Image description

বিশ্বজয়ী হাফেজে কোরআনদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে ইউভাল নোয়াহ হারারির লেখা ‘নেক্সাস’ বই উপহার হিসেবে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংবিধান প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।

 

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এসব প্রতিক্রিয়া জানান।

History

 

 

বিবৃতিতে হেফাজতের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, ৯৫ শতাংশ মুসলমানের দেশে বিশ্বজয়ী কোরআনের হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এমন একটি পবিত্র ও গৌরবোজ্জ্বল অনুষ্ঠানে ইসলামি আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তারা যে বইটি মনে করেন, সেটি উপহার হিসেবে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।

 

তারা বলেন, হাফেজে কোরআনদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বিতর্কিত লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির ‘নেক্সাস’ বই উপহার দেওয়ার বিষয়টি মুসলমানদের ঈমানি অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

 

হেফাজতের নেতৃদ্বয় আরও বলেন, পবিত্র কোরআনে সমকামিতাকে গুরুতর অপরাধ ও সীমালঙ্ঘন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের দাবি, হারারির চিন্তাধারা ও তার বইয়ের বিষয়বস্তু ইসলামি আকাইদ ও আখলাকের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

 

তাদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর অগোচরে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলা অথবা কোনো ষড়যন্ত্রের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা অবিলম্বে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

 

বিবৃতিতে তারা দাবি করেন, হাফেজদের কাছ থেকে ওই বই অবিলম্বে প্রত্যাহার করে তার পরিবর্তে উপযুক্ত ইসলামি ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থ প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি ও ইসলামি অনুষ্ঠানে বই বা উপহার নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি দায়িত্বশীল স্ক্রিনিং কমিটি গঠন করারও দাবি জানান তারা।

 

এদিকে সংবিধান প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেছে হেফাজতে ইসলাম।

 

বিবৃতিতে হেফাজতের নেতারা আইনমন্ত্রীর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন, ‘কোরআনের আলোকে সংবিধান রচনা করা যেতে পারে, কিন্তু কোরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না।’

 

এই বক্তব্যকে মুসলমানদের ঈমান-আকিদার ওপর মারাত্মক আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, পবিত্র কোরআন কোনো মানুষের রচিত সাময়িক আইনপত্র নয়; এটি আল্লাহর নাজিলকৃত কিতাব। তাদের মতে, মানুষের তৈরি সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধনযোগ্য হলেও কোরআন অপরিবর্তনীয় ও চিরন্তন সত্য।

 

হেফাজতের নেতৃদ্বয় বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তির অবস্থান থেকে পবিত্র কোরআনের মর্যাদা ও বিধান নিয়ে এমন বক্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

 

তারা আইনমন্ত্রীকে এ বিষয়ে জাতির সামনে তার অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বক্তব্য প্রত্যাহার ও তওবা করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

বিবৃতির শেষাংশে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, ঈমান, ইসলামি ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানে—এমন যেকোনো আচরণের বিরুদ্ধে দেশের তাওহিদী জনতা সবসময় সোচ্চার থাকবে।