Image description

‘এই বুঝি মেয়ে দরজায় এসে দাঁড়াবে’—এ আশায় দিন কাটছে বাগেরহাটের পি এম রাজুল ইসলামের। তিন মাস আগে স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় তার ১৪ বছরের মেয়ে রাফিয়া তুজ আথেরা। থানায় জিডি, মামলা এবং পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেও এখনো মেয়ের কোনো সন্ধান পাননি তিনি।

 

নিখোঁজ রাফিয়া বাগেরহাট সদর উপজেলার চিরুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত ছাত্রী। তার শ্রেণি রোল নম্বর ৬।

 

পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় বাগেরহাট সদর উপজেলার কু-বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা ও চিরুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অফিস সহকারী পি এম রাজুল ইসলামের মেয়ে রাফিয়া। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ৪ জুন বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২২১) করা হয়। পরবর্তী সময়ে মেয়েকে উদ্ধার করতে না পেরে ৬ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা (মামলা নং-১০) করেন ভুক্তভোগী বাবা।

 

মামলাটিতে একই এলাকার আরমান সরদার (১৯), তার বাবা কামরুল সরদার (৪৬) ও মা লাবনী আক্তারকে (৩৭) প্রধান আসামি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, আরমান দীর্ঘদিন ধরে কিশোরী রাফিয়াকে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে আসছিল এবং ঘটনার দিন কু-বিষ্ণুপুর এলাকা থেকে তাকে অপহরণ বা ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও থানা পুলিশের কাঙ্ক্ষিত তৎপরতা না পাওয়ায় গত ১৭ আগস্ট বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেন রাজুল ইসলাম। আবেদনে দ্রুত মেয়েকে উদ্ধারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। উক্ত আবেদনে চিরুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেনও সহৃদয়তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছেন।

 

মেয়ের সন্ধানে ব্যাকুল বাবা পি এম রাজুল ইসলাম বলেন, ‘তিন মাস ধরে আমার মেয়েটা কোথায়, কেমন আছে কিছুই জানি না। জিডি, মামলা, পুলিশ সুপার—সবার দরজায় গিয়েছি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে খবরের আশায় ছুটে বেড়াই। রাতে ঘুম আসে না; মনে হয় এই বুঝি দরজায় এসে দাঁড়াবে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘একজন বাবা হিসেবে আমি শুধু আমার মেয়েকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। আমি কারও প্রতি অন্যায় চাই না। শুধু চাই, আমার মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে তা তদন্ত করে বের করা হোক এবং যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।’

 

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখোঁজ কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করা ও তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।