Image description

ধর্ম মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা মত প্রতিষ্ঠার জন্য নয়। বরং সব ধর্ম, মত ও পথের মানুষের নিজ নিজ অবস্থান এবং স্পেস নিশ্চিত করাই এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঢাকা পোস্টের চিফ অব পলিটিক্যাল অ্যান্ড স্টেট অ্যাফেয়ার্স আদিত্য রিমনের  সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এমনটাই জানাচ্ছিলেন।

সাক্ষাৎকারে নিজের নিয়োগ নিয়ে আপত্তি, হেফাজতের বিরোধিতা, ধর্মীয় মতাদর্শ, নিজ অঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান, মব কালচার, হজ ব্যবস্থাপনা, বায়তুল মোকাররমের খতিব নিয়োগ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনে সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

ঢাকা পোস্ট: আপনার নিয়োগ নিয়ে কিছু মহলে আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

শামীম কায়সার লিংকন: আমার নিয়োগ নিয়ে কিছু গুঞ্জন বা কথাবার্তা এসেছে। আমি এটাও স্পষ্ট করেছি যে কোনো নিয়োগই যে সবার পছন্দ হবে, বিষয়টি এমন নয়। আবার ধর্মবিষয়ক কোনো প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে যদি কারও মধ্যে অস্পষ্টতা বা ভুল ধারণা থাকে, সেখান থেকেও কিছুটা অপছন্দের কারণ হতে পারে। আমরা যত কাছাকাছি কাজ করব, বিষয়গুলো ততই পরিষ্কার হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ, দূরত্ব কমে আসবে। আমরাও মানুষ, আমাদেরও ভুলত্রুটি থাকতে পারে। সেগুলো আমরা শুধরে নিতে পারব। আমি এই চাপকে ইতিবাচকভাবে দেখি। চাপ থাকলে ভুল করার সুযোগ কমে যায়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গঠনমূলক বিরোধিতা প্রয়োজন। এ কারণে বিরোধী দল গঠনমূলকভাবে বিরোধিতা করবে। সেই চাপ মাথায় রেখে মানুষ সবদিক চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতের প্রতিফলন ঘটে। 

ঢাকা পোস্ট: হেফাজতে ইসলাম আপনার নিয়োগে আপত্তি জানিয়েছে। এর কারণ কী বলে মনে করেন?

শামীম কায়সার লিংকন: এটা ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন। আমার নানার পরিবার হানাফি মাজহাবের অনুসারী, আর দাদার পরিবার বাংলাদেশ জমিয়তে আহলে হাদিস নামে একটি দাওয়াতি সংগঠনের অনুসারী। আমরা ছোটবেলা থেকেই মামাকে নামাজে আস্তে ‘আমিন’ বলতে দেখেছি, চাচাকে দেখেছি জোরে ‘আমিন’ বলতে। ছোটবেলা থেকেই দুই ধরনের মাজহাবের চর্চা দেখেছি। মায়ের মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে ওমরাহ পালনের পর ইসলাম সম্পর্কে জানার এবং পড়াশোনার আগ্রহ বাড়ে। আরবি, তাজবিদ ও বিভিন্ন ইসলামী বিষয়ে পড়াশোনা করেছি। পড়াশোনা করতে গিয়ে বুঝেছি, ইসলামী জ্ঞানচর্চার ব্যাপ্তি অনেক বিস্তৃত। কেউ যদি শুধু ইউটিউবে দুটি বক্তৃতা শুনে ঠিক করে নেন- ‘আমি জান্নাতি, বাকি সবাই জাহান্নামি; আমরা সঠিক, অন্য সবাই ভুল’—আসলে পড়াশোনা না করলে জ্ঞানের প্রশস্ততা বাড়ে না। ২০১৯ সাল থেকে মসজিদে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতিও পেয়েছি।…খতিব হিসেবে মসজিদে যাওয়া শুরু করি। বিভিন্ন ঘরানার মানুষের সঙ্গে মিশেছি, বিভিন্ন মসজিদে গিয়েছি, খুতবা দিয়েছি। এ কারণে হয়তো কারও মনে ধারণা হতে পারে, এ আবার কোনো কট্টরপন্থি ‘লা-মাজহাবি’ কি না? বিষয়টি আসলে একটি অপবাদ।

আমি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের অনেক শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি সংশ্লিষ্টদের বলেছি, আমার অতীতের কর্মকাণ্ড দেখুন। আমি কোনো মতবাদ চাপিয়ে দিতে আসিনি। আমি যে কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতেও আসিনি, এটা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারব। তবে, কেউ যদি আমার বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন, তাহলে সেটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

ঢাকা পোস্ট: মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়ে নতুন করে সরকারের সঙ্গে পথচলা শুরু করেছেন। কেমন লাগছে?

