Image description

বর্তমানে সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব পদে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োজিত আছেন তিনি। নিজেকে বরাবরই একজন সৎ কর্মকর্তা বলে দাবি করে থাকেন। তবে কয়েকদিন আগে শীর্ষকাগজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সচিবের সৎ দাবির মুখোশ খুলে পড়েছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড: এসিল্যান্ড পদায়ন নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার, মাঠ প্রশাসনে চরম অসন্তোষ”।

হ্যাঁ, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ-এর কথাই বলা হচ্ছে। আলোচ্য এই প্রতিবেদনে আরেকটি গুরুতর ঘটনা তুলে ধরা হচ্ছে, যাতে সচিব সালেহ আহমেদ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি দপ্তরের ঘুষের অভিযোগ করতে গিয়ে নিজেই ঘুষের ঘটনায় ধরা পড়ে গেছেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) কার্যালয়ের ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ে আনা নিয়ে কথা হচ্ছিল। হিসাব নিয়ন্ত্রকের দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৫৪ সালে।

এর প্রবিধানমালা (চার্টার) এবং অতীতের রীতি-নীতি অনুযায়ী ১০ম গ্রেড পর্যন্ত বদলি-পদায়নের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হাতেই থাকার কথা। অতীতে বরাবর তাই ছিল। কিন্তু সালেহ আহমেদ সিনিয়র সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার পর পরই ওই দপ্তরের ১০ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন, ছুটি ও পেনশনের ক্ষমতা নিয়মবহির্ভূতভাবে মন্ত্রণালয়ে নিয়ে এসেছেন। এ বিষয়ে সচিবের বক্তব্য হলো, অধীন ওই দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘুষখোর।

হিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এতোটা ঘুষখোর যে, সচিব হিসেবে তিনি যে কর্মকর্তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পদায়নের তদবির নাকচ করে দিয়েছেন সেই কর্মকর্তাই ঢাকায় পদায়ন পেয়েছে তাঁর অজান্তে। হিসাব নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে এই কর্মকর্তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পদায়ন দিয়েছেন। তবে সচিবের এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়ে যে তথ্য পাওয়া গেলো তাতে দেখা যাচ্ছে, সচিব নিজের হাতেই এই বদলির কাজটি করেছেন। এরপরে সচিবের কাছে জানতে চাওয়া হলো, ঘুষের টাকাটা তাহলে কে নিয়েছে, এটা খুঁজে বের করুন। তবে এই খুঁজে দেখার কাজটি তিনি আর করলেন না। কারণ, তাতে তিনি নিজেই ফেঁসে যাবেন!

হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) কার্যালয় প্রতিষ্ঠার চার্টার বা প্রবিধানমালায় ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে এই কার্যালয়ের হাতে ক্ষমতা দেওয়া আছে। সেই অনুযায়ী ১০ম গ্রেড পর্যন্ত বদলি-পদায়ন, ছুটি, পেনশন প্রভৃতি হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকেই হয়ে আসছে। কিন্তু, ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির বলে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন, ছুটি, পেনশনের ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ে নিয়ে আসা হয়। এতে বিপাকে পড়েন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তাছাড়া এতে বিদ্যমান প্রবিধানমালাও লঙ্ঘিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা এ সংক্রান্ত চিঠির বিষয়বস্তুও ছিল অত্যন্ত হাস্যকর। চিঠির বিষয়বস্তুতে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, এ ধরনের বদলির তদবির প্রায়ই ভূমি সচিবের কাছে আসে। তাই ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নসহ সার্বিক ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ে আনা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, “বিভিন্ন সময়ে হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) এর দপ্তরে কর্মরত ১০ম গ্রেড হতে তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের বদলি বিষয়ে সরাসরি সিনিয়র সচিব/ সচিব বরাবর আবেদন করে বদলি হওয়ার জন্য তদবির করা হয়। এতে দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত ঘটে। ” উল্লেখ্য, ৯ম গ্রেড থেকে উপরের দিকের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের ক্ষমতা আগে থেকে মন্ত্রণালয়ের হাতে ছিল।
হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) কার্যালয়ের ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তারা সাধারণতঃ মাঠ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। এই গ্রেডে মোট ৭৭টি পদ আছে। শীর্ষকাগজের পক্ষ থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদকে এ বিষয়ে চারটি প্রশ্ন করা হয়েছিল। তাঁকে বলা হলো, আপনি যে চিঠির মাধ্যমে হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ে এনেছেন এটা যুক্তি বা বিধি-বিধানের মধ্যে পড়ে কি? প্রথমত, সারাদেশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এখন ছুটি, পেনশনসহ সকল কাজের জন্য মন্ত্রণালয়ে যেতে হবে। কিন্তু মন্ত্রণালয় তাদের দপ্তর নয়, মন্ত্রণালয়ে ঢোকার পাস নেই এই কর্মকর্তাদের। মন্ত্রণালয়ে ঢুকতে গেলে গেট পাস সংগ্রহ করতে হবে। এতে তারা মন্ত্রণালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়বেন। মন্ত্রণালয়ের অফিসাররা বদলিযোগ্য। এদের কারো সঙ্গে কথা বলা বা পরিচিত হওয়া তাদের পক্ষে তেমন একটা সম্ভব হয়ে উঠবে না। দ্বিতীয়ত, সরকারের নীতি হলো, কাজ বিকেন্দ্রীকরণ। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনি উল্টো করলেন। হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের উপরের দিকের পদগুলো আগে থেকেই মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে আছে। এখন আপনি মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের কার্যক্রমও মন্ত্রণালয়ের হাতে নিয়ে এসেছেন। অধীন দপ্তরের ১০ম গ্রেডের কর্মচারীদের বদলি-পদায়নের কার্যক্রম অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে এখন আছে বলে জানা নেই। তৃতীয়ত, আপনি যে যুক্তিতে এই নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের হাতে এনেছেন তা অত্যন্ত হাস্যকর। এ সংক্রান্ত ইস্যুকৃত চিঠিতে মন্ত্রণালয় লিখেছে, এসব পদের বদলি সংক্রান্ত তদবির আপনার কাছে আসে। এতে আপনি কাজে ব্যাঘাতপ্রাপ্ত হন। এজন্য আপনি বদলিসহ সকল কার্যক্রম নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছেন। তার মানে সকল কার্যক্রম নিজের হাতে আনলে আর ব্যাঘাত হবে না- এই তো? হাস্যকর এবং উদ্ভট যুক্তি! চতুর্থত, যে চার্টার বা প্রবিধান বলে অডিট নিয়ন্ত্রক কার্যালয়টি পরিচালিত হয় তাও আপনি লঙ্ঘন করেছেন। সেই প্রবিধানে বলা আছে, প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে চলবে এবং কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রম মন্ত্রণালয় বা উক্ত প্রতিষ্ঠান করবে। আপনি এটা মানছেন না।

