মেহেরপুরে বিবাহ বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সাবেক স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে সায়ান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। কুপিয়ে শরীর থেকে বিচ্ছন্ন করা হয় সানজিদা রহমান স্মৃতির একটি হাত। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা সুলতানা। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা। এদিকে বুধবার সকালে অভিযুক্ত সায়ানকে আটক করেছে পুলিশ।
শহরের ব্যস্ততম এলাকা লর্ড মার্কেট। প্রধান সড়কের পাশেই সেলিম ইলেকট্রনিক্স। উপরে পরিবার নিয়ে থাকেন এ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সেলিম হোসেন। গেল মঙ্গলবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে বাড়িতে প্রবেশ করে স্মৃতির প্রাক্তন স্বামী সায়ান।
এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে স্মৃতির ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মেয়ের চিৎকারে পাশের কক্ষ থেকে বাবা-মা ছুটে আসলে তাদেরও এলাপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায় ওই যুবক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা স্মৃতি ও তার বাবা-মাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেখানে চিকিৎসা শেষে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। বর্তমানে স্মৃতি ও তার বাবা-মা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্মৃতির পরিবারের সদস্যদের দাবি, ১০ দিন আগে সায়ানের সঙ্গে স্মৃতির বিয়ে হয়। সে মাদকাসক্ত হওয়ায় ৩ দিন আগে তাকে তালাক দেয় স্মৃতি। এরই জের ধরে এ ঘটনা ঘটিয়েছে সায়ান। এমন ঘটনায় পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্থির দাবি জানিয়েছেন তারাও।
তবে অভিযুক্ত সায়ানের মা রুনা খাতুনের দাবি, তার ছেলে মাদকাসক্ত নয়, বিবাহ বিচ্ছেদের কোনো ঘটনা তিনি জানেন না। কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে ব্যাগপত্র গুছাতে দেখেছেন তিনি। এরপর বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় স্মৃতি। পরে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ছেলে মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েছে। ৩ বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মানসিক বিপদগ্রস্ত হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে সায়ান।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেছে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান। তিনি বলেন, দ্রুত সময়রে মেধ্যে আইনগত ব্যবস্থার নিতে পুলিশকে বলা হয়েছে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সায়ানকে আটক করা হয়েছে। তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।