Image description

‘ম্যাডাম আর কোনো দিন আমাদের ক্লাসে আসবেন না, সহপাঠীদের সাথে এমন কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়ছিল খুদে শিক্ষার্থীরা। প্রিয় ম্যাডামকে শেষ বিদায় জানাতে চোখের জলে ভাসছিল তারা।

 

রোববার দুপুরে স্কুলের মাঠে লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে আছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীন। প্রিয় ম্যাডামকে এক নজর দেখতে এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়। আনন্দের বিদ্যাপীঠ যেনো শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়।

 

যে স্কুলে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে হাসিমুখে কোমলমতি শিশুদের বুকে টেনে নিয়েছেন, সেই প্রিয় কর্মস্থলে চিরবিদায়ের জন্য ফিরছেন রনজিলা পারভীন (৫৭)। তবে এবার আর হেঁটে নয়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে।

 

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া ও তানিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘ম্যাডাম আমাদের খুব ভালোবাসতেন, কেউ স্কুলে না এলে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতেন। আর কখনো তিনি আমাদের ক্লাসে আসবেন না—এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।

 

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে প্রাণ হারান তিনি। রোববার বাদ জোহর ৩৮ বছরের স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম নামাজের জানাজা। সেখানে অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় ম্যাডামকে শেষ বিদায় জানান সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সর্বস্তরের মানুষ।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে স্বামী আব্দুল মতিনের সঙ্গে চোখের চিকিৎসার ঢাকায় যান রনজিলা পারভীন। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী রনজিলার হাতব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়। তিনি চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে আছড়ে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

 

তার স্বামী আব্দুল মতিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় গেলাম, ফিরলাম লাশ নিয়ে। ছিনতাইকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

 

তার বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোনো সভ্য দেশে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ 

 

 

স্কুল প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে রনজিলা পারভীনের লাশ নেওয়া হয় তার গ্রামে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।