রংপুরে নিজ বাড়িতে খুন হওয়া স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তাদের দুই সন্তানের মরদেহের ফরেনসিক রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে মর্গের এক ডোমের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুই দিন ধরে পড়ে থাকা প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তার মেয়ে পার্থী চক্রবর্তীর শরীর থেকে ‘বীর্য’ পাওয়ার দাবি এবং এর ভিত্তিতে ধর্ষণের প্রশ্ন তোলা কতটা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী।
ইয়াসির আরাফাত জিসান নামের ওই শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, কোনো তরল পদার্থকে শুধু খালি চোখে দেখে সেটিকে সিমেন হিসেবে শনাক্ত করা এবং তার ভিত্তিতে ধর্ষণের ঘটনা নিশ্চিত করা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘নারী ভিকটিমরা রেপড হয়েছে এটা আন্দাজ করাই যায়। কিন্তু যে তথ্যের মাধ্যমে এটা দাবি করা হচ্ছে সেটা হাস্যকর।’
তিনি আরও লেখেন, ‘মানুষের সিমেন বা বীর্য লিকুইফাই হয়ে যায় সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যেই। মানে ভারী জেলির মতো অবস্থা থেকে পানির মতো তরল হয়ে যায়। সেখানে দুইদিনের একটা ডিকম্পোজিং লাশ থেকে সিমেন বের হয়ে আসছে সেটা আবার ডোম দেখে চিনে ফেলছে! এমনটা কখনোই হয় না।’
পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘এই দাবির মাধ্যমে পুরো মেডিকেল এডুকেশনটাকে জাস্ট বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানো হচ্ছে। দুইদিনের একটা লাশ রেপ হয়েছে কিনা সেটা প্রমাণ অন্যভাবে করতে হয়, খালি চোখে সিমেন দেখে না।’
এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গের এক ডোমের বক্তব্য গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বক্তব্যে মরদেহ থেকে পাওয়া কোনো তরল পদার্থকে কেন্দ্র করে যৌন নির্যাতনের আলামত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ফলে ডোমের বক্তব্য এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তাদের দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই প্রতিবেশী যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।