Image description
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রায় হাজারো শিক্ষার্থী। মেধার ভিত্তিতে চাকরি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেও পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রার্থীদের নিজ নিজ জেলা শিক্ষা অফিস থেকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হচ্ছে।
 
তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রদান করা হচ্ছে না। নিয়োগ বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, চাকরিতে সব ধরণের যোগ্যতা অর্জন করার পরও রাজনৈতিকভাবে সরকারি দলের বিপরীত মতাদর্শের হওয়ায় তাদের নিয়োগ বঞ্চিত করা হয়েছে।
 
এ ঘটনার নিয়োগ বঞ্চিত ভুক্তভোগী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র আমজাদ হোসাইন ফাহিম ফেসবুক দীর্ঘ এক পোস্টে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।“জামায়াত-শিবির সমর্থন করি, বিভিন্ন সময়ে তাদের নিয়ে পোস্ট দিছি, কোন পদ নাই- সংশ্লিষ্টতাও নেই, এটাই কি অপরাধ”— বলে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে আমজাদ হোসাইন ফাহিম জানান, প্রাথমিকের চাকরিতে যোগদানের আশায় তিনি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে অপেক্ষা করছিলেন। ১ অক্টোবর যোগদানের কথা থাকায় পরিবার ও পরিচিতজনদেরও বিষয়টি জানিয়েছিলেন। এমনকি গ্রামে ফিরে গিয়ে শিক্ষকতা করবেন—এমন পরিকল্পনাও করেছিলেন। এজন্য টিউশনি কমিয়ে আনা, বইপত্র গুছিয়ে রাখা এবং ছোট ভাইকে নিজের সাইকেল দিয়ে দেওয়ার মতো প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
 
আমজাদের ভাষ্য, প্রাথমিকের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে তার জীবনের প্রায় আট-নয় মাস কেটে গেছে। এ সময়ে ঢাকার উত্তরায় একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করেছেন এবং গত দুই-তিন মাস প্রতিদিন উত্তরা থেকে পুরান ঢাকায় যাতায়াত করে টিউশনি করিয়েছেন। নিয়োগের আশায় অন্য চাকরির সুযোগও ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। 
 
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকের শিক্ষক পদে এবারই প্রথম চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর আগে তিনবার ভাইভা দিয়েছিলেন। অন্য কয়েকটি চাকরিতেও সুযোগ পেয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি ১২তম গ্রেডের পদে যোগ দিয়েও পরে ছেড়ে দেন এবং অন্য একটি চাকরিতে যোগ দেননি—প্রাথমিকের চাকরিতে যোগ দিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানান তিনি।
 
পোস্টে আমজাদ আরও লিখেছেন, প্রাথমিকের চাকরিতে তার নির্বাচিত হওয়ার খবরে পরিবারের সদস্যরা আনন্দিত হয়েছিলেন। বিদেশে থাকা ভাইও তাকে চাকরিটি করার জন্য উৎসাহ দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র না পাওয়ায় পরিবারে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
 
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে আমজাদ বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবিও নেই। তবে তিনি জামায়াত-শিবিরকে সমর্থন করেন এবং বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। তার দাবি, এ কারণেই যদি তার এনএসআই (গেয়েন্দা সংস্থা) প্রতিবেদনে নেতিবাচক তথ্য আসে, তাহলে বিষয়টি তার কাছে বোধগম্য নয়।
 
“জাস্ট জামায়াত-শিবির সমর্থন করি, বিভিন্ন সময়ে তাদের নিয়ে পোস্ট দিছি, কোনো পদ-পদবি নাই, তাদের সাথে সংশ্লিষ্টতাও নেই—এটাই যদি হয় অপরাধ আর তার কারণেই কি এনএসআই রিপোর্ট নেগেটিভ কিভাবে আসে বুঝিনা”—ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন তিনি।
 
আমজাদ আরও অভিযোগ করেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে নিয়োগপত্র থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি তাকে ও তার পরিবারকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। একই সঙ্গে তাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কারণ জানার দাবি জানান তিনি।
 
তিনি বলেন, “এই যে, আমাদের জীবন থেকে ৮/৯টা মাস নিয়ে নিলো, কী যে ট্রমা দিছে এই প্রাইমারি! এরপর শেষমেশ যোগদানপত্র থেকে বাদ দিলো। ঠিক কী কারণে বাদ দিলো?”
 
এদিকে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর নিয়োগপত্র ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, পুলিশ ভেরিফিকেশনে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য থাকলে তার নিয়োগ আদেশ জারি করা হবেনা।