Image description
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে নাহিদ ইসলাম (২৬) নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। পূর্ববিরোধের জেরে তাকে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নাহিদ। এ ঘটনায় স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
 
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের আগে উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের আঙিনায় এ ঘটনা ঘটে।
 
আহত নাহিদ ইসলামকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
 
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে ইউপি সদস্য জুবায়ের আহমেদ ও তার লোকজন তার ওপর হামলা করেন। তার ভাষ্য, হামলাকারীরা ছুরি ও রামদা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এ ঘটনায় তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাহিদ ইসলাম ও পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুবায়ের আহমেদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। কয়েক মাস আগে নাহিদ ও তার স্বজনদের হামলায় জুবায়ের আহমেদ, তার ছোট ভাইসহ তিনজন আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় জুবায়ের আহমেদের করা মামলায় নাহিদ প্রায় দুই মাস কারাগারে ছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি এলাকায় ফেরেন।
 
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমেদ বলেন, তিনি বর্তমানে সিলেটে রয়েছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে শুনেছেন। নাহিদ জুমার নামাজ পড়তে বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে গেলে সেখানে তার ওপর হামলা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
 
তবে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য জুবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন না। এলজিইডির একজন প্রকৌশলীর সঙ্গে নদীতে একটি সেতু পরিদর্শনে ছিলেন। কয়েক মাস আগে নাহিদের হামলায় তিনি ও আরও দুজন আহত হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
 
জুবায়ের আহমেদ বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। নাহিদ আমাকে, আমার ভাইসহ তিনজনকে কয়েক মাস আগে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছিল। এখনো সেই আঘাতের ক্ষত পুরোপুরি শুকায়নি। পরে তার ওপর হামলার খবর পেয়েছি।’
 
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্ল্যাহ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতের পরিবারের কাছ থেকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানা হয়েছে। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।