Image description

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে তালিকাভুক্ত এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) বিস্তারিত তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। শেয়ারবাজারের সার্বিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে জারি করা হয়েছে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ।

তথ্য বলছে, কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা ছাড়াই এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। তিন মাসে ফান্ডটির ইউনিটের দাম বেড়েছে ১৫৫ শতাংশ।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম বাড়া এবং লেনদেনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেছে কমিশন। বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মনে হয়নি। তাই এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ডিএসইকে ফান্ডটির ইউনিটের দাম ও লেনদেন বাড়ার কারণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্যমতে, গত ১৭ জুন ফান্ডটির ইউনিটের দাম ছিল ৩ দশমিক ৮০ টাকা, যা ১০ সেপ্টেম্বর বেড়ে ৯ দশমিক ৭০ টাকায় দাঁড়ায়। তিন মাসের ব্যবধানে ইউনিটপ্রতি দর ৫ দশমিক ৯০ টাকা বা ১৫৫ শতাংশ বাড়ার পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে কি না— তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এর আগে মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে কোনো ব্যাখ্যা চাওয়া হয়নি।

বিএসইসির নির্দেশনায় তদন্তের বেশ কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বিত কারসাজিমূলক লেনদেন হয়েছে কি না, অপ্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না এবং স্টকব্রোকার, ডিলার ও প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস যথাযথভাবে মেনেছেন কি না। পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে তারা কমিশনের মার্জিন-সংক্রান্ত বিধি ও প্রজ্ঞাপন যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না, তাও তদন্তের আওতায় থাকবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। বিশেষ করে অগ্রণী সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেডের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হবে।

বিএসইসির মতে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। তাই শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থা ধরে রাখতে বিএসইসি নির্দেশিত এই তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১১ সালে। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই ফান্ডটির পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। কোম্পানির মোট ইউনিট সংখ্যা ১০ কোটি।