কাগজে-কলমে সবই ‘নিষ্কণ্টক’। গেজেট অনুযায়ী নেই মামলা, দায় কিংবা মালিকানা নিয়ে জটিলতা। কিন্তু নথি বলছে ভিন্ন কথা। কোথাও মামলা, কোথাও ব্যাংকের বন্ধক। আবার কোথাও রয়েছে মালিকানা নিয়ে বিরোধ।
জনভোগান্তি কমানোর কথা বলে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে প্রায় ৫৭ হাজার প্লট ও ফ্ল্যাটের গেজেট প্রকাশ করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কোনো সুনির্দিষ্ট ও নিবিড় যাচাই-বাছাই ছাড়াই ছয় ধাপে এসব গেজেট প্রকাশ করা হয়। পরে নথি ঘেঁটে দেখা যায়, তালিকায় রয়েছে মামলাধীন সম্পত্তি। আছে লিজ দলিলে ত্রুটি, জাল আমমোক্তারনামা ও ব্যাংকে বন্ধক থাকা সম্পত্তিও। এতে প্রকৃত মালিক ও উত্তরাধিকারীরা পড়েছেন নতুন করে আইনি অনিশ্চয়তা ও হয়রানিতে।
ধানমন্ডির শতকোটি টাকার প্লট থেকে খিলগাঁওয়ের ব্যাংকে বন্ধকি জমি—নথি ঘেঁটে মিলেছে একের পর এক গরমিল। অভিযোগ রয়েছে, জাল কাগজপত্র ও নথি গায়েব করে মূল্যবান প্লট হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টারও।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্যাংকে বন্ধক থাকা ও মামলায় বিচারাধীন সম্পত্তিকেও ভুয়া কাগজপত্রে ‘নিষ্কণ্টক’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ধানমন্ডির কয়েকশ কোটি টাকার প্লটসহ একাধিক মূল্যবান সরকারি সম্পত্তি বাগিয়ে নিতে মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও একটি সিন্ডিকেট একজোট হয়ে কাজ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এক দিনের মধ্যে ফাইল অনুমোদন এবং ১৬ বছরের মূল নোটশিট গায়েবের মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে।
ভুল তথ্যে ভরা এসব গেজেটের কারণে একদিকে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব হাতছাড়া হচ্ছে, অন্যদিকে সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়গুলোতে বাড়ছে জালিয়াতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য। এতে প্লটের প্রকৃত মালিক, বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও উত্তরাধিকারীরা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধানমন্ডির ৭ নম্বর রোডের ১০২ (পুরাতন), ৩৩/এ (নতুন) নম্বর প্লটটি দশতলা ভবন নির্মাণের জন্য ২০১০ সালের ২৮ জুন ও ৫ জুলাই ডিজাইনার ডেভেলপার্স অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের সঙ্গে প্লটের মালিক ইসমত আরা, মোকাদ্দেম, আমের মোকাদ্দেম ও আসেম মোকাদ্দেমের চুক্তি হয়। এজন্য মালিকদের ৭ কোটি টাকা সাইনিং মানি দেয় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি। পরে রাজউকে ভবনের অনুমোদন চাইলে জানা যায়, ‘জাতির পিতা পরিবারের নিরাপত্তা আইন ২০০৯’-এর কারণে সুধাসদনের ২৫০ মিটারের মধ্যে ছয়তলার বেশি ভবন নির্মাণ করা যাবে না। এ নিয়ে মালিক ও ডেভেলপারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। বিরোধ চলার মধ্যেই ডেভেলপারের অনাপত্তি ছাড়াই ২০২৫ সালের ৪ জুন এক দিনে পাঁচটি কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্লটটি আকরামের নামে দলিল করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্ম সচিব মো. মনিরুজ্জামান মিঞা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, অফিস সহায়ক মনোতোষ দাস এবং সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সোহেল মিয়ার যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। পরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্লটটি ‘নিষ্কণ্টক’ দেখিয়ে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মনিরুজ্জামান ও সোহেল মিয়ার গ্রামের বাড়ি একই এলাকায়। এ সূত্রে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে প্লট জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মনিরুজ্জামান সোহেলকে ‘দুষ্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
মনিরুজ্জামান মিঞা বর্তমানে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ধানমন্ডির ২৫২ ও ১০২ নম্বর প্লট জালিয়াতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্লটের নথির আলোকে স্বাক্ষর করেছি, ফাইল থেকে কোনো নথি গায়েব কিংবা জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে সেটির সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জড়িত নয়।’ এদিকে গণপূর্তের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা ছাড়া কোনো ফাইলের নথি গায়েব কিংবা জালিয়াতির ক্ষমতা প্রশাসনিক কর্মকর্তার হাতে থাকে না।’