শামীম কায়সার লিংকন: আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন নির্বাচনগুলোর একটি ছিল এবারের নির্বাচন। এটি সবচেয়ে বেশি জবাবদিহিতার পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর একটি ছিল। আবার মানুষের সাড়াও দেখে আমি যা বুঝতে পারছি, দেশের ইতিহাসে যতগুলো চড়াই-উতরাই হয়েছে, সেগুলোর ইতিবাচক দিকে বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন সমমনা দলগুলো থাকার কারণে মানুষ এই সংকটময় মুহূর্তে আস্থা পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবে বিএনপির প্রতি মানুষের ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি ছিল বলেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তবে, এমন একটি ভরা জোয়ারের সময়ে আমি যেখান থেকে নির্বাচিত হয়ে এসেছি, সেখানে চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও রংপুর—বিএনপি মাত্র একটি (প্রতিমন্ত্রীর নিজের আসন) আসন পেয়েছে। বাকি ১৮টির মধ্যে ১৬টি জামায়াতে ইসলামী এবং দুটি এনসিপি পেয়েছে। যদিও এনসিপির যারা জয়ী হয়েছেন, তাদের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা জামায়াতের সঙ্গে ছিল। হতে পারে, মানুষের মতাদর্শ পরিবর্তন হতে পারে, দলও পরিবর্তন করতে পারে।

বুঝতে হবে, এই ভরা জোয়ারের সময়েও এই অঞ্চলে বিএনপির এমন ফলাফলের পেছনে কিছু কারণ রয়েছে, যার কারণে এমন হয়েছে। তাই আমার মনে হয়, এই দিকটি খেয়াল রাখার বিষয় রয়েছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, সাংগঠনিকভাবে ভিত্তি মজবুত করা অথবা জনপ্রতিনিধিত্বের যে দায়িত্ব, সেটিকে যদি এগিয়ে নেওয়া না হয়, তাহলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের পথ কঠিন হয়ে পড়ে। সেটিও আমাকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

আরেকটি বিষয় হলো, আমাদের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা। তিনি অনেক জনপ্রিয়ও। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তিনি সময়টা একটু কম দিতে পারছেন।

আপনারা দেখবেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অফিস করেন। ছুটির দিনেও তিনি তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেন। তার মানে, তিনি ৩৬৫ দিন, ২৪/৭ প্রধানমন্ত্রী। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে অবশ্যই গতির প্রয়োজন।

এছাড়া কিছু কাজ হয়তো পেন্ডিং হয়ে যায়। তাই সহযোগী হিসেবে কাকে দেওয়া যেতে পারে, সেটিও আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিকতা হতে পারে।

dhakapost

ঢাকা পোস্ট: ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আপনার মূল অগ্রাধিকার কী?

শামীম কায়সার লিংকন: ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের সব ধর্ম, মত ও পথের মানুষের জন্য। এমনকি যারা ধর্ম পালন করেন না, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা মত প্রতিষ্ঠার মন্ত্রণালয় নয়। সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে কাজ করার জন্যই এই মন্ত্রণালয়। কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা মতকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় নয়। এ কারণে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি দেশ হিসেবে পরিচিত। আমরা সেটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে দেখি, ধর্মকে ভিত্তি করে নানা ধরনের অরাজকতা তৈরি হয়। তবে আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রথম অগ্রাধিকার দিই।

যেহেতু আমাদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি জড়িত, অনেক সময় দেখা যায়, বিশ্বের কোথাও কোনো ধর্ম বৈষম্যের শিকার হলে গোটা পৃথিবীতে তার প্রভাব পড়ে। যে কারণে এটি ছোট মন্ত্রণালয় এবং বাজেটও কম হলেও এর সামাজিক, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রভাব অনেক বেশি। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করব না।

ঢাকা পোস্ট: ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এ ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন?

