Image description

রাস্তার একপাশে দুমড়ে মুছড়ে যাওয়া মাইক্রোবাস থেকে আরোহীদের বের করছিলেন স্থানীয়রা। হতাহতদের বের করে সড়কের পাশে রাখা হচ্ছিল। এমন সময় একটি নিথর দেহের পকেটে থাকা ফোন বেজে ওঠে। ফোনের মালিক সাড়া দেওয়ার উর্ধ্বে। উদ্ধারকারীদের একজন ফোনটি ধরলেন। ওপাশ থেকে একজন ফোনের মালিককে খুঁজছিলেন। যিনি ফোন ধরলেন তিনি দুর্ঘটনার খবরটি দিয়ে তাড়াতাড়ি ঘটনাস্থলে আসতে বললেন।

শনিবার রাত দুইটার দিকে কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্যার টেক এলাকায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে নিহত মাইক্রোবাসটির চালক মোহাম্মদ মুন্নার মুঠোফোনে এই কলটি এসেছিল।

আগ্রাবাদে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে কক্সবাজারের ঈদগাঁ ফিরছিলেন কনেপক্ষ। মুন্না ছাড়াও নিহত হন আরও তিনজন। তারা হলেন নববধূ ফাহিমের ভাই মো. মোরশেদ ও বোন মিফত আকতার এবং তাদের মামা ফেরদৌস আলম।

এ ঘটনায় কনের বাবা মনজুর আলম ও তার মা নিলুফা আকতার গুরুতর আহত হন। বিয়ের আনন্দঘন আবেশ নিয়ে হাসি ঠাট্টা করতে করতে সবাই ফিরছিলেন বাড়িতে। ভোরে খুশিমনে ঈদগাঁ পৌঁছানোর কথা ছিল তাদের। কিন্তু আজ রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) লাশঘর থেকে চারজনের মরদেহ পাঠানো হয়েছে বাড়িতে। চারজনের বাড়িই ঈদগাঁ এলাকায়।

 

তার আগে রবিবার দুর্ঘটনার পর পর হাসপাতালে ভিড় করেন স্বজনেরা। আহাজারি করছিলেন কেউ কেউ। নিহত ফেরদৌস আলমের ভাই আজিজুল হক স্তম্ভিত পুরো ঘটনায়। এক দুর্ঘটনায় ভাই, ভাগনে ও ভাগনিকে হারিয়েছেন তিনি।

 

আজিজুল বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে আমরা চারটি গাড়িতে একসঙ্গে রওনা হই। তেল নিচ্ছিল ভাইদের বহনকারী গাড়িটি। আমরা একটু বেশি এগিয়ে যাই। পরে একটি ফোনে দুর্ঘটনার খবর পাই। গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে এসে দেখি ভয়াবহ অবস্থা। গাড়ির ভেতরে রক্তে ভেসে যাচ্ছে।’

এ দুর্ঘটনায় তার দুলাভাই ও বোনসহ সাতজন আহত হন। চমেক হাসপাতালে সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মনজুর আলমও গুরুতর অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। নিলুফা তুলনামূলক কম ছোট পেয়েছেন। মনজুর আলমকে বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান চমেক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার।

মেয়ের বিয়ে নিয়ে যে মানুষটা হাসিখুশি মাতোয়ারা ছিলেন ঘণ্টাখানেক আগে তিনিই আজ অচেতন। কীভাবে কী হয়ে গেল, স্বজনদের চোখেমুখে অবিশ্বাস। এমন শোকগাথা দিন তারা কোনোভাবে মানতে পারছেন না।

মনজুর আলমকে দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে ফাহিমের বিয়ে উপলক্ষে চট্টগ্রাম আসছিলেন তারা। মেয়ের বিয়ে। তাই খুশির সীমা ছিল না মনজুর আলমের পরিবারের। ধুমধাম করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় রাতে। তোলা হয় অনেক ছবি। একটি ছবিতে চোখ আটকে যাচ্ছে সবার। নতুন বর কনের সঙ্গে পারিবারিক ছবি তাদের। সেই ছবিতে থাকা মনজুরের ছোট ছেলে মোরশেদ আলম এখন সত্যিকার অর্থে ছবি হয়ে গেছে। হারিয়েছে অপর মেয়েকেও।