ডেইলি ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম বলেছেন, শরিফ ওসমান হাদি যেভাবে বাংলাদেশের আজাদির কথা বলতেন, তার আগে এদেশে খুব কম মানুষই এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। হাদি বিশ্বাস করতেন, জুলাই এখনো শেষ হয়নি এবং মানুষের লড়াই মূলত একটি সাংস্কৃতিক লড়াই।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই শহীদ স্মৃতি ভবন অডিটোরিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে প্রকাশিত ‘শহিদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সংসদ সদস্য ডা. মারদিয়া মমতাজ, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
শফিকুল আলম বলেন, ওসমান হাদি মুজিববাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তি তখনই আসবে, যখন মানুষ সাংস্কৃতিকভাবে সচেতন হয়ে উঠবে। আওয়ামী বয়ানের বিরুদ্ধে হাদি যে আদর্শিক লড়াইয়ের কথা বলে গেছেন, তা অব্যাহত রাখতে হবে।
সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ওসমান হাদি প্রায়ই বলতেন, তিনি সংসদে যেতে পারলে বাকি ২৯৯ সংসদ সদস্যের ঘুম হারাম করে দেবেন। আজ সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা উসমান হাদির বিচার পাই না। তিনি ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং তাদের নানা পরামর্শ দিতেন। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় তার চিন্তা ও পরামর্শকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। তিনি বলেন, হাদি যে বাংলাদেশপন্থি রাজনীতির রূপরেখা রেখে গেছেন, তার মৃত্যুর পর তা আরও বেশি মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।
সংসদ সদস্য ডা. মারদিয়া মমতাজ বলেন, ওসমান হাদি তাদের ওপর অনেক দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। তার বক্তব্য ও চিন্তাভাবনার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে তার চিন্তাগুলো থেকে প্রয়োজনীয় বিষয় বাস্তবায়নের কথাও বলেন তিনি।
সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ভারতের সঙ্গে ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিত করা, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনা এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ ওসমান হাদি যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নকে ধারণ করে তা কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, কিছু মানুষ পৃথিবীতে না থাকলেও তাদের চিন্তাধারা ও আদর্শ মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকে। শহীদ শরিফ ওসমান হাদি তেমনই একজন ব্যক্তি। তিনি মানুষের অব্যক্ত কথাগুলো কীভাবে উচ্চারণ করতে হয়, তা শিখিয়ে গেছেন।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি বিভিন্ন পডকাস্ট, সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য মাধ্যমে যেসব বক্তব্য রেখে গেছেন, সেগুলোর একটি শক্তিশালী চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। সমাজ, রাষ্ট্র এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিনি কীভাবে চিন্তা করতেন, তার বক্তব্যগুলোতে তার প্রতিফলন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদস্য, শিক্ষক, ডাকসু নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিনিধিরা। ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং সঞ্চালনা করেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তার।