এসব বিষয়ে সচিব সালেহ আহমেদের সঙ্গে অন্ততঃ ছয় দিন কথা হয় শীর্ষকাগজের এ প্রতিনিধির। এরমধ্যে একাধিক দিন পূর্ব থেকেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে এ ইস্যুতে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কখনো তিনি পুরো কথাগুলো শুনেননি, যদিও শুনতে বেশি সময় লাগতো না। সর্বোচ্চ দশ মিনিট লাগতো। দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে অপ্রাসঙ্গিক ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও গালগল্পে। এরপরে যখন এ প্রসঙ্গ এসেছে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অযৌক্তিক কথা বলে থামিয়ে দিয়েছেন অথবা, প্রসঙ্গকে অন্যদিকে নিয়ে গেছেন। প্রথমদিন যখন কথা হয়, কথা না শুনে শুরুতেই হিসাব নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষেপে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে এক ছোটখাটো বক্তৃতা দিলেন সচিব। বললেন, তারা ঘুষখোর। তহসিলদারদের কাছ থেকে ঘুষ খায়। এই ঘুষের টাকা পুরো দপ্তরে ভাগবাটোয়ারা হয়। এ কারণে তিনি তাদের সকল নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে এনেছেন। সচিবকে বলা হলো, চার্টার (প্রবিধানমালা) অনুযায়ী তো এভাবে আনার সুযোগ নেই। বললেন, চার্টার পরিবর্তন করবো দরকার হলে। তাঁকে বলা হলো, হ্যাঁ তাই করুন। তাহলে আপনার এ কাজটা অন্ততঃ আইনগতভাবে বৈধতা পাবে এবং এটা বলা যাবে যে, বিকেন্দ্রীকরণের জায়গায় আপনি সবকিছু কেন্দ্রীকরণ করতে চাইছেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই বৈধতার কাজটা তিনি করলেন না।

এরপরে আরেকদিন আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সচিব সালেহ আহমেদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে যাওয়া হলো। প্রসঙ্গ উঠতেই, কোনো কথা না শুনেই তিনি তেলেবেগুনে জ¦লে উঠলেন। বললেন, “অডিটের এরা সবাই দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোর। ভূমি সচিব হওয়ার পর প্রথমদিকে আমার কাছে কোনো এক মাধ্যমে ‘পান খায়, মুখের মধ্যে পান লেগে আছে’- এমন এক লোক আসলো। বললো সে সহকারী কন্ট্রোলার হিসেবে চট্টগ্রামে পদায়নে আছে, ঢাকায় বদলি হয়ে আসতে চায়। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, পদ খালি আছে কি-না? সে বললো, পদ খালি নেই। অন্য একজনকে ঢাকা থেকে বদলি করে তাকে ঢাকায় আনার আবদার করলো। বললাম, কাকে বদলি করবো? সহকারী কন্ট্রোলার আছেই মাত্র কয়েকজন। এদের মধ্য থেকে কাকে বদলি করে তোমাকে আনবো? এটা সম্ভব নয়। তাদের কন্ট্রোলার ছিল মহিলা। তার ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠানে গেলাম। সেখানে পান খাওয়া ওই সহকারী কন্ট্রোলার আমাকে দেখে হেসে সালাম দিলো। জিজ্ঞেস করলাম, তুমিতো চট্টগ্রামে আছো, তাই না? সে বললো, না স্যার। ঢাকায় বদলি হয়ে এসেছি। ঢাকায়ই আছি এখন। তাকে বললাম, তোমাকে আমি বদলি করিনি। তুমি বদলি হয়ে আসলে কীভাবে? সে শুধু হাসলো, কোনোই জবাব দিলো না। এরা সবাই দুর্নীতিবাজ। তাদের প্রধান কার্যালয়ে বড় অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে আমাকে অন্ধকারে রেখে ঢাকায় চলে এসেছে সে। ”

