জাতীয় সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন পাসের মাধ্যমে শরিয়াকে অবজ্ঞা করা হয়েছে বলে মনে করছে হেফাজতে ইসলাম। অবিলম্বে আইন সংশোধনের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে যাবে ইসলামি ফিকাহ বিশেষজ্ঞসহ সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল।
আজ রবিবার ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভায় সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত মুসলিমদের হেবা (দান) আইন নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। ইসলামি শরিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত না নিয়ে তড়িঘড়ি করে জাতীয় সংসদে এ আইন পাসের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
আইনটি কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে হেফাজত নেতারা সভায় বলেন, ‘মুসলিম প্রধান এদেশে ইসলামি শরীয়াহ বিরোধী কোনো আইন গ্রহণযোগ্য হবে না। বিলটি সংশোধন করতে হবে। সরকারের উচিত ছিল বিলটি সংসদে উত্থাপন করার আগে ইসলামী শরিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা। আমরা মনে করি আল্লাহর কিতাব কোরআনের নিজস্ব আইনি কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মতো করে আইন বানানো শরিয়াহকে অবজ্ঞা করার শামিল।’
‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে আমরা অস্বীকার করি না। কিন্তু মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আলেম-ওলামা, ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের যথাযথ পরামর্শ গ্রহণ করা অপরিহার্য।’
হেফাজত নেতারা আরও বললেন, ‘নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমাদের পয়গাম হলো আলেম-ওলামাকে উপেক্ষা না করে তাদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনুন। কোনো বিষয়ে আপত্তি জানানো ব্যক্তিরা আইন পড়েছেন কী-না এমন প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে তাদের আপত্তির শরিয়াগত ও আইনগত ভিত্তি যাচাই করা দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় আচরণ। আমরা মনে করি, মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও শরিয়তসম্মত সম্পত্তি বন্টন ব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’
‘আমরা শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে এই পাস হওয়া বিলের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, কোনো ধরনের অহেতুক বিরোধে না গিয়ে আলেম-ওলামা ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধান করুন। হেবা প্রথা ও মুসলিম উত্তরাধিকারীদের অধিকার সুরক্ষায় বিতর্কিত বিধান অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চক্রান্ত থেকে রক্ষা করুন।’
হেফাজত আমিরের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, সাজিদুর রহমান, সালাহউদ্দিন নানুপুরী, জসিম উদ্দিন, আরশাদ রহমানী, আব্দুল আউয়াল, মাহফুজুল হক, বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মহিউদ্দিন রাব্বানী, জুনায়েদ আল হাবিব, আজিজুল হক ইসলামাবাদী।