চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্টার লাইন পরিবহনের বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত স্কুলছাত্রী ঈশা দাশ (১২) মারা গেছে। দুর্ঘটনার পর প্রায় চার ঘণ্টা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর রয়েল হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেডে তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহত ঈশার জেঠা ও ঠাকুরদিঘী পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ বলেন, দুর্ঘটনার পর ঈশাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান হাসপাতাল লিমিটেডে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় পরে তাকে রয়েল হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেডের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ঈশা দাশ ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। সে ছদাহা ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকার সুনীল দাশের মেয়ে।
জানা যায়, রবিবার দুপুরে টিফিনের ছুটি হলে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে মহাসড়ক পার হচ্ছিল ঈশা। এ সময় চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রায় চার ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
ঈশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে দেন তারা।
এ সময় বিক্ষুব্ধরা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে বাসের ভেতরের কয়েকটি সিট খুলে মহাসড়কের ওপর এনে আগুন ধরিয়ে দেন।
বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে ফুটওভার ব্রিজ ও গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানান। তাদের অবরোধের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকেরা।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত ৯টা) চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গতিরোধক স্থাপনের কাজ শুরু করেছে।