Image description

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে আজ রবিবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গ্রেপ্তার এই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পুনরুজ্জীবিত হলো জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা আগামীর সময়কে বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর জানিয়েছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গুলি করেছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (সাবেক) মতিউর রহমান। জিয়াউর রহমানকে হত্যার আগে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার আবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই মোজাফফর হোসেনকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদে কী পাওয়া গেছে, জানতে চাইলে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যার শিকার হন। ওই বছরের ২৮ মে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ। এটিও জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর স্বীকার করেছেন।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিষয়েও মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর তানভীর হাসান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার আছেন। গত ২৩ জুলাই তাকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ‘এক-এগারোর বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিষয় তদন্ত করতে গিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে তার যোগসূত্রতা খুঁজে পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা যায়, গত জুলাই আন্দোলনে যখন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছিল, সেই সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং মোজাফফরের মধ্যে অনেকবার কথোপকথন হয়েছে।’

তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বহুবার আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে যাতায়াত করেছেন। বাংলাদেশে এসে আত্মগোপনে থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ সরকারের অনেকের সঙ্গে থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গেও তিনি জড়িত। পরে জানতে পারলাম, মোজাফফর হোসেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’