মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডের রায় হাইকোর্টে বহাল থাকায় সন্তুষ্ট তার মা আয়েশা খাতুন। রায় শুনে তিনি জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আয়েশা বলেছেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে আমাদের বিচার চাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে উচ্চ আদালত। আমি চাই দ্রুত এই রায় কার্যকর হোক। হিটু শেখের ফাঁসি হোক। আমার মেয়ের যে মৃত্যুযন্ত্রণা, সেই যন্ত্রণা যেন হিটুও টের পায়।’
আজ সোমবার দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন।
আছিয়ার মা বলেছেন, ‘যেদিন এই রায় পুরোপুরি কার্যকর হবে, সেদিন আমরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করব। আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। হিটু শেখকে ১০০ বার ফাঁসি দিলেও আমাদের এ কষ্ট কমবে না।’
আছিয়ার মায়ের অভিযোগ, হিটু শেখের ছেলেরা এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। এতে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
আলোচিত এ মামলায় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ১৭ মে রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখের (৪৭) মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় তাকে।
বিচারিক আদালতের রায়ে বাকি তিন আসামি খালাস পান। তারা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, তার ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগম।
বিচারিক আদালতে রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য হাইকোর্টে আসে মামলাটি। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামি আপিলও করেন।
হাইকোর্টে আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
আছিয়ার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুরে। গত বছরের মার্চের শুরুতে সে মাগুরা শহরে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানেই ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি।
ওই বছরের ৬ মার্চ তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরা আড়াইশ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান তার বোনের শাশুড়ি। এরপর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সবশেষে ঢাকা সিএমএইচে নেওয়া হয় শিশুটিকে। সেখানে ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
দুদিন পর ৮ মার্চ আছিয়ার মা চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। বিক্ষুব্ধ জনতা তখন আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। বিচারের দাবিতে সারা দেশে নানা কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন।
এক মাসের মধ্যেই গত বছরের ১৩ এপ্রিল মাগুরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ২৩ এপ্রিল শুরু হয় বিচার। দুমাস পর ১৭ মে রায় দেন মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।
গত বছরের ২১ মে এ মামলার নথি উচ্চ আদালতে আসে। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয় মামলাটি।