Image description

নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দ্বিগুণ হওয়ার আলোচনা চলছে। তবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে নিজের বেতনের হিসাব তুলে ধরে ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক। তাঁর দাবি, ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপে তাঁর মোট বেতন বাড়বে মাত্র ১ হাজার ৩৫২ টাকা। তবে এটি তাঁর নিজের বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও বিদ্যমান সুবিধার ভিত্তিতে করা হিসাব; সব সরকারি চাকরিজীবীর বেতন একই হারে বাড়বে—এমন নয়।

এক বিবৃতিতে আবদুল মালেক বলেন, ‘১১ বছর পরে আমার বেতন বাড়ছে ১৩৫২ টাকা কিন্তু সারা দেশ বলছেন বেতন ডাবল হয়েছে, বাস্তব কি বলে?’

এক বিবৃতিতে তিনি তাঁর বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘৯ম পে স্কেলে প্রথম ধাপে আমার বেতন বারবে ১৩৫২ টাকা অথচ বেতন ডাবল হয়েছে বলে সবাই মুখে ফেনা তুলছে, চলুন বাস্তব হিসাব টা দেখে নেই -’

আবদুল মালেকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পে-ফিক্সেশনে তাঁর মূল বেতন শুরু হয়েছিল ২৪ হাজার ২৬০ টাকা থেকে। বিভিন্ন ইনক্রিমেন্টের পর ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্টসহ তাঁর মূল বেতন দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৬৩০ টাকা। অর্থাৎ ২০১৫ সালের মূল বেতন থেকে ২০২৬ সালের মূল বেতনের পার্থক্য ১৯ হাজার ৩৭০ টাকা।

তিনি বলেন, এই ১৯ হাজার ৩৭০ টাকা সার্ভিস বেনিফিট হিসেবে নবম পে-স্কেলের নতুন স্কেলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তাঁর হিসাবে নতুন স্কেলের ৪৪ হাজার টাকার সঙ্গে ১৯ হাজার ৩৭০ টাকা যোগ করলে মূল বেতন দাঁড়াবে ৬৩ হাজার ৩৭০ টাকা।

আবদুল মালেকের ভাষায়, ‘এই ৬৩৩৭০৳ হবে আমার ৯ম পে স্কেলের মুল বেতন।’

এরপর তিনি নতুন পে-স্কেলে তাঁর বেতন কতটা বাড়বে, সেই হিসাবও তুলে ধরেছেন। তাঁর হিসাবে নতুন মূল বেতন ৬৩ হাজার ৩৭০ টাকা থেকে আগের পে-স্কেলের শেষ মূল বেতন ৪৩ হাজার ৬৩০ টাকা বাদ দিলে বর্ধিত অংশ দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৭৪০ টাকা।

তিনি বলেন, ‘৯ম পে স্কেলের বেসিক-৮ম পে স্কেলের শেষ বেসিক ৬৩৩৭০-৪৩৬৩০ ৳ = ১৯৭৪০৳ আমার ৯ম পে স্কেলের বর্ধিত বেতন হবে।’

নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই কাঠামো ধরে আবদুল মালেকের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর বর্ধিত ১৯ হাজার ৭৪০ টাকার ৪০ শতাংশ হবে ৭ হাজার ৮৯৬ টাকা। তিনি বলেন, ‘এই ৭৮৯৬ টাকা আমার আগের মোট বেতনের সাথে যোগ করতে হবে।’

আবদুল মালেকের হিসাবে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই তাঁর আগের মোট বেতন ছিল ৬৭ হাজার ২৯০ টাকা। এর সঙ্গে ৭ হাজার ৮৯৬ টাকা যোগ করলে মোট বেতন দাঁড়ায় ৭৫ হাজার ১৮৬ টাকা।

তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে বর্তমান বিশেষ সুবিধা বাতিল হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীরা ১০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীরা ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবদুল মালেক তাঁর নিজের হিসাবের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা বাবদ ৬ হাজার ৫৪৪ টাকা ধরে তা বাদ দিয়েছেন। তাঁর হিসাবে ৭৫ হাজার ১৮৬ টাকা থেকে ৬ হাজার ৫৪৪ টাকা বাদ দিলে নতুন বেতন দাঁড়ায় ৬৮ হাজার ৬৪২ টাকা।

এরপর আগের মোট বেতন ৬৭ হাজার ২৯০ টাকা থেকে নতুন হিসাবে পাওয়া ৬৮ হাজার ৬৪২ টাকা বাদ দিলে পার্থক্য থাকে ১ হাজার ৩৫২ টাকা।

আবদুল মালেকের ভাষায়, ‘যা পে স্কেলের আগের বেতন থেকে মাত্র ৬৮৬৪২-৬৭২৯০৳
= ১৩৫২৳ বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবেই সব চাকরিজীবীদের কারো ২হাজার, কারো ৩ কারো ৪ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাবে প্রথম ধাপে।’

তবে নতুন পে-স্কেলে পুরোনো চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণের হিসাব সবার ক্ষেত্রে এক নয়। চাকরির মেয়াদ, বর্তমান মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য সুবিধার ওপর ভিত্তি করে তাঁদের নতুন বেতন-ভাতা নির্ধারিত হবে। ফলে আবদুল মালেকের ব্যক্তিগত হিসাবকে সব সরকারি চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে একই ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি ধাপে ধাপে বিভিন্ন সুবিধা কার্যকর হওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। সব ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নবম পে-স্কেল নিয়ে ‘বেতন দ্বিগুণ’ হওয়ার প্রচারের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবদুল মালেক। তাঁর ভাষায়, ‘৯ম পে স্কেল পাবার পরে বিশেষ সুবিধা বাতিল করে আমার প্রথম ধাপে বেতন বৃদ্ধি পাবে মাত্র ১৩৫২ টাকা যার জন্য দেশে কত টাকা ইনফ্লুয়েশন হবে? এই ১৩৫২ টাকা বৃবৃদ্ধি পাবে আর মিডিয়া,সুশীল সমাজ এবং পাবমলিক বলছে রেকর্ড পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি, ডাবল হয়েছে বেতন, পাবলিকের কি হবে???’

বেতন বৃদ্ধির আলোচনা বাজারে দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এই সবাই বলে বলে বাজার গরম করছে, দ্রব্য মুল্যর উপর চাপ বারাচ্ছে যা ভোগ করবে সরকারি বেসরকারি সবাই।’

নিজের বেতন পুরোপুরি দ্বিগুণ হওয়ার সময় নিয়েও তিনি একটি হিসাব তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমার বেতন ডাবল হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে, ততক্ষণে দ্রব্য মুল্য বেরে সমান সমান হয়ে যাবে।’

তবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে তাঁর বেতন ‘ডাবল’ হবে—এটি তাঁর নিজের হিসাব ও ব্যাখ্যা। নতুন পে-স্কেলের সব ধাপ ও ভাতা কার্যকর হওয়ার পর প্রকৃত মোট বেতন কত হবে, তা সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর গ্রেড, মূল বেতন ও প্রযোজ্য সুবিধার ওপর নির্ভর করবে।

নিজের বক্তব্যের পক্ষে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে আবদুল মালেক বলেন, ‘এই হলো বাস্তবতা।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘সঠিক তথ্য সবাই তুলে ধরুন, বাজারের দ্রব্য মুল্য নিয়ন্ত্রণে রাখুন, নইলে চরাদামে সবাই কে বাজার করতে হবে।’