সরেজমিন জানা যায়, ২০২৫ সালের ৪ জুন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে ধানমন্ডির ১০২ (পুরাতন), ৩৩/এ (নতুন) নম্বর প্লটের অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অনুমোদনের আবেদন করেন আসেম মোকাদ্দাম। একই দিন মন্ত্রণালয় এর অনুমোদন দেয়। ওই দিনই প্লট হস্তান্তর ও নামজারির আবেদন এবং তার অনুমোদনও হয়। একই দিনে অনুমোদনের কপি পৌঁছে যায় ধানমন্ডি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। পরে ২১২৫ নম্বর সাব-কবলা দলিলে প্লটটি মো. আকরামের নামে হস্তান্তর করা হয়।
ডেভেলপার কোম্পানির চুক্তি ও অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির তথ্য গোপন করে এক দিনের মধ্যে নতুন পাওয়ার অনুমোদন, বিক্রয় পারমিশন, নামজারি ও বিক্রয় দলিল সম্পন্ন করে তৃতীয় পক্ষের কাছে প্লট হস্তান্তরে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে পেরে ডেভেলপার কোম্পানি ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর যুগ্ম সচিবের কাছে আবেদন করে। পরে ২৪ ডিসেম্বরের ২৬১ নম্বর স্মারকে শুনানি নোটিশ দেওয়া হলে ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফখরুল আলম শুনানিতে উপস্থিত হয়ে লিখিত আপত্তি জানান। তবে সেই আপত্তি নিষ্পত্তি না করেই ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ধানমন্ডির ১০২ (পুরাতন), ৩৩ (নতুন) নম্বর প্লটটি ‘নিষ্কণ্টক’ দেখিয়ে গেজেটভুক্ত করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য, এটা শুধু একটি দুর্নীতি ও প্রতারণা নয়, এটা একটি মহাদুর্নীতি ও মহাপ্রতারণা। এর দায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগ ও শাখার কর্মকর্তারা এড়াতে পারে না।
এদিকে, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ৩৫২/বি (পুরাতন), ২১ (নতুন), রোড ২৭ (পুরাতন), ১৬ (নতুন) নম্বর প্লটের লিজ দলিলে জমির পরিমাণ ১৮.২৫ কাঠা। তবে মেথর প্যাসেজসহ প্লটটির মোট জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২.৯১ কাঠা। অর্থাৎ লিজ দলিলের চেয়ে ৪.৬৬ কাঠা জমি বেশি। প্লটটি তিন অংশে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমাংশের মেথর প্যাসেজসহ ১২.৯১ কাঠা এবং ৫ কাঠার দুটি উপ-প্লট রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, প্লটের পূর্বাংশে ১০.২ কাঠা জমি রয়েছে, যা লিজ দলিলের চেয়ে ৩.৭৭ কাঠা বেশি। এর মধ্যে ১০.৫৯ কাঠা জমি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ধানমন্ডির পাশাপাশি খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকার ‘এ’ ও ‘বি’ ব্লকের নথিতেও পাওয়া গেছে নানা অসংগতি। বহু প্লটের মালিকানা নিয়ে রয়েছে জটিলতা। কোথাও বরাদ্দ দেওয়া হলেও লিজ দলিল হয়নি, আবার কোথাও খণ্ড জমির লিজ দলিলও সম্পন্ন হয়নি। এরপরও এসব ত্রুটিপূর্ণ প্লটকে ‘নিষ্কণ্টক’ দেখিয়ে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। গেজেটভুক্তির ক্ষেত্রে ভূমি শাখা-১ ও ২-এর অধীনে ধানমন্ডি ও খিলগাঁওয়ে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অধিশাখা-৮-এর নথিতে দেখা গেছে, খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকার বহু প্লট এখনো দখল বা লিজ দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে ‘এ’ ব্লকের এ/৫৪৭ নম্বর প্লটও রয়েছে।
এর মধ্যে দুই কাঠার এ/৫৪৭ নম্বর প্লটটি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বনানী করপোরেট শাখার কাছে দায়বদ্ধ। এরপরও প্লটটি ‘নিষ্কণ্টক’ হিসেবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, প্লটটির সামনে ব্যাংকের বড় সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা, প্লটটি ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ। চারপাশে বহুতল ভবন থাকলেও প্লটটিতে রয়েছে জরাজীর্ণ টিনশেড স্থাপনা।
গেজেট প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি প্লট ও ফ্ল্যাটের নথি পৃথকভাবে যাচাই করার মতো পর্যাপ্ত সময় ছিল না। কয়েক দশকে বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দ দেওয়া বিপুলসংখ্যক প্লট ও ফ্ল্যাটের নথি একসঙ্গে পর্যালোচনা করতে গিয়ে অনেক তথ্য যথাযথভাবে মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বিশেষ মহলের তৎপরতা ছিল। এর ফলে বিতর্কিত ও ত্রুটিপূর্ণ নথির কিছু প্লটও গেজেটে স্থান পেয়েছে। এসব অনিয়ম, জালিয়াতি ও অর্থ ভাগবাটোয়ারায় মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টার আশপাশের কয়েকজনও জড়িত।
