Image description

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি নিয়ে একটি জাহাজ কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে ভিড়েছে গতকাল বুধবার। আগামীকাল শুক্রবার আরো একটি কার্গো ভেড়ার কথা রয়েছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই কার্গো আসলে মহেশখালীর দুটো টার্মিনাল থেকে সর্বোচ্চ ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া যাবে। আর তাতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

গ্যাস সরবরাহ বাড়লে বন্ধ গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করা যাবে। ফলে দেশে গ্যাসের সাথে বিদ্যুতের সঙ্কটও কাটতে শুরু করবে। পুরোদমে সচল হবে কল-কারখানার উৎপাদনের চাকা। সিএিনজি ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতেও বাড়বে গ্যাসের সরবরাহ। চলতি মাসেই মোট ১০টি আমদানিকৃত এলএনজিবাহি জাহাজ আসার সিডিউল দেয়া হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী সবকটি কার্গো দেশে পৌঁছালে গ্যাস নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটবে বলে জানান পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। সরকারের এসব উদ্যোগে জ¦ালানি খাতে স্বস্তি ফেরার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা চলতি মাসে যে দশটি এলএনজি কার্গো আসার সিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো যথাসময়ে আসলে দেশে জ্বালানি সঙ্কট কেটে যাবে।

বিগত ২১ জুলাইয়ের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ। ওইদিন মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে রহস্যজনক এক আগুনের পর দেশে গ্যাস সঙ্কট শুরু হয়। এরপর বিকল টার্মিনাল সচলে দীর্ঘসূত্রতা সেইসাথে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো যথাসময়ে না আসায় সঙ্কট প্রলম্বিত হয়। গ্যাস বিদ্যুতের সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করে। কল-কারখানায় উৎপাদনে রীতিমত ধস নামে। বাসাবাড়ি এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য হাহাকার পড়ে যায়। তবে এলএনজি জাহাজ আসায় গত ২২ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে। তখন থেকে দুটি টার্মিনালের সরবরাহ ৭০০ থেকে ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে রয়েছে। নতুন কার্গো এলে সরবরাহ ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির একজন কর্মকর্তা জানান, সউদী আরামকোর মারিয়া এনার্জি নামে জাহাজটি থেকে সামিটে এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তি কার্গোটি থেকে এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হবে এক্সিলারেট টার্মিনালে। নতুন এলএনজি যোগ হওয়ায় সামিটের গ্যাস সরবরাহ ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনাল থেকে এখন সরবরাহ কমে ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। শুক্রবার নতুন কার্গো যোগ হলে এই টার্মিনাল থেকেও সাড়ে ৫০০ মিলিনয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া যাবে।

কর্মকর্তারা আশা করছেন, তখন দুই টার্মিনাল থেকে সর্বোচ্চ ১১০০ মিলিনয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশে গ্যাস সঙ্কট কেটে যাবে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এক লাখ ৭৪ হাজার ঘনফুট তরলীকৃত গ্যাস ধারণক্ষমতার এই জাহাজটি সকালে টার্মিনালে ভিড়ে। আগস্টের শেষ সপ্তাহে জাহাজটি অস্ট্রেলিয়ার ব্যারো আইল্যান্ড থেকে এলএনজি কার্গো নিয়ে বাংলাদেশের মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল অভিমুখে যাত্রা শুরু করে।
এদিকে ১০ সেপ্টেম্বর সউদী আরামকোর আরো একটি কার্গো টার্মিনালে ভেড়ার সিডিউল রয়েছে। এপর ১৩ সেপ্টেম্বর পসকো, ১৬ সেপ্টেম্বর গানবোর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গানবোর কোম্পানির আরো একটি কার্গো আসার সূচি ঠিক করা হয়েছে। চলতি মাসে আরো দুটি কার্গো আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। নতুন করে আরো এলএনজি আমদানি করতে দরপত্র আহ্বান করেছে পেট্রোবাংলা। গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানবাদি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারি জাহাজ চলাচলে কোনরকম অসুবিধা হবে না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাথে সাক্ষাত শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন। এর আগে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় হরমুজ প্রণালিতে বাধার কারণে বাংলাদেশে এলএনজি কার্গো সরবরাহ বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল।

দেশে গ্যাসের চাহিদা তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে গেলেও সরবরাহ পাওয়া যায় ২৬’শ থেকে ২৭’শ মিলিয়ন ঘনফুট। গতকাল সরবরাহ মিলেছে দুই হাজার ৩৩২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহকৃত গ্যাসের পরিমাণ ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাসের অভাবে চট্টগ্রামের চারটিসহ দেশে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। আর এ কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতিও বেড়ে গেছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এ সঙ্কট কাটবে এমন প্রত্যাশা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের।

আরো ৪ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত
চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আরও ৪ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মন্ত্রিসভার ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন চার কার্গোর মধ্যে বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই থেকে এক কার্গো আনা হবে। সেই কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয়েছে ২৮ দশমিক ০৩ ডলার। আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয়েছে ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার। আর ভাইটল এশিয়ার কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ ধরা হয়েছে ২৬ দশমিক ৬৭ ডলার।

এছাড়া আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে অপর কার্গৌ অবশ্য কম মূল্যে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে, ওই কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ দাম ধরা হয়েছে ২৩ দশমিক ৯৮ ডলার।