শরীয়তপুরের ডামুড্যার আলহাজ্ব ইমাম উদ্দিন মডেল উচ্চ বিদ্যালয় উপজেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব অর্জন করেছিল ২০২২ সালে। প্রতিষ্ঠানটির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা জেএসসি, এসএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষায় বরাবরই ভালো ফল করে আসছে। তবে এখনো জাতীয়করণ বা সরকারিকরণের আওতায় আসেনি ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি।
বিষয়গুলো নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের কথা হয় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনের সঙ্গে। আক্ষেপ করে বলেন, ‘বর্তমানে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের জন্য চিঠি ইস্যু হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের ডিও লেটার বা সুপারিশের প্রেক্ষিতে যে কোনো প্রতিষ্ঠানকেই সরকারি করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, ফলাফল, মান কেমন সেগুলো যাচাই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা দরকার; তা না হলে বৈষম্য তৈরি হবে।’
কুষ্টিয়ার কুমারখালী এম এন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. তৌহিদুল ইসলাম বলছিলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানটি ১৮৫৬ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। উপজেলা পর্যায়ে ফলাফলে সব সময় এগিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। সরকারি হওয়ার সব যোগ্যতা পূরণ করলেও জাতীয়করণ করা হয়নি। আক্ষেপ নিয়ে এই শিক্ষক জানান, ‘মন্ত্রী-এমপিদের ডিও লেটার বা সুপারিশের ভিত্তিতে যেনতেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগ্যতা রয়েছে কিনা সেটি যাচাই করা দরকার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ন্যায় এভাবে জাতীয়করণের উদ্যোগ সঠিক হচ্ছে কিনা সেই প্রশ্ন করা দরকার।’
তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, রাজধানী তো বটেই, অনেক জেলা শহরেও ডজন ডজন প্রতিষ্ঠান শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করিয়েছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের অগণিত শিক্ষার্থীরা পেয়েছে জিপিএ-৫। শিক্ষার মান, ফলাফল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানও জাতীয়করণের তালিকায় স্থান পায়নি। অথচ তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা কিংবা প্রত্যাশিত ফল না করা কিছু প্রতিষ্ঠান তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ পড়ার পেছনে তদবির ও প্রভাবশালীদের সুপারিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গনঅভ্যুত্থানের পর চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা সরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সরকারিকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৪টি প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অথচ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় দেড় বছরে মাত্র ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা সরকারিকরণ করেছিল। যেগুলোর অধিকাংশই উপজেলায় একমাত্র অথবা শিক্ষার মান ও ফলাফলে এগিয়ে ছিল।
রাজধানী তো বটেই, অনেক জেলা শহরেও ডজন ডজন প্রতিষ্ঠান শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করিয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ সংখ্যাও অগণিত। শিক্ষার মান, ফলাফল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানও জাতীয়করণের তালিকায় স্থান পায়নি। অথচ তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা কিংবা প্রত্যাশিত ফল না করা কিছু প্রতিষ্ঠান তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ পড়ার পেছনে তদবির ও প্রভাবশালীদের সুপারিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোনো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা সরকারিকরণ করতে হলে এটি এমপিওভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটিতে প্যাটার্নভুক্ত শিক্ষক থাকা, শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো হওয়া, এলাকায় আর কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান না থাকার বিষয়গুলো প্রধান্য পায় সরকারিকরণের ক্ষেত্রে। আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাউশি বোর্ডের মাধ্যমে একটি তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি সরকারি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয়করণ হওয়া কিংবা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাইপলাইনে থাকা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী এবং এমপিদের সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছে। তবে দুটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবনের তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ইতোমধ্যে জাতীয়করণ হয়েছে। তবে এই প্রতিষ্ঠানটি মানবিক বিবেচনায় জাতীয়করণ করা হয়েছে।
‘তদবির-সুপারিশের ভিড়ে অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠান সরকারি হচ্ছে। লোকাল নেতাদের চাপে মন্ত্রি-এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সুপারিশ পাঠান। সুপারিশের ফলে অনেক অযোগ্য প্রতিষ্ঠানও সরকারি হয়ে যায়। এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার।’ -অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ বড় ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে পড়ে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, ভৌগলিক প্রয়োজন কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করা হলে তা সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্বচ্ছ ও অভিন্ন নীতিমালা ছাড়া শুধু ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালীদের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করা হলে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে।
তাদের মতে, প্রভাবশালীদের সুপারিশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের ফলে বৈষম্য তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের সংস্কৃতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে এ ধরনের তদবির ও সুপারিশের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। একইসঙ্গে যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারিকরণ থেকে বঞ্চিত হবে। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে নেওয়া দরকার।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এই প্র্যাকটিস ছিল জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘তদবির-সুপারিশের ভিড়ে অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠান সরকারি হচ্ছে। লোকাল নেতাদের চাপে মন্ত্রি-এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সুপারিশ পাঠান। সুপারিশের ফলে অনেক অযোগ্য প্রতিষ্ঠানও সরকারি হয়ে যায়। এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করতে একটি শক্তিশালী নীতিমালা প্রয়োজন জানিয়ে এ শিক্ষাবিদ বলেন, ‘প্রকৃত পক্ষে কোন প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি হওয়া দরকার তার একটি ম্যাপিং করা প্রয়োজন। এমপিরা নিজের বাড়ির পাশের প্রতিষ্ঠান সরকারি করতে সুপারিশ করেন। দেখা যায় একই এলাকায় একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলোর ফলাফল খুবই খারাপ; অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীও পায় না।’
