ফ্ল্যাট বিক্রয় নিয়ে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজা নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন বিদিশাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার আইনজীবী মনিরুজ্জামান সবুজ আপিলের শর্তে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম ও বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মামলার বাদী মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। ২০০১ সালের ১ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী বিদিশা হুসাইন মোশাররফকে একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির জন্য প্রস্তাব দেন। বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা হুসাইন তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন। পরে তার বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা হুসাইন টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলা করেন। ২০০৯ সালের ৯ আগস্ট এই মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এই মামলার বিচার শেষে গত ২০ মে তার দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ রায় দেন। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনি পলাতক থাকায় সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।