Image description

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড দিতে হলে কিছু সময় দিতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড আপনার পেছনে পেছনে যাবে। ফ্যামিলি কার্ডই আপনার পেছনে দৌড়াবে, আপনার বাড়িতে পৌঁছে যাবে। কেবল তথ্য সংগ্রহকারী নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন পরই আপনার বাড়িতে যাবে তথ্য সংগ্রহ করছে। এটা করতে আরও ১ থেকে ২ মাস লাগবে, তারপরে ফ্যামিলি কার্ড আর খুঁজতে হবে না। ফ্যামিলি কার্ড আপনার বাড়ির মধ্যে এমনি এমনি পৌঁছে যাবে।’

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার শালখুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘ওখানে মামুন বা আজাদ এমন কারও প্রয়োজন পড়বে না, ওদের কোনও দরকার হবে না। এমনি এমনি ফ্যামিলি কার্ড আপনার কাছে চলে যাবে, বুঝতে পেরেছেন। কৃষক কার্ডও একই, এখন যেমন সারের জন্য খুব কষ্ট পান, দৌড়ান। যখন কৃষক কার্ড পাবেন, তখন আপনার কতটুকু সার লাগবে, কতটুকু কীটনাশক লাগবে, আপনার কতটুকু বীজ লাগবে, আপনার কত টাকা ব্যাংক লোন লাগবে সবকিছু আপনার পেছনে পেছনে দৌড়াতে থাকবে। সেগুলোর জন্য আপনার দৌড়াদৌড়ি করার দরকার নাই। তখন ডিলার সাহেবরাই বলবে, আপনার সারটা দয়া করে নিয়ে আমাকে বাঁচান। কারণ ওই সারটা তার ঘরে থাকলে ওর টাকা লোকসান হবে। আর এটা চুরি করে বিক্রি করাও যাবে না, তাতেও সমস্যা আছে।’

তিনি বলেন, ‘আর যারা মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির বা গির্জাতে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদেরকে সহযোগিতা করা কেবল শুরু হয়েছে। একটু সময় দেন, দেখবেন ইনশা আল্লাহ সব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও মন্দিরের পুরোহিতরা, গির্জার যাজকরা তাদের যে সম্মান, আপনারা সবাই সেই সম্মান পাবেন। এটা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি কোনও দল দেখা হবে না। আপনারা দেশের নাগরিক, আপনাদের অধিকার, এটা আপনারা সবাই পাবেন। ফ্যামিলি কার্ডও সব মায়েরাই পাবেন। এখানে দেখা হবে না কোন মা তালিম নিয়েছেন, আর কোন মা তালিম নেন নাই- আমরা ওটা দেখবো না। আমরা দেখবো আপনি বাংলাদেশের মানুষ। এটাই আপনার বড় পরিচয়, সেই পরিচয়ে পরিচিত হয়েই আপনি পাবেন। কোনও অবস্থাতেই এখানে কে কী স্লোগান দেন, কে কোথায় ভোট দিয়েছেন আমরা এটা দেখবো না।’

এ জেড এম জাহিদ বলেন, ‘এখনও তো স্বৈরাচারের অনেক লোকই গ্রামেগঞ্জে শহরে আছে, তারা কেউ তো আর চলে যায় নাই। চলে গেছে তাদের নেত্রী বা তাদের দলের কিছু নেতা। সবাই আছে, আমরা চাই ওনারা সবাই থাকুক, আমাদের সহাবস্থানে আমরা বিশ্বাস করি। যারা এই দেশে ১৭ বছর দেশ শাসন করলেন, ওনারা পালিয়ে গেলেন কেন, পালানোর তো দরকার নাই। অন্যায় করেছেন কোর্টে যান, কোর্ট যদি আপনাকে সাজা দেয় তাহলে সাজা হবে। আর তা না হলে মুক্তি পেয়ে যাবেন, ঝামেলা শেষ। কিন্তু পালানোর দরকার কী? অর্থাৎ আপনি এতটাই অন্যায় করেছেন, আপনার মানুষের সামনে দাঁড়ানোর মুখ নাই। আইনের সামনে, আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আত্মসমর্পণ করা বা আত্মপক্ষ সমর্থন করার আপনার সৎ সাহস নাই।’

 

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনারা যে যে অবস্থানে আছেন থাকেন, কোনও সমস্যা নাই। কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবেন, আর বাংলাদেশের মানুষ বসে থাকবে এটি ভাবার কোনও কারণ নাই। বিশৃঙ্খলা যে বা যারাই সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে, আমরা যারা বাংলাদেশি, আমরা যারা এই দেশের নাগরিক, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তাদেরকে প্রতিরোধ করবো।’

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে করে তিনি বলেন, ‘যেহেতু দেশের মানুষ বিএনপিকে বিশ্বাস করে দায়িত্ব দিয়েছে, দায়িত্ব হচ্ছে দেশের মানুষের কষ্ট ,দুঃখ যেটা আছে, সেটা লাঘব করার জন্য মানুষের পাশে থাকা ও সহযোগিতা করা। আমি আপনাদের কাছ থেকে একটু সময় চাই, আমাদের কয়েক মাস সময় হয়েছে, আর কিছু সময় দেন। তারপরে আমরা আপনাদের পরীক্ষায় পাস করি, ফেল করি সেটা যেমন গত ১২ তারিখে আপনারা পরীক্ষা নিয়েছেন, আপনারা পাস নম্বর দিয়েছেন। আবারও যখন সময় আসবে, তখন আপনাদের কাছে আমরা পরীক্ষার জন্য আসবো। অবশ্যই আপনারা আপনাদের সিদ্ধান্ত মাফিক পাস ফেল যেটাই দেন, আমরা সেটা মাথা পেতে নেবো, আমাদের কোনও সমস্যা নাই। কাজেই আমরা আপনাদের কাছে যা যা কাজে ওয়াদাবদ্ধ, প্রত্যেকটা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। তবে মনে রাখতে হবে কোনো কাজ হয়তো এক বছরেই সম্ভব হবে না, হয়তো একটু সময় লাগবে, সেই সময়টুকু আমাদেরকে দেবেন।’

এ সময় সেখানে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।