Image description

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আবারও আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাকে শনিবারের মধ্যে পদ ছাড়তে হবে বলে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে দলটি। তা না হলে আগামী ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন মুম্বাই থেকে নতুন আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। পরে দেশের অন্যান্য শহরেও কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে সিজেপি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শুক্রবার দলটির নেতা অভিজিৎ দিপকে এ ঘোষণা দেন। এর এক দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে সিইসির পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারকে গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক এবং ‘সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী’ বলেও অভিযোগ করা হয়।

সিজেপির এই ঘোষণার মধ্যেই শুক্রবার কলকাতায় একই দাবিতে রাজপথে নামে কংগ্রেস ও বামপন্থী সংগঠনগুলো। ভোটার তালিকার সংক্ষিপ্ত সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পৃথক কর্মসূচি পালন করে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি।

কলেজ স্ট্রিটে কংগ্রেসের সমাবেশে দলের সাবেক রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তাকে সিইসির পদ থেকে সরিয়ে ফৌজদারি আইনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জানান তিনি। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রকৃত ভোটারদের নাম ফের যুক্ত করার দাবি তোলেন।

ধর্মতলায় বিক্ষোভ মিছিল করে বামপন্থী সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। সেখানে সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করে আগের ভোটার তালিকা বহাল রাখার দাবি জানান। তার দাবি, বাদ পড়া প্রকৃত ভোটারদের দ্রুত ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

 

 

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও বিক্ষোভ শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন রাজ্যেও তার পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে কর্মসূচি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা পরিবর্তন করে শাসক বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা এসআইআর বাতিল এবং পুরনো ভোটার তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে অবশ্য বিজেপি কমিশনের পাশে রয়েছে। তবে বিজেপির শরিক লোকজনশক্তি পার্টির নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে মানুষের সংশয় দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে সিইসিকেই প্রকাশ্যে নিজের ও কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

অন্যদিক, অভিজিৎ দিপকে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, ভোটে কারচুপির অভিযোগ তোলার পরও নির্বাচনে অংশ নেওয়া পরস্পরবিরোধী অবস্থান। এমন পরিস্থিতিতে সিজেপি আবারও আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি, এবিপি