দেশের মহানগরীতে থাকা বেকার যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং শিখিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার। এজন্য ৬৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মহানগরীর কর্মহীন ৫০ হাজার ১০০ যুব ও যুব নারীকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণেই খরচ হবে মোট ব্যয়ের ৯৮ শতাংশ অর্থ। সেই হিসেবে ৩ মাসের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে জনপ্রতি খরচ হবে ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। অথচ একই অধিদপ্তরের চলমান একটি প্রকল্পে জনপ্রতি খরচ হচ্ছে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা। বর্তমান এআইয়ের যুগে ফ্রিল্যান্সিং শিখিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির নামে ব্যয়বহুল এমন উদ্যোগকে ভুল পরিকল্পনা বলে প্রশ্ন তুলেছেন প্রযুক্তিবিদরা।
সম্প্রতি ‘দেশের সকল মহানগরীতে কর্মহীন যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০৩১ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে দেশের ১৩টি মহানগরীর মোট ৫০১টি ওয়ার্ড। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কর্মপ্রত্যাশী বেকারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ১৮-৩৫ বছর বয়সী যুবশক্তি মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, যা একটি বিশাল সুযোগ। সঠিক দক্ষতার অভাবে এই সম্ভাবনাময় যুবশক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। মহানগরীগুলোয় বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষিত বেকারদের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী অনলাইন ফ্রিল্যান্সার সরবরাহে শীর্ষ সারির একটি দেশ (বর্তমানে প্রায় ৬.৫ থেকে ৭ লাখ ফ্রিল্যান্সার বাংলাদেশে কাজ করছেন)। এই বিশাল বাজারে আমাদের শিক্ষিত তরুণদের যুক্ত করার উদ্দেশ্যেই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে
প্রকল্পের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, দেশের ১৩টি মহানগরীর কর্মপ্রত্যাশী যুবদের আধুনিক ও চাহিদাভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। যুব ও যুব নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করা, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মার্কেটপ্লেসে পেশাদারভাবে কাজ করার উপযোগী সফল আইটি উদ্যোক্তা তৈরি করা এবং ৫ বছরে দেশের ১৩টি মহানগরীর ৫০ হাজার ১০০ জন যুব ও যুবনারীকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে দক্ষ করা।
পাঁচ বছরের মেয়াদে প্রকল্পের আওতায় মোট ২ হাজার ৪টি ব্যাচে ভাগ করে ৫০ হাজার ১০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ৩ মাস মেয়াদি প্রতি ব্যাচে থাকবে ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থী। প্রশিক্ষণ বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ৬৬৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৯৮ শতাংশ অর্থ খরচ হবে শুধু প্রশিক্ষণ খাতে। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা, সম্মানি, আপ্যায়ন এবং গাড়ি ও বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ বাবদ বাকি ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
তবে প্রকল্প পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রশিক্ষণে অনেক বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, তিন মাস মেয়াদি ২৫ জনের প্রতিটি ব্যাচের প্রশিক্ষণের পেছনে খরচ ধরা হয়েছে ৩৩ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসের কোর্সে জনপ্রতি খরচ হবে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬২০ টাকা। তিন মাসের কোর্সের জন্য প্রতি ব্যাচ এবং শিক্ষার্থীর পেছনে যে পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়েছে, তা একই মন্ত্রণালয়ের চলমান অন্য একটি প্রকল্পের খরচের তুলনায় অনেক বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর একই ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্প (১ম সংশোধন)’ চলমান রয়েছে। ওই প্রকল্পে ৩৬ হাজার যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সেখানে প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর পেছনে সরকারের খরচ হচ্ছে ১ লাখ ৩ হাজার ২০০ টাকা। অথচ প্রস্তাবিত মহানগরী প্রকল্পে প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর পেছনে ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬২০ টাকা। অর্থাৎ একই অধিদপ্তরের একই প্রশিক্ষণে ব্যয় ৩০ হাজার ৪২০ টাকা বাড়িয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ ব্যয়ের বাইরে প্রকল্পের প্রশাসনিক ও আনুষঙ্গিক খাতের খরচগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলমান ৬৪ জেলা প্রকল্পের তুলনায় প্রস্তাবিত মহানগরী প্রকল্পে কর্মকর্তাদের সুযোগ-সুবিধা ও বেতন কয়েকগুণ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে। ব্যয় পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলমান জেলা প্রকল্পে ২ জন কর্মকর্তার বেতনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা, অথচ প্রস্তাবিত প্রকল্পে মাত্র ১ জন কর্মকর্তার বেতনের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা। জেলা প্রকল্পে ১ জন কর্মচারীর বেতনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৯ লাখ ১১ হাজার টাকা, নতুন প্রকল্পে ১ জন কর্মচারীর বেতনের জন্য চাওয়া হয়েছে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ একই পদের কর্মচারীর বেতন প্রায় দ্বিগুণ চাওয়া হয়েছে।
জেলা প্রকল্পে পুরো মেয়াদে কর্মকর্তাদের জন্য থোক হিসেবে সম্মানী বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। অথচ প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পে কর্মকর্তাদের থোক সম্মানী বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ২ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। সম্মানি খাতের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৮ গুণের বেশি। বাড়ি ভাড়া ভাতা হিসেবে ৬০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং শিক্ষা ভাতা হিসেবে ২০ লাখ ৯২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। একটি মাইক্রোবাস ভাড়ার জন্য চাওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
প্রশ্ন উঠেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এখতিয়ারসহ প্রস্তাবনার নানা অসংগতি। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অধিদপ্তরটি সাধারণত যুবদের প্রথাগত কারিগরি বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ (যেমন দর্জি বিজ্ঞান, ড্রাইভিং, হাঁস-মুরগি পালন ইত্যাদি) দিয়ে থাকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ও জটিল আইটি মডিউল তদারকি বা পরিচালনা করার মতো কোনো দক্ষ কারিগরি জনবল, বিশেষায়িত আইটি টিম কিংবা মনিটরিং কাঠামো যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নেই।
প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এআইর যুগে ফ্রিল্যান্সিং শেখাতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ৬৮৩ কোটি টাকার প্রকল্প সম্পূর্ণ অর্থ অপচয় এবং লুটপাটের আয়োজন। অধিদপ্তর নিজে প্রশিক্ষণ না দিয়ে সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি বেসরকারি আইটি ফার্মগুলোর হাতে অর্পণ করবে। এর অর্থ হলো, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এখানে শুধু একটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ এ প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু আইটি ফার্মকে আয়ের সুযোগ তৈরি করা হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের একাধিক নীতিগত ও আইনি ত্রুটিও উঠে এসেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, মহানগরীগুলোতে প্রশিক্ষণভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ সাধারণত অনধিক ৩ বছর হতে হবে। কিন্তু যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ প্রস্তাব করেছে ৫ বছর। প্রস্তাবিত ডিপিপিতে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ বা তাদের ট্র্যাকিং করার কোনো এক্সিট প্ল্যান বা টেকসইকরণ রূপরেখা রাখা হয়নি।
এ ছাড়া এরই মধ্যে আইসিটি বিভাগের অধীনে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার অন্যতম উদাহরণ—‘আইটি ট্রেইনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (১৬টি)’। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ বিশাল প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে আইসিটি বিভাগ বা হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের পূর্ব-সমন্বয় বা আলোচনা করেনি। প্রশিক্ষণের মডিউল প্রস্তুত, প্রশিক্ষকদের দক্ষতা মূল্যায়ন কিংবা কোর্স কারিকুলাম নির্ধারণে কোনো কারিগরি কমিটির সংশ্লিষ্টতা রাখা হয়নি। আইটি প্রশিক্ষক নির্বাচন, প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড এবং প্রশিক্ষণের পর তাদের উপার্জনের ডাটাবেজ সংরক্ষণের বাস্তব কোনো রূপরেখা এ প্রকল্পে নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রশিক্ষণ ব্যয়সহ নানা অসংগতি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রশ্নের মুখে পড়তে যাচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত প্রকল্পের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের নানা অসংগতি নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ব্যয়সহ নানা বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হবে।
ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে অত্যধিক ব্যয় প্রস্তাবসহ অসংগতির বিষয়ে জানতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিকল্পনা উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের ব্যবহৃত ফোন নম্বরে কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে পরিকল্পনা উইংয়ের সহকারী পরিচালক ও প্রকল্প প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা মো. শওকত আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্ন শুনে এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। বরং ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রকল্প প্রস্তাবনার বিষয়টি অবহিত করে মন্তব্য জানতে চাইলে ফ্রিল্যান্সিং শেখাতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ৬৮৩ কোটি টাকার প্রকল্পকে সম্পূর্ণ অর্থ অপচয় এবং লুটপাটের আয়োজন বলে মন্তব্য করেন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর। তিনি কালবেলাকে বলেন, বর্তমানে ডাটা এন্ট্রি, সাধারণ গ্রাফিক্স ডিজাইন বা কোডিংয়ের মতো যে কাজগুলো বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা মূলত করতেন, সেগুলো এখন এআই দিয়ে মানুষ ঘরে বসেই করে নিচ্ছে। তখন এত বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং শেখানোর সিদ্ধান্ত স্রেফ সরকারি টাকা লোপাটের ফন্দি ছাড়া আর কিছুই নয়। এ চরম সংকটের সময়ে সরকার কেন প্রায় ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প পাস করতে চাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রশিক্ষণের অবিশ্বাস্য ব্যয় নিয়ে ফাহিম মাশরুর বলেন, সাধারণত বেসরকারি আইটি ফার্ম বা অনলাইনে যে কোনো ধরনের আইটি দক্ষতার প্রশিক্ষণ নিতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। সেখানে ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এই অতি-মূল্যায়িত বাজেটটি করা হয়েছে কেবল টাকা লোপাটের জন্য। তিনি বলেন, এই প্রকল্পে ৫০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তার মধ্যে ৫ হাজার তরুণও শেষ পর্যন্ত ফ্রিল্যান্সার হতে পারবে না । আগেও যেভাবে লুটপাটের জন্য এসব প্রজেক্ট নেওয়া হতো, এখনো সেই একই উদ্দেশ্যে এটি করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল; কিন্তু তার কোনো বাস্তব প্রভাব পড়েনি। দেশে বর্তমানে যারা সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং করছেন, তাদের সিংহভাগই কোনো সরকারি প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেননি। তারা নিজেদের চেষ্টায় এবং অনলাইনে কাজ শিখেছেন। তার দাবি, অতীতে লাখের বেশি তরুণকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও তাদের ৯০ শতাংশের বেশি এখন আইটি খাতের সঙ্গে যুক্ত নেই। অনেকে কেবল প্রশিক্ষণে আসার দৈনিক ভাতার টাকার লোভে অংশ নিয়েছিল, শেখার আগ্রহ থেকে নয়। ফলে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের প্রায় ৭০০ কোটি টাকাও একইভাবে সম্পূর্ণ পানিতে যাবে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই প্রযুক্তিবিদ বলেন, আইটি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদারকির জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় রয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মতো একটি প্রথাগত বৃত্তিমূলক সংস্থাকে দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করানোর সিদ্ধান্ত ভুল। তাদের বরং মুরগির খামার, কৃষি উৎপাদন কিংবা বর্তমানে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ (সোলার এনার্জি) খাতের মতো বাস্তবসম্মত ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত, যেখানে কর্মী বা দক্ষ মানুষের তীব্র সংকট রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১০-১৫ বছর ধরে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ভেন্ডর বা ঠিকাদার চক্র এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে বারবার এই ধরনের ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্প বের করে নিয়ে আসছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদেরও এ ধরনের ফাঁদ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু সেই পরামর্শ উপেক্ষিত হয়েছে।