Image description

‘আসুন, যা লাগে ফ্রিতে নিয়ে যান।’ হাজারও মানুষের স্রোতের পাশে দাঁড়িয়ে একের পর এক পথচারীকে এমন করেই ডাকছিলেন মইনুদ্দিন মামুন। সামনে কয়েকটি টেবিল। তাতে সাজানো শরবতের জগ, পানির বোতল, বিস্কুটের প্যাকেট আর রুটি। কেউ দাঁড়িয়ে এক গ্লাস শরবত পান করছেন। কেউ সঙ্গে থাকা শিশু কিংবা বৃদ্ধ স্বজনের জন্য খাবার নিচ্ছেন। কেউ আবার হাতে বিস্কুটের প্যাকেট নিয়ে ভিড়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন।

চারপাশে তখন মানুষের ঢল। কারও হাতে সবুজ পতাকা, কারও কণ্ঠে নাত ও সালাম। ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা’ ধ্বনির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের ডাক- ‘শরবত খান’, ‘পানি নেন’, ‘খাবার নেন’।

বুধবার ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে ৫৫তম জশনে জুলুসের রুটে বিবিরহাট এলাকায় দেখা যায় এমন দৃশ্য। তবে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো আয়োজন নয়। জুলুসের দীর্ঘ পথজুড়ে তৈরি হয়েছে মানুষের জন্য মানুষের এক বিশাল আপ্যায়নের অদৃশ্য নেটওয়ার্ক।

কোথাও ব্যক্তি উদ্যোগে, কোথাও ব্যবসায়ী বা স্থানীয় সংগঠনের ব্যবস্থাপনায়, আবার কোথাও কয়েকজন বন্ধু ও স্বজন মিলে পথের পাশে সাজিয়েছেন খাবারের টেবিল। শরবত, পানি, বিস্কুট, রুটি, খেজুর, বিরিয়ানি- যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়ে এসেছেন কিছু না কিছু। বিনিময়ে নেওয়া হয়নি কোনো টাকা।

শিশুদের জন্য চকলেট নিয়ে হাজির হয়েছেন কেউ কেউ। ছবি: টাইমস

লাখো মানুষের ধর্মীয় সমাবেশে খাবারের এই ছোট ছোট আয়োজনগুলো যেন এদিন ভালোবাসার, আতিথেয়তার এবং নবীপ্রেমকে মানুষের সেবায় প্রকাশ করার এক অন্য গল্প লিখছে।

আয়োজকেরা এবার ৫০ লাখের বেশি মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করেছেন। জুলুসের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় প্রশাসনের পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালনের করছে।

বিবিরহাটে জনস্রোত থামতেই বাড়ে আতিথেয়তা

জুলুসের বিশাল মিছিল যখন বিবিরহাট অতিক্রম করছে, তখন রাস্তার দুই পাশে মানুষের ভিড় আরও ঘন। দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটতে থাকা অনেকের মুখেই ক্লান্তির ছাপ। এমন সময় শরবতের স্টলের সামনে এসে অনেকেই থামছেন।

একজন শরবত পান করে গ্লাস ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তার পেছনেই অপেক্ষায় আরেকজন। আবার কোনো কোনো পরিবার একসঙ্গে দাঁড়িয়ে শিশুদের হাতে বিস্কুট তুলে দিচ্ছেন। কেউ খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন না; সামান্য বিশ্রাম নিয়ে আবার মিশে যাচ্ছেন জুলুসের জনস্রোতে।

এই দৃশ্যের কেন্দ্রেই ছিলেন মইনুদ্দিন মামুন। পেশায় তিনি লোহা ব্যবসায়ী। নিজের উদ্যোগে জুলুসে অংশ নিতে আসা মানুষের জন্য শরবত, বিস্কুট ও রুটির ব্যবস্থা করেছেন। এই আয়োজনের হিসাব টাকা দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয় জানিয়ে মামুন বলেন, ‘আশেকে রাসুলদের খাওয়াতে পেরে আমি খুব খুশি। এখানে কোনো টাকা লাগবে না। যার যতটুকু প্রয়োজন, সে ততটুকু নিয়ে খেতে পারেন। মানুষ যতক্ষণ আসবেন, আমরা ততক্ষণ খাবার ও শরবত দেওয়ার চেষ্টা করব।’

