Image description
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ২৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ একই পরিবারের চার সদস্যের সন্ধান মেলেনি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল তাদের উদ্ধারে অভিযান চালালেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
 
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হোমনা থেকে সোনারগাঁয়ে আসার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় রায়েশা বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিহত হন। তার লাশ উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
 
নিখোঁজরা হলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রামের হেলালউদ্দিন (৫৪), তার ছেলে সজিব হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) ও ছেলে সামিন হোসেন (৫)।
 
এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, হোমনার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেরপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩ জন আত্মীয়স্বজন একটি ট্রলারে করে রওনা হন। তাদের সঙ্গে বিয়ের বাজার, দুটি গরু ও একটি খাসিও ছিল।
 
ট্রলারটি মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ সময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার এগিয়ে এসে আটজনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগমসহ পাঁচজন নিখোঁজ হন।
 
দুর্ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর রায়েশা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ির পুলিশ তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। নিহত রায়েশা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী।
 
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পরে অন্ধকারের কারণে অভিযান স্থগিত রাখা হয়। শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল আবারও অভিযান শুরু করে। তাদের সঙ্গে কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া গেলেও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান মেলেনি।
 
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘অন্ধকারের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছিল। শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্ট গার্ডও নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে। এখনো তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।’
 
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, ‘নিখোঁজদের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা আবারও অভিযান চালাচ্ছেন।’
 
এদিকে ট্রলার ডুবির ঘটনায় বিয়ের অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে। নিখোঁজদের স্বজনরা মেঘনা নদীর তীরে অপেক্ষা করছেন। উদ্ধার অভিযান দেখতে দিনভর নদীর পাড়ে ভিড় করছেন স্থানীয় লোকজন।