কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল মৌজার ১৮৪ শতক জমির মালিকানায় রয়েছেন ছয়জন। এর মধ্যে আবদুল ছত্তারের ০.৪৪ শতক জমির ওয়ারিশ হিসাবে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে বড়ঘোপ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়েছিলেন আরিফুল ইসলাম শিমুল।
কিন্তু তাকে অন্য ৫ জনের অংশের ভূমি করও পরিশোধ করতে হয়েছে। বড়ঘোপ ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন শুরুতে তার কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন।
অফিসে আসা-যাওয়া করতে করতে অবশেষে গিয়াস উদ্দিন ভুক্তভোগী শিমুলকে বলেন, ‘আমি কি লিখছি, তা আপনার জানার দরকার নেই। আমি যা পারি ভূমিকর দিয়ে দেব, আমাকে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে।’
২০ হাজার টাকা নিয়ে তিনি শিমুলকে ৪ হাজার ৭৮৯ টাকার কর আদায়ের রসিদ দেন। বাকি ১৫ হাজার ২০০ টাকা তিনি নিজের পকেটে ভরেন। শুধু ভূমি উন্নয়ন করের ক্ষেত্রে নয় বড়ঘোপ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রতিটি সেবার বিনিময়ে তাকে মোটা অংকের ঘুস দিতে হয়।
করের রসিদে দেখা যায়, আলী আকবর ডেইল মৌজার ৪০২ নম্বর খতিয়ানের ৭৮০, ১১৯৮, ১১৮৩ দাগের মালিক যথাক্রমে আমজাদ আলী, মেহের নেগার, মেহের মানগিছ, জাহারা বেগম, আবদুল আলম ও আবদুল ছত্তার। পুরো খতিয়ানের ১৮৪ শতক জায়গায় ২৬২৭-০০০৭৮৫৩৩২১ চালান মূলে তিন বছরের ৪ হাজার ৭৮৯ টাকা বকেয়া কর পরিশোধ দেখিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন।
আরিফুল ইসলাম শিমুল যুগান্তরকে বলেন, ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা শুরুতেই আমাকে বলছেন ভূমিকর হিসাবে তিনি যা দিয়ে দেবেন, সেটা মেনে নিতে হবে। তাই আর তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করি নাই।
শিমুল আরও বলেন, আমার দেওয়া পুরো টাকা যদি ভূমি কর হিসাবে পরিশোধ করত তাহলে ১২ বছরের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ হতো। কিন্তু তিনি সেটা না করে নিজের পকেটে ভরার জন্য মাত্র তিন বছরের কর পরিশোধ দেখিয়েছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে গিয়াস উদ্দিনকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেনি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে টেক্স পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান কল না ধরায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, মো. আব্দুল মান্নানকে ফোন দেওয়া হয়। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ভূমি কর অনলাইনে আদায় করা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউএনও-এসিল্যান্ড আছে তাদের সঙ্গে আলাপ করেন। এরপর তিনি মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।