খাবার নিতে আসা কাউকে তিনি চেনেন না, আবার অনেকেই তাকে চেনেন না। তবু কয়েক মুহূর্তের জন্য তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের সম্পর্ক- একজন দিচ্ছেন, আরেকজন গ্রহণ করছেন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে। জশনে জুলুসের মতো বিশাল ধর্মীয় আয়োজনে এই সম্পর্কের কোনো পরিচয়পত্র লাগে না।

‘অনেক দূর থেকে এসেছি, এক গ্লাস শরবত অনেক স্বস্তি দিয়েছে’

হাটহাজারী থেকে জুলুসে অংশ নিতে এসেছেন আবদুল্লাহ। সকালেই বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। নগরে পৌঁছে মানুষের স্রোতের সঙ্গে তিনিও জুলুসে যোগ দেন। বিবিরহাট এলাকায় শরবতের স্টল দেখে থামেন তিনি।

আবদুল্লাহ বলেন, ‘অনেক দূর থেকে এসেছি। এতক্ষণ হাঁটার পর শরবত খেয়ে খুব ভালো লাগল। বিস্কুটও নিয়েছি। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, এখানে কেউ কোনো টাকা চাইছে না। শুধু মানুষের খেদমত করার জন্য এত আয়োজন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জুলুসে এত মানুষের মধ্যে সবাইকে তো ব্যক্তিগতভাবে চেনা সম্ভব নয়। কিন্তু এখানে সবাই যেন একে অপরের আপনজন হয়ে গেছে। কেউ খাবার দিচ্ছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউ পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন।’

কেউ বিলাচ্ছেন পানি। ছবি: টাইমস

ফটিকছড়ি থেকে আসা মো. রাকিবের যাত্রাও ছিল দীর্ঘ। সকাল থেকে কয়েক দফায় হেঁটেছেন তিনি। তার কাছে পথের এই খাবার বিতরণ শুধু ক্ষুধা বা তৃষ্ণা মেটানোর বিষয় নয়।

‘সকাল থেকে হাঁটছি। পথে বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি মানুষ শরবত ও খাবার দিচ্ছে। দূর থেকে আসা মানুষের জন্য এটি অনেক বড় স্বস্তি। যারা এসব করছেন, তাঁরা কোনো পরিচিত মানুষকে নয়, সবাইকে খাওয়াচ্ছেন। এটাই সবচেয়ে সুন্দর,’ বলেন রাকিব।

আরেক অংশগ্রহণকারী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আজ মনে হচ্ছে পুরো চট্টগ্রাম যেন অতিথি আপ্যায়নে নেমেছে। কেউ শরবত দিচ্ছেন, কেউ বিস্কুট, কেউ রুটি। আবার কোথাও বিরিয়ানির ব্যবস্থা আছে। সবাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।’

একটি জুলুস, হাজারও ছোট আয়োজন

জশনে জুলুসের আনুষ্ঠানিক আয়োজনের কেন্দ্র এক জায়গায় হলেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছড়িয়ে ছিল পুরো রুটজুড়ে।

কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে টেবিল বসিয়ে রাখা হয়েছে পানির বোতল ও শরবত। কোথাও স্থানীয় যুবকেরা বড় ড্রামে শরবত তৈরি করছেন। কয়েক হাত দূরেই আরেকটি স্টলে বিতরণ হচ্ছে বিস্কুট ও রুটি। আবার কোথাও রান্না করা খাবারের প্যাকেট হাতে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন।

মানুষের ভিড় বাড়লে তারা দ্রুত খাবার তুলে দিচ্ছেন। ভিড় কমলে আবার পরের দফার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কেউ কাউকে জোর করছেন না। আবার খাবার নেওয়ার ক্ষেত্রেও কোনো সংকোচ নেই। আয়োজকদের ভাষায়, এ আয়োজনই করা হয়েছে জুলুসে অংশ নিতে আসা মানুষের জন্য।