বিষয়টি নিয়ে ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই বান্দরবানের থানচির তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়। এই প্রতিষ্ঠান সরকারি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রতিষ্ঠানটি সরকারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন।
বিএনপি সরকার গঠনের পর চলতি বছরের ২০ এপ্রিল বগুড়ার এক সমাবেশে গাবতলীতে অবস্থিত শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই ঘোষণার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কলেজটি সরকারি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমানে এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সরকারি করা হয় গত ২৫ আগস্ট। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নামে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই এলাকার এমপি সরকারে প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ২৭ আগস্ট বগুড়ার গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ‘গাবতলী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারিকরণ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পৃথক নির্দেশনায় ভোলার তিনটি প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- চরফ্যাশনের ফাতেমা-মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়, চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মনপুরার সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
জানা গেছে, গত ১ জুলাই ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের দাবিতে লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতিষ্ঠান দুটি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. মো. সাইমুম পারভেজ শিবগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিষ্ঠান দুটির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২১ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত তালিকায় ১৯টি কলেজ জাতীয়করণের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য যাচাই করে সরকারিকরণ কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
সরকারি হতে অপেক্ষার তালিকায় থাকা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বগুড়ার শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ, বরিশালের শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ, মাদারীপুরের সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ, নাটোরের গোপালপুর ডিগ্রি কলেজ, পটুয়াখালীর আবদুল করিম মৃধা কলেজ, সিরাজগঞ্জের হাজী ওয়াহেদ-মরিয়ম কলেজ, বরিশালের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজ, বগুড়ার মহাস্থান মহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজ, ফরিদপুরের নবকাম পল্লী কলেজ, ভোলার করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ, মাগুরার কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজ ও আমিনুর রহমান ডিগ্রি কলেজ, পাবনার কাশিনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ, সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি/অনার্স কলেজ ও সুজানগর নিজাম উদ্দিন আসগর আলী ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুরের কালিয়াকৈর কলেজ এবং ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজ।
জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তালিকায় থাকা পাবনার সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৫ সালের এইচএসসিতে ২০৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র ১১১ জন উত্তীর্ণ হয়। পাসের হার ৫৩.১১ শতাংশ। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ পায়নি।
জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ থেকে ৪ জন, এমনকি না পাওয়া প্রতিষ্ঠানও সুপারিশের তালিকায়
জাতীয়করণ হওয়া কিংবা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তালিকায় থাকা কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোঁজ নিয়েছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। প্রতিষ্ঠানগুলোর পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে ‘সন্তোষজনক-অসোন্তষজনক’ নানা তথ্য পাওয়া গেছে।
এই তালিকায় থাকা একটি প্রতিষ্ঠান গাজীপুরের কালিয়াকৈর কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৬৭৩ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৪০১ জন পাস করেছে। ফেলের সংখ্যা ২৭২। পাসের হার ৫৯.৫৮% শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল মাত্র ৪ জন। ২০২৫ সালে ৬১২ জনের মধ্যে মাত্র ২৪০ জন পাস করেছে; পাসের হার ৩৯.২২%, জিপিএ-৫ ছিল ২ জন।
জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তালিকায় থাকা পাবনার সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি কলেজের বিগত দুই বছরের এইচএসসির ফলাফলও আশানুরূপ নয়। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৫৪ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিল ২১১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৪ জন। তবে ২০২৫ সালের এইচএসসিতে ২০৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র ১১১ জন উত্তীর্ণ হতে পেরেছিল। পাসের হার ছিল ৫৩.১১ শতাংশ। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ পায়নি।
বগুড়ার শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজে ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৩০৭ জনের মধ্যে ২৭০ জন পাস করে, পাসের হার ৮৭.৯৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১২ জন। ২০২৫ সালে ২৬৪ জনের মধ্যে মাত্র ১১৫ জন পাস করে, পাসের হার ৪৩.৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল মাত্র ৩ জন।
বগুড়ার গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১৯৪ জনের মধ্যে ১৫৮ জন পাস করে। পাসের হার ৮১.৪৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩২ জন। ২০২৫ সালে ২০৭ জনের মধ্যে ১৬৬ জন পাস করে, পাসের হার ৮০.১৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৫ জন। ২০২৬ সালে ২১৯ জনের মধ্যে মাত্র ১৩২ জন পাস করে, পাসের হার ৬০.২৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১২ জন।
‘জাতীয়করণের জন্য নীতিমালা প্রয়োজন। এটি থাকলে তখন সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা যায়। তবে কোনো সরকারই এই নীতিমালা করতে ইচ্ছুক নয়। কেননা নীতিমালা না থাকার সুযোগ সরকার যে কোনো প্রতিষ্ঠানকেই সরকারি করতে পারছে।’
এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জাতীয়করণের জন্য নীতিমালা প্রয়োজন। এটি থাকলে তখন সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা যায়। তবে কোনো সরকারই এই নীতিমালা করতে ইচ্ছুক নয়। কেননা নীতিমালা না থাকার সুযোগ সরকার যে কোনো প্রতিষ্ঠানকেই সরকারি করতে পারছে।’
সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।