এদিনও শীর্ষকাগজের প্রতিনিধিকে তেমন একটা কথা বলতে দিলেন না সচিব। পরবর্তীতে শীর্ষকাগজের পক্ষ থেকে খোঁজ-খবর নেওয়া হলো, কে বা কারা ঘুষ খেয়ে এই কর্মকর্তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এনেছেন ভূমি সচিব নাকচ করার পরও। তথ্য পাওয়া গেলো, সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) এনামুল হক চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি হয়ে এসেছেন। এবং তিনি বর্তমানে হিসাব নিয়ন্ত্রকের প্রধান কার্যালয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে, সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) পদে আছেন। এই বদলি বা পদায়নটি হিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে হয়নি। স্বয়ং ভূমি সচিবের হাত দিয়েই বদলি-পদায়নটি হয়েছে। সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) পদে বদলি-পদায়নের ক্ষমতা আগে থেকেই ভূমি মন্ত্রণালয়ের হাতে ছিল। তবে ইতিপূর্বে রেওয়াজ ছিল, হিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিতো এবং প্রজ্ঞাপন জারি করতো। কিন্তু এনামুল হকের বদলির ক্ষেত্রে হিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে কোনো প্রস্তাবই নেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয় সরাসরিই এ কাজটি করেছে।
এ তথ্য পাওয়ার পরে আরো অন্ততঃ তিন দিন একই ইস্যুতে সচিবের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলো। বলা হলো, আপনি বদলি করেননি, তারপরও ওই লোক ঢাকা চলে এসেছে- কীভাবে, বের করতে হবে। কোন্ কর্মকর্তা আপনার ইচ্ছের বিরুদ্ধে টাকা খেয়ে এই লোককে বদলি করে এনেছে, কত টাকা খেয়ে এটা করেছে অবশ্যই বের করতে হবে। একথা বলার পর সচিব অত্যন্ত ব্যস্ততা দেখালেন। অন্য কাজ আছে বললেন। বলা হলো, তাহলে অন্য একদিন আসবো। এ বিষয়টি বের করা দরকার। এরপরে আরেকদিন কথাটা তোলা হলো। ঘুষ খাওয়া ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার কথা অত্যন্ত সিরিয়াসলি বলা হলো। তিনি এদিন একটু নরম সুরেই বললেন, “বদলি হওয়া ব্যক্তির নাম তো আমার মনে নেই। ” বলা হলো, চট্টগ্রাম থেকে যে সহকারী কন্ট্রোলার ঢাকায় বদলি হয়ে এসেছেন তার নাম বের করাটা কষ্টকর কিছু নয়। আপনি অডিটের লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন। এটা একটু খুঁজে দেখুন এবং এ সংক্রান্ত ফাইলটাও তলব করুন। সচিব সালেহ আহমেদ বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে দেখবো। এরপরে অন্য একদিন যখন সচিবকে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি এদিন একেবারেই নরম সুরে বললেন, আসলে এটা দেখছি আমিই বদলি করেছি। আমার হাত দিয়ে কীভাবে, কখন বদলি হয়েছে এটা আমিই জানি না। মন্ত্রণালয়ের এরা করিয়ে নিয়েছে। আমি বুঝে উঠতে পারিনি হয়তো। বলা হলো, তাহলে বদলি বাবদ ঘুষের টাকাটা তো নিশ্চয়ই মন্ত্রণালয়ের লোকজন নিয়েছে এটা প্রমাণ হলো। এদের বিরুদ্ধে আপনার ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এর জবাবে তিনি শুধু হাসলেন। কোনো ব্যবস্থা আর নেননি। দেখা গেলো, সচিব নিজেই জড়িয়ে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ, গত ৩১ আগস্ট হোয়াটসঅ্যাপ টেক্সট-এ সচিব সালেহ আহমেদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আলোচ্য ঘুষ গ্রহণকারী ব্যক্তির তথ্য। দেখা গেলো, এ সংক্রান্ত প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে তিনি শুধু বিব্রতই হন। অবশ্য, ইতিমধ্যে সৎ দাবিদার এই সচিবের আরও অনেক তথ্য শীর্ষকাগজ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।


শীর্ষনিউজ