একটি স্টলে শরবত নিতে দাঁড়ানো এক বৃদ্ধকে দেখা গেল পাশে থাকা আরেক তরুণের দিকে তাকিয়ে বলতে, ‘আগে আপনি নেন।’ তরুণটি উত্তর দিলেন, ‘না, চাচা, আপনি আগে খান।’
কয়েক সেকেন্ডের সেই ছোট্ট দৃশ্যটিও যেন দিনের বড় আয়োজনের বাইরে অন্য এক চট্টগ্রামকে তুলে ধরে- যেখানে লাখো মানুষের ভিড়েও একজন অপরিচিত মানুষের কথা ভাবছেন আরেকজন।

রাজপথজুড়ে সবুজের আবহ, কণ্ঠে দরুদ

৫৫তম জশনে জুলুস উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরের চেনা দৃশ্য বদলে যায়। ভোর থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও দূরদূরান্তের মানুষ ষোলশহরের দিকে আসতে শুরু করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সকাল থেকেই নগরের সড়কে মানুষের দীর্ঘ সারি ও উপচে পড়া ভিড়ের কথা উঠে এসেছে।

সড়কের দুই পাশে ও বিভিন্ন স্থাপনায় টানানো হয় সবুজ পতাকা। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রধান সড়কে নির্মাণ করা হয় নানা নকশার তোরণ। মানুষের পোশাক, হাতে থাকা পতাকা এবং ধর্মীয় আবহ মিলিয়ে পুরো রুটজুড়ে তৈরি হয় আলাদা এক দৃশ্য।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ-এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে জুলুস শুরু হয়।

জশনে জুলুসে জনস্রোত। ছবি: টাইমস

দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোটের সাজ্জাদনশীন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহর নেতৃত্বে জুলুসে যোগ দেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ। তার সঙ্গে অতিথি হিসেবে ছিলেন সৈয়দ মুহাম্মদ কাশেম শাহ ও সৈয়দ মুহাম্মদ আকিব শাহ।

জুলুসটি নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড় প্রদক্ষিণ করে জুলুস ময়দানে ফেরার কথা রয়েছে, যেখানে জোহরের নামাজের পর দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

৫০ লাখের প্রত্যাশা, প্রস্তুতিতে ছিল বিশাল আয়োজন

এবারের জশনে জুলুসকে ঘিরে আগেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট। ১৭ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকেরা জানিয়েছিলেন, ২৬ আগস্টের জুলুসে ৫০ লাখের বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে।

জুলুসের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয় দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহর। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়।
এত বড় জনসমাগমের বাস্তবতা মাথায় রেখে জুলুসের রুটে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সামনে বা পেছনে অনুমোদিত যানবাহন ছাড়া অন্য গাড়ি চলাচল না করার অনুরোধ জানানো হয় এবং রুটে যানবাহন পার্কিংয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

তবে প্রশাসনিক এই বিশাল ব্যবস্থাপনার বাইরে মানুষের স্বেচ্ছাশ্রম ও ব্যক্তিগত উদ্যোগও এদিন জুলুসের আরেকটি বড় শক্তি হয়ে ওঠে।

যে মানুষটি হয়তো কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে নেই, তিনিই নিজের দোকানের সামনে এক ড্রাম শরবত নিয়ে দাঁড়িয়েছেন।
যে কয়েকজন তরুণের নাম কোনো তালিকায় নেই, তারাই হয়তো পানির বোতল হাতে ভিড়ের মধ্যে ঘুরছেন।
আবার কোনো পরিবার সকাল থেকে রান্না করে খাবার নিয়ে এসেছে শুধু জুলুসে অংশ নেওয়া মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।

দানের চেয়ে বড়, সেবার অনুভূতি

জশনে জুলুসের পথে খাবার বিতরণ করা অনেকের কাছেই পুরোনো রীতি। তবে এদিনের দৃশ্য দেখে মনে হয়, এর সঙ্গে কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার সম্পর্ক নেই; আছে ব্যক্তিগত আবেগও। খাবার বিতরণকারীদের কেউ এটিকে দান বলতে চান না। তাদের কাছে এটি খেদমত।