জানা গেছে, রাজধানীর খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকায় কয়েক দিনের মধ্যে চার ধাপে ২ হাজার ২৩৭টি প্লট গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বনানীতে ৫৭৪টি, গুলশানে ১ হাজার ১৬১, উত্তরা এলাকায় ৬ হাজার ৬০৭, উত্তরা তৃতীয় পর্বের (সেক্টর-১৫, ১৬ ও ১৭) ৫ হাজার ২৮১, ধানমন্ডিতে ৫৯৬, নিকুঞ্জে ৬৩৪, শ্যামপুরে ১৪৯, ঝিলমিল প্রকল্পে ১ হাজার ১২ এবং পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৯ হাজার ৫০৪টি প্লট গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের (সেক্টর-১৮) ২ হাজার ৫১টি ফ্ল্যাটও গেজেটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের বিভিন্ন সরকারি ফ্ল্যাট প্রকল্পের ৭৩৯টি ফ্ল্যাট, মিরপুরের রূপনগর সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকার ১৫৩টি প্লট, মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের ৪৫টি বাড়ি এবং হাউজিং এস্টেটের ৪৩০টি প্লটও ‘নিষ্কণ্টক’ তালিকায় স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ৫ হাজার ৭১৬টি প্লট ও ৪৮টি ফ্ল্যাটসহ সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, গোপালগঞ্জ ও মাগুরার ২২৮টি, নড়াইল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও শরীয়তপুরের ১৯২টি, টাঙ্গাইলের ১৬৭, রাজশাহীর ১১৩, যশোরের ছয় এবং খুলনার চারটি প্লট গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ছয় ধাপে ৫৬ হাজার ৯৭৪টি প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি গেজেটভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে ২০০৬ সালেও জালিয়াতি ও ত্রুটির অভিযোগে প্লট ও ফ্ল্যাটের এমন একটি গেজেট প্রকাশের কয়েক মাস পর তা বাতিল করা হয়েছিল।
যে পদে গেজেটে ভুল, সুরাহা খুঁজতে দ্বারে দ্বারে মানুষ: তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করায় প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য পড়েছে আবেদনের হিড়িক। ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ৩৫১, ১৯৯, ১৪৮/বি, ৭২/এ, ৫২৯, ৭৮৮, ১২৪, ৩৭৭/এ, ৫০০/বি, ৩৮৭, ৭২১, ৭৩০, ৫৬৯, ১৭১/বি, ১৮৭/এ, ৩০১/বি, ৫৮৮, ৬৩৮, ৬০৭, ১৪৯/এ ও ৫২৪ নম্বরসহ বহু প্লটের পুরাতন ও নতুন নম্বর গেজেটে ভুলভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্লট মালিকদের ভোগান্তি কমাতে গেজেট প্রকাশ করা হলেও এখন পদে পদে নতুন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্লট হস্তান্তরের দলিল করা যেত। কিন্তু গেজেটে ভুল তথ্য থাকায় সংশোধনের জন্য এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দলিল নিবন্ধন ও নামজারি আটকে যাচ্ছে।
এ ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্লট-ফ্ল্যাট হস্তান্তরেও নতুন জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূল ফাইল সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে না থাকায় নথি যাচাই কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এতে দ্বৈত দলিল, ওয়ারিশন ফাঁকি ও জাল দলিল তৈরির সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন সংস্থার প্লট-ফ্ল্যাটের গেজেটকে কেন্দ্র করে দালালচক্রের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে দলিল সম্পাদনের সুযোগও তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো মন্ত্রণালয়ই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পত্তি বেহাত হতে দেয় না। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার ৫৬ হাজার ৯৭৪টি প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি ‘নিষ্কণ্টক’ তালিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। তার দাবি, দলীয় সরকারের আমলে ব্যর্থ হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মন্ত্রণালয় ও বাইরের একটি সিন্ডিকেট তাদের স্বার্থ হাসিল করেছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, তড়িঘড়ি করে ‘নিষ্কণ্টক তালিকা’ তৈরি করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আগে চূড়ান্ত লিজ ডিড সম্পন্ন হওয়ার আগেই আমমোক্তারনামার মাধ্যমে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্লট ও ফ্ল্যাট হাতবদল হতো। এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ফি ও চার্জ আদায় করত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। কিন্তু নতুন প্রজ্ঞাপনের কারণে এ খাতের রাজস্ব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