শামীম কায়সার লিংকন: কোনো সহিংসতা হঠাৎ তৈরি হয় না। গুজব বা অপপ্রচার কীভাবে ছড়ায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি সরকার আসার আগে গত এক থেকে দেড় বছরে মব কালচার বড় একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখা গেছে, একজন অধ্যক্ষকে ছাত্ররা এসে মারধর করছে। এ ধরনের ধর্মীয় বিষয়ও আমরা দেখতে পেয়েছি। কোনো ঘটনা যাচাইয়ের আগেই মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। মব কালচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে পারি, যদিও সেটি আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। তারপর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন ও সংশ্লিষ্ট প্রায় এক লাখ প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা আছে। সেটিকে কাজে লাগানো যেতে পারে। ছোটবেলা থেকেই সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দিতে হবে। এটি শুধু ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়; শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র, সংস্কৃতিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাতে এ ধরনের ঘটনায় শুধু সংখ্যালঘুরাই নয়, মুসলমানরাও ভুক্তভোগী না হন। তাই বিষয়টি সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে। অনেকে মনে করেন, পাঠ্যক্রমে ধর্মীয় কারিকুলাম ধর্ম মন্ত্রণালয় ঠিক করে। আসলে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় করে। আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রপতি একসময় বলেছিলেন, দেশের শিক্ষাক্রমে সংবেদনশীল ধর্মীয় বিষয় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব থাকা দরকার। যাতে পাঠ্যক্রমে স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত না হয়।

ঢাকা পোস্ট: প্রতিবছর হজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন এজেন্সির প্রতারণার ঘটনা ঘটে। এসব বন্ধে কী উদ্যোগ নেবেন?

শামীম কায়সার লিংকন: ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনার মনিটরিং কমিটিতে ছিলাম। দেখেছি, মন্ত্রী অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। কোনো হাজি বৈষম্য বা কোনো এজেন্সির প্রতারণার শিকার হলে তাকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে। গতবার আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সময় হজ ব্যবস্থাপনার প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ আগের সরকার করে রেখেছিল। আমরা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। ফলে কিছুটা চাপ ছিল। এবার হজ শেষ হওয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যেই পরবর্তী হজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। লক্ষ্য হলো হাজিদের সেবা নিশ্চিত করা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং এজেন্সির প্রতারণা বন্ধ করা।

ঢাকা পোস্ট: জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নানা সময়, ৫ আগস্টের পরে মসজিদের খতিবও পালিয়ে গেছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে কি চিন্তা-ভাবনা?

শামীম কায়সার লিংকন: বর্তমানে জাতীয় মসজিদের খতিব একজন প্রথিতযশা ও সর্বজনবিদিত আলেম। তিনি অত্যন্ত সরল ও অনুসরণীয় ব্যক্তি। একটি বৈঠকে তার জন্য বিশেষ সুবিধাসংক্রান্ত একটি ধারা রাখা হয়েছিল। তিনি নিজেই প্রশ্ন করেছিলেন, এটি এখানে কেন রাখা হয়েছে? আগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তিনি সেটি সরিয়ে দিতে বলেন। তার মতো একজন মানুষকে পেয়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে, খতিব নিয়োগের নীতিমালায় কোনো ফাঁকফোকর থাকলে তা অবশ্যই পর্যালোচনা করব।

ঢাকা পোস্ট: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সুশাসন নিশ্চিত করবেন কীভাবে?

শামীম কায়সার লিংকন: এটি প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। একজন আলেম যদি প্রশাসনিক কাজেও দক্ষ হন, তাহলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে পছন্দ-অপছন্দ থাকতেই পারে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী হচ্ছে এবং কোনো দুর্নীতির সুযোগ থাকছে না।

ঢাকা পোস্ট: আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন মতের মানুষের প্রতি আপনার বার্তা কী?

শামীম কায়সার লিংকন: আমাকে এমন জায়গায় ফেলবেন না, যেখানে আমাকে বলতে হয়- ‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, কাদম্বিনী মরে নাই।’ আমি সবার চিন্তা ও উদ্বেগকে সম্মান করি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য আসিনি। সব ধর্ম, মত ও পথের মানুষের নিজ নিজ অবস্থান ও স্পেস নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। আমি কী করতে চাই, সময় ও কর্মকাণ্ডই তা প্রমাণ করবে। আল্লাহ যতটুকু সামর্থ দেবেন, ততটুকু যেন সঠিকভাবে করতে পারি, এই দোয়াই সবার কাছে প্রত্যাশা করি।