Image description

পবিত্র হজ পালনের অদম্য বাসনা নিয়ে নাটোরের সিংড়া থেকে পায়ে হেঁটে সৌদি আরবের মক্কার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন দুলাল হোসেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি এখন যশোরের বেনাপোলে। তবে স্বপ্নের এই যাত্রায় এসে দেখা দিয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। প্রয়োজনীয় ভিসা এখনো হাতে না পাওয়ায় বেনাপোলে অপেক্ষা করছেন তিনি।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের তাড়াশ বড়ইচোরা গ্রামের মৃত মকসেদ আলী ও পিয়ারা বেগমের ছেলে দুলাল হোসেন। বয়স ৪৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তার স্বপ্ন ছিল পায়ে হেঁটে পবিত্র কাবা শরিফে পৌঁছে তাওয়াফ করা এবং হজ পালন করা। সেই স্বপ্ন পূরণের নিয়ত নিয়ে গত ৪ আগস্ট সকালে নিজ গ্রামের মানুষের কাছ থেকে দোয়া ও বিদায় নিয়ে পায়ে হেঁটে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

পথে কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর পর ভিসা পাওয়ার আশায় প্রায় ২১ দিন অপেক্ষা করেন দুলাল। তার দাবি, গত ৮ আগস্ট লিটন নামে এক কন্টাক্টর তার পাসপোর্ট নিয়ে নেন। ওই ব্যক্তি তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, হজ পালনের পথে যেসব দেশের ভিসা প্রয়োজন, সেসব ভিসা করে দেবেন এবং ১৫ দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে দেবেন।

কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ভিসা হাতে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আর অপেক্ষা না করে কুষ্টিয়া থেকে আবার পায়ে হেঁটে বেনাপোলের উদ্দেশে রওনা দেন দুলাল। গত ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বেনাপোলে এসে পৌঁছান। এখন বেনাপোলেই অবস্থান করছেন তিনি। হাতে ভিসা এলেই বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন হয়ে ভারতে প্রবেশ করতে চান। এরপর একের পর এক দেশ পেরিয়ে পায়ে হেঁটে সৌদি আরবের মক্কায় পৌঁছানোর ইচ্ছা তার।

দুলাল হোসেন বলেন, আল্লাহর ঘরে যাওয়ার আকুলতা থেকেই তার এই সিদ্ধান্ত। পায়ে হেঁটে হজ করতে যাওয়া কষ্টসাধ্য হলেও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেই তিনি এই দীর্ঘ যাত্রায় বের হয়েছেন। এখন তার একমাত্র অপেক্ষা কখন হাতে আসবে প্রয়োজনীয় ভিসা, আর কখন আবার শুরু হবে তার মক্কা অভিমুখে পায়ে হাঁটার পথচলা।

তবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ হয়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় ভিসা ও প্রশাসনিক অনুমতির বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। নিজের যাত্রাপথে যেন কোনো আইনি বা প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে না হয় এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, সে বিষয়ে সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেছেন দুলাল।

পবিত্র হজ পালনের স্বপ্নে ইতোমধ্যে পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন দীর্ঘ পথ। এখন বেনাপোলে দাঁড়িয়ে তার চোখ ভিসার অপেক্ষায়। ভিসা হাতে পেলেই আবার শুরু হবে দুলালের সেই কাঙ্ক্ষিত যাত্রা পায়ে হেঁটে মক্কার পবিত্র কাবা শরিফের পথে।