সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সেনাবাহিনীর একজন বরখাস্ত কর্মকর্তা এবং এক অভিনেত্রীর নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। ডিভাইস মিসিংয়ের সূত্রে ১৪ বছর পর এমন তথ্য উঠে আসে।
রোববার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের একাধিক কর্মকর্তা এমন তথ্য নিশ্চিত করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে ভিন্ন মামলার সিডিআর পর্যালোচনায় হঠাৎ করেই সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়ে যায়।
১৪ বছরে তিনটি সংস্থা কোনো কুল কিনারা করতে না পারলেও এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবার নতুন তথ্য সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
তারা অন্য মামলার তদন্ত করার সময় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ক্লু পেয়েছে। সেই ক্লুতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বেরও কানেকশনের কথা উঠে এসেছে।
বিডিআর হত্যাযজ্ঞ বা কোনো স্পর্শকাতর ডকুমেন্টেশন ছিল
পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে প্রসিকিউশন সন্দেহ করছে, সাগর-রুনির কাছে বিডিআর হত্যাযজ্ঞ অথবা ওই সময়কার সরকারের কোনো স্পর্শকাতর কোনো ডকুমেন্টেশন ছিল। যেটা একটা ডিস্ক রিলেটেড বা টেপ রিলেটেড বা কোনো মেমোরি রিলেটেড।
এসব তথ্য সামনে আসার পর রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ ও মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের আলী রোমান।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা।
এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত ভার আসে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর। এর দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব)।
পরে বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্তের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের আদেশ দেন হাইকোর্ট। বর্তমানে পিবিআই মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাগর-রুনির তদন্তটা আমাদের তদন্ত সংস্থা করছে না। এটা অন্য সংস্থা পিবিআই করে। তবে আমরা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হয়ত ক্লু পেয়ে যাই। যেমনটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যা নিয়ে মেজর মোজাফফরের বিষয়ে কিছুটা ক্লু পেয়েছিলাম।
সাগর-রুনির ব্যাপারেও ক্লু পেয়েছি সেটার নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না। তবে এটুকু বলতে পারি একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তার সঙ্গে সাগর-রুনির এই ঘটনার সঙ্গে কানেকশন পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখছি। তার ওপর আমাদের নজরদারি আছে।
আরও তদন্ত হওয়ার পর কোনো অথেনটিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করবো।
এটা একটা ইনডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস। এটা সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ পারদর্শী ও প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তানভীর জোহা বলেন, একজন সাবেক মহাপরিচালক, তারি বিরুদ্ধে দুদকে একটা মামলা আছে। সে মামলায় তার বরিশালের বাসা থেকে বেশ কিছু... সবকিছুই জব্দ করা হয়, সেখানকার ইলেকট্রনিক পার্টটা ট্রাইব্যুনাল পুনরায় আবার জব্দ করে। সেই ইলেকট্রনিক পার্টের মধ্যে আমরা ২০০৭ থেকে শুরু করে এ অবধি পর্যন্ত অনেক রকমের ডকুমেন্টেশন আমরা পেয়েছি। সার্ভার পেয়েছি, কিছু ফাইল ডিলিট করা আছে সেগুলো আমরা রিকভার করেছি, আর কিছু ফাইল প্রিন্টেড করা আছে সেখানে ডিলিট করার কিছু নেই।
প্রসিকিউটর জোহা আরও বলেন, সেই তথ্য বিশ্লেষণ ও তিনজন-চারজনের মতো সন্দেহভাজনকে নির্ণয় করে তদন্ত চলাকালীন সময়ে চিফ প্রসিকিউটর স্যারের নলেজে দিয়ে একজনকে আমি জিজ্ঞাসাবাদ করি। প্রথম জিজ্ঞাসাবাদেই প্রাথমিক অবস্থায় তিনি কিছু স্টেটমেন্ট দিয়েছেন। তার স্টেটমেন্টের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সেই সাবেক মহাপরিচালক (তখন র্যাবের দায়িত্ব পালন করছিলেন) তাকে বলেছিলেন, ‘আগামীকাল কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।’
জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রসিকিউটর জোহা বলেন, বিডিআর অথবা ওই সময়কার সরকারের কোনো স্পর্শকাতর কোনো ডকুমেন্টেশন ছিল। যেটা অবশ্যই এটা একটা ডিস্ক রিলেটেড বা টেপ রিলেটেড বা কোনো মেমোরি রিলেটেড একটা ব্যাপার যেটা এসেছিল, সেই কারণেই আর কি ব্যাপারটা রয়েছে। এবং আমি আরো জানতে পেরেছি তার কাছ থেকে যে, বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস মিসিং আছে।