ফলে প্লট ও ফ্ল্যাট হস্তান্তর থেকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আয় কমে গেছে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাষ্ট্রীয় পরিত্যক্ত সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঘুষের বিনিময়ে ভুয়া আমমোক্তারনামা অনুমোদন করে মূল্যবান প্লট হাতিয়ে নিতে ‘নিষ্কণ্টক’ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় জালিয়াতির অভিযোগ রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২৫২ (পুরাতন)/৭১ (নতুন), সড়ক ১২/এ নম্বর প্লট নিয়ে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে শতকোটি টাকার এ প্লটটি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিনকে আহ্বায়ক এবং উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল ও রুবায়েত হায়াত শিপলুকে সদস্য করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তা জমা দিতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগে।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে কমিটির সদস্যরা ধানমন্ডি ২৫২ নম্বর প্লট পরিদর্শনে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে প্লটটি দখলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূমিদস্যুদের এক এজেন্টই তাদের ঘুরিয়ে প্লটটি দেখান। কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দায়মুক্তি দিতে দায়সারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
ধানমন্ডির ২৫২ নম্বর প্লটকে ঘিরে জালিয়াতির ঘটনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েবের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন উন্নয়ন অধিশাখা-৭ (বর্তমান ভূমি ব্যবস্থাপনা শাখা-১) থেকে বদলি হওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের যোগসাজশে ২০১০ সালের পরের প্রায় ১৬ বছরের প্লট-সংক্রান্ত নথি গায়েব করা হয়।
রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসার পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়ই তাকে পরিকল্পনা শাখায় বদলি করা হয়। ওই সময়ে উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর যুগ্ম সচিবের দায়িত্বে ছিলেন মো. মনিরুজ্জামান।
জানা গেছে, গেজেটে ২৫২ নম্বর (পুরাতন), ৭১ নম্বর (নতুন), সড়ক ১২/এ-এর ২০ কাঠা সরকারি প্লট অন্তর্ভুক্তির পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সোহেল মিয়া, তৎকালীন উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর অফিস সহায়ক মনোতোষ দাস এবং সদ্য বদলি হওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা প্লটটি ভূমিদস্যুদের বাগিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মন্ত্রণালয়ের মূল ফাইল থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলেন। পরে ২০১০ সালে পাওয়া আইন মন্ত্রণালয়ের একটি মতামতের নথি ব্যবহার করে অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালে প্লটটি সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রফিকুল ইসলামকে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা-৫-এ বদলির দুদিন পর একই শাখার নাজমুল হুদাকেও বদলি করা হয়। পরে ২০২৬ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন হলে নথি গায়েব ও গেজেটভুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্ত কমিটি না হলে এসব অনিয়ম ও গায়েব হওয়া নথির বিষয়টি আড়ালেই থেকে যেত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে কোনো রেকর্ড না পেয়ে তদন্ত দল গণপূর্ত অধিদপ্তরের দ্বারস্থ হয়। পরে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর সহযোগিতায় অধিদপ্তরে সংরক্ষিত ২৫২ নম্বর প্লটের গায়েব হওয়া ৫১ পৃষ্ঠার নোটশিট উদ্ধার করা হয়। ওই নথি থেকে অভিযোগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়—প্লটটি আত্মসাৎ ও ‘নিষ্কণ্টক’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করার উদ্দেশ্যেই মন্ত্রণালয়ের মূল ফাইল থেকে নোটশিট সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের গেজেটে ২৫২ নম্বর প্লটটি অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। এরপরও প্লটটি বাগিয়ে নিতে চক্রটিকে ‘সান্ত্বনা’ দিতে গেজেটে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশনা-সংবলিত একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসে। চিঠিতে তৎকালীন সিনিয়র সহকারী সচিব (বর্তমানে উপসচিব) মোহাম্মদ কায়সার খসরুর স্বাক্ষর ছিল।
চিঠিটির সত্যতা যাচাই করতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্ত্রণালয়ের রেজিস্ট্রি খাতা যাচাই করে জানান, এমন কোনো চিঠি তিনি দেননি। চিঠিটি রেজিস্ট্রি খাতাতেও তালিকাভুক্ত নয়। অভিযোগ রয়েছে, প্লটটি বাগিয়ে নিতে ভূমিদস্যুদের ‘সান্ত্বনা’ দিতে ভূমি ব্যবস্থাপনা শাখা থেকেই ভুয়া চিঠিটি তৈরি করা হয়। এ ঘটনায় সন্দেহের তীরও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের দিকে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ২৫২ নম্বর প্লটের গেজেটভুক্তির অনিয়মের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাইরের স্বার্থান্বেষী একটি গোষ্ঠী জড়িত।
