Image description

পটুয়াখালীর দশমিনায় এক লাখ টাকায় দেড় বছরের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়া সেই মারুফ মুন্সি মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। মাদকের টাকার জন্য তিনি স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মারুফ উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি কাঠমিস্ত্রি। তার বাবা মফিজ মুন্সি ও মা মাহফুজা বেগম। প্রায় চার বছর আগে সাভারের মাহাবুব গাজীর মেয়ে বৃষ্টি আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। ২০২৫ সালের ১১ মে তাদের ঘরে জন্ম নেয় ছেলে জাহিদুল ইসলাম মুসা।

স্থানীয়রা জানান, বিয়ের পর থেকেই মারুফের সংসারে কলহ লেগে থাকত। মাদকাসক্তির কারণে স্ত্রীকে মারধর করতেন তিনি। তার আচরণ ও নির্যাতন থেকে বাবা-মাও রেহাই পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে প্রায় দেড় মাস আগে সন্তানকে রেখে বাবার বাড়ি চলে যান বৃষ্টি। পরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গত শনিবার মারুফ তার সন্তানকে উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। ওই টাকায় তিনি একটি ‘আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স’ কিনেছেন।

এ ঘটনায় সামনে এসেছে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা একটি চুক্তিপত্র। নথিতে প্রথম পক্ষ হিসেবে মারুফ (২২) এবং দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে ইমরান (২৮)-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। চুক্তিপত্রে শিশু মুসাকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে দ্বিতীয় পক্ষের কাছে ‘দত্তক’ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রবিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে মারুফকে আটক করে পুলিশ। একই সঙ্গে শিশু মুসাকে উদ্ধার করে দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়।

শিশু মুসার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাংক হিসাব খোলাসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মাদকাসক্ত মারুফকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি সন্তানকে বিক্রির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।