সাবেক স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে হওয়ায় তার ওপর প্রতিশোধ নিতে নিজ সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে বাবাকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যবাগ্যা গ্রামে।
গ্রেফতার খলিলুর রহমান (৪০) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর জাঙ্গালিয়া গ্রামের মোফাজ্জল হকের ছেলে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে খলিলুর রহমান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হামিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে নিজ সন্তানকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
এর আগে, গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একই এলাকার একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে তার ছেলে মাদ্রাসা পড়ুয়া নাঈমের (১৪) লাশ উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার সকালে যৌথ অভিযান চালিয়ে খলিলুর রহমানকে লক্ষ্মীপুরের হাজীরহাট পালকি বাজার থেকে গ্রেফতার করে এসআরবি ও পুলিশ। সকালে এ ঘটনায় নিহতের মা ফাতেমা আক্তার সুমি বাদী হয়ে নিহতের বাবাকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে নিহত নাঈমের মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। এরপর নাঈম নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করতো। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতের খাবার খেয়ে নানার বসতঘরেই ঘুমিয়ে ছিল নাঈম। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানক্ষেতের পাশে পাওয়া যায় তার লাশ। গত মাসে নাঈমের মা সুমি আক্তার দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল সাবেক স্ত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। সুমি দ্বিতীয় বিয়ে করায় খলিল তার ছেলেকে শ্বশুরের ঘর থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
চরজব্বর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, নিজ ছেলেকে হত্যা শেষে কৌশলে খলিলুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান। পরদিন আবার সন্তানের জানাজায়ও অংশ নেন তিনি। তার আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ ও এসআরবি এ ঘটনায় যৌথ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সকালে তাকে গ্রেফতার করে। বিকালে তাকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হলে সেখানে বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।