প্লটের নথি গায়েবের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিতেও প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। পছন্দের শাখা বা অধিশাখায় পদায়নের জন্য সিন্ডিকেটের বাইরে থেকে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সুপারিশ এলে ফাইল আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
জানা গেছে, সম্প্রতি ভূমি ব্যবস্থাপনা শাখা-১-এ পদায়নের জন্য একজন সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তার সুপারিশ করা হলেও সেটি সংশ্লিষ্ট শাখায় আটকে যায়। একইভাবে আরও একাধিক সিনিয়র ব্যক্তিগত কর্মকর্তার পদায়নেও এমন ঘটনা ঘটেছে।
এসব বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর কালবেলাকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তড়িঘড়ি করে ৫৬ হাজার ৯৭৪টি প্লট গেজেটভুক্ত করার পেছনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে মন্ত্রণালয়ে বিভিন্নভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত করা হবে।’
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আমার সময়কালে প্লট ও ফ্ল্যাটের গেজেট প্রকাশ হয়নি। গেজেটে কোনো ত্রুটিপূর্ণ প্লট বা ফ্ল্যাট অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে তা ফের রিভিউ করা হবে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।’
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, ‘গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্লট ও ফ্ল্যাট বহুমূল্যবান। কাউকে সুবিধা দিতে তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করা হয়ে থাকতে পারে। এর পেছনে একাধিক চক্র কাজ করেছে। ফলে ভবিষ্যতে গেজেটভুক্ত সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘প্লটের গেজেট প্রকাশের আগে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এরপরও কীভাবে ত্রুটিপূর্ণ প্লট গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা খুঁজে বের করতে হবে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্তে অবশ্যই জানতে হবে—ঘটনাটি কেন ঘটল, কারা জড়িত।
তৌহিদুল হক আরও বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিসিএস কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিজস্ব জনবলও রয়েছে। সুযোগ বুঝে অসাধু দুপক্ষের কেউ কেউ যোগসাজশ করে অনিয়ম-দুর্নীতি করতে পারেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে দালালমুক্ত করা এ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনিয়ম ও জালিয়াতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলেই সরকার সফল হবে।’
কালবেলার সংবাদে নড়েচড়ে বসে গোয়েন্দা তদন্ত: রাজধানীর ধানমন্ডির আবাসিক এলাকার ২৫২ নম্বর (পুরাতন), ৭১ নম্বর (নতুন), রোড ২২ (পুরাতন), ১২/এ (নতুন) প্লটটি সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তি। অভিযোগ রয়েছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে শতকোটি টাকা মূল্যের এই সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ নিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালবেলায় ‘মন্ত্রণালয়ের উদারতায় শতকোটির জমি গায়েব’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে মন্ত্রণালয়। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। তদন্তে অনিয়মের তথ্য পাওয়ার পর ১৩ এপ্রিল প্লটটির গেজেট স্থগিত এবং ৩১ আগস্ট তা বাতিল করে সরকারি মালিকানা বহাল রাখা হয়।
তবে সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাই তদন্ত করায় সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি দেওয়ার প্রশ্নও উঠেছে।
এ অবস্থায় তদন্ত কমিটি মন্ত্রণালয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা শাখা-১ এ সংরক্ষিত প্লটটির মূল নথি থেকে ২০১০ সালের পরের নোটাংশ ও পত্রাংশ সরিয়ে ফেলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথি সরিয়ে ফেলার সঙ্গে জড়িত ‘দুষ্টচক্রকে’ গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে চক্রটিকে খুঁজে বের করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি এই জমি ব্যক্তিমালিকানায় দিতে প্রায় ১৯ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো নাম প্রকাশ করা হয়নি।