে নেয়, নতুন পণ্য তৈরি হয় এবং সেসব পণ্যের রফতানি বাড়ে, তাহলে চীনা বিনিয়োগের প্রভাব কারখানার চার দেয়াল ছাড়িয়ে যাবে। আর যদি বিদেশি প্রতিষ্ঠান চলে যাওয়ার সঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও চলে যায়, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সরবরাহ শৃঙ্খলে ঢুকতে না পারে এবং রফতানি না বাড়ে, তাহলে বিনিয়োগের বড় অঙ্ক থাকলেও তার স্থানীয় মূল্য সংযোজন সীমিত থাকবে।