গ্যাস সংকট ও নাগরিক সেবার ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। শনিবার রাত ২টা ২৯ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গ্যাস না থাকলে বিল নয়, সেবা না মিললে কর নয়।’
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে এর আগেও জাতীয় সংসদে সরব হয়েছেন রুমিন ফারহানা। গত ২৭ আগস্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি চলমান জ্বালানি সংকটের সমালোচনা করেন।
সংসদে তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—কখন আসে, কখন চলে যায়, তা বোঝা কঠিন। একইসঙ্গে তেলের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের সংকট ও গ্যাসের অপ্রতুলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি খাতে নিশ্চয়তার কথা ছিল। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সংসদে তিনি কর্মসংস্থান ও দ্রব্যমূল্য নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে ছয় মাসে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০-এর বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়েছে। একইসঙ্গে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এর আগে গ্যাস সংকট নিয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকাতেও সরব ছিলেন রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল চললেও স্থানীয় বাসিন্দারা গ্যাস সংকটে ভুগছেন—এমন অভিযোগ তুলে তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছিলেন।
সম্প্রতি সংসদেও গ্যাস সরবরাহের সংকট নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদিন ৩ সেপ্টেম্বর সংসদে বলেন, শ্যামপুর, পোস্তগোলা ও যাত্রাবাড়ীর প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবার গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, গ্যাস না পেলেও গ্রাহকদের বিল দিতে হচ্ছে।