মইনুদ্দিন মামুন বলেন, ‘মানুষকে খাওয়াতে পারাটাই আনন্দের। এত মানুষ দূরদূরান্ত থেকে আসেন। কেউ অনেকক্ষণ ধরে হাঁটেন। তাদের যদি এক গ্লাস শরবত দিতে পারি, একটু খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি, সেটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া।’

এই ভাবনার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় জুলুসের রুটের অন্য আয়োজনগুলোতেও। এক জায়গায় খাবার শেষ হয়ে গেলে কেউ বলছেন, ‘আরেক ব্যাচ আসছে।’ অন্যত্র স্বেচ্ছাসেবকেরা ব্যস্ত নতুন করে শরবত তৈরি করতে। মানুষের সংখ্যা যত বাড়ছে, আয়োজনও তত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোথাও সেই ফুরিয়ে যাওয়াকে ক্লান্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না, বরং আবার নতুন করে ব্যবস্থা করার তাগিদ দেখা যাচ্ছে।

এ যেন প্রতিযোগিতা- কে কত বেশি দেবে, তার নয়; বরং কে কতটা আন্তরিকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে, তার।

১৯৭৪ সাল থেকে আজকের জনসমুদ্র

চট্টগ্রামে জশনে জুলুসের ইতিহাস পাঁচ দশকের বেশি পুরোনো। ১৯৭৪ সালে এ আয়োজনের সূচনা হয়। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধি ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। আয়োজকদের ভাষায়, জশনে জুলুস এখন চট্টগ্রামের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অন্যতম বড় অংশে পরিণত হয়েছে।

ছবি: টাইমস

প্রথম দিকের তুলনায় এখন জুলুসের বিস্তৃতি অনেক বড়। শুধু চট্টগ্রাম নগর নয়, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, আনোয়ারা, পটিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলা এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এতে অংশ নিতে আসেন।
কেউ আসেন দলবদ্ধভাবে। কেউ পরিবার নিয়ে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে। কেউ আবার একাই।

তবে জুলুসের রুটে এসে তাদের সবাইকে এক জায়গায় মিলিয়ে দেয় একটি পরিচয়- তারা অংশ নিতে এসেছেন একই ধর্মীয় আয়োজনের। আর পথের ধারে বসানো খাবারের স্টলগুলো সেই পরিচয়কে আরও সহজ করে দেয়।

এক গ্লাস শরবতের মধ্যেও যে গল্প

একটি বড় ধর্মীয় সমাবেশের খবর সাধারণত মানুষের সংখ্যা, নিরাপত্তা, নেতৃত্ব, রুট ও ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু সেই বিশাল আয়োজনের ভেতরে হাজারো ছোট গল্পও থাকে। বিবিরহাটের মইনুদ্দিন মামুন সেই ছোট গল্পগুলোর একটি। হাটহাজারী থেকে আসা আবদুল্লাহর এক গ্লাস শরবতও একটি গল্প। ফটিকছড়ির রাকিবের হাতে তুলে দেওয়া বিস্কুটের প্যাকেটও একটি গল্প।

কোথাও একজন বৃদ্ধের জন্য পানি এগিয়ে দেওয়া, কোথাও শিশুর হাতে খাবার তুলে দেওয়া, কোথাও ক্লান্ত পথচারীকে বসতে দেওয়া- এসব দৃশ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব থাকে না।

কিন্তু লাখো মানুষের জুলুসে মানুষের প্রতি মানুষের এই আচরণই অনেক সময় সবচেয়ে বেশি মনে থাকে।

দিন শেষে হয়তো রাস্তা আবার আগের চেহারায় ফিরবে। তোরণ সরবে, মানুষের ঢল কমবে, খাবারের টেবিল গুটিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু যারা কয়েক ঘণ্টা ধরে জুলুসের পথে হেঁটেছেন, তাদের অনেকের স্মৃতিতে থেকে যাবে অচেনা কারও দেওয়া এক গ্লাস শরবত কিংবা বিনামূল্যে হাতে তুলে দেওয়া এক টুকরো রুটি।