Image description

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ ৪ জনকে হত্যার পর বাসায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে সন্দেহে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেন সিদ্ধার্থ। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এভাবেই সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

তিনি জানান, গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর নিচে নেমে আসেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস। তখন ভোরের আলো ফুটেছে মাত্র। এসময় ঘুম থেকে জেগে বিছানায় বসে ছিল ছোট ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। সিদ্ধার্থকে চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয়। পরে বাসায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে সন্দেহে সেখানে থাকা একটি পুরনো প্লাস নিয়ে নিচতলায় গিয়ে বৈদ্যুতিক মিটারের তার কেটে ফেলেন সিদ্ধার্থ। এসময় শর্ট সার্কিট হয়। আর এ কারণে মেইন লাইন বিচ্ছিন্ন হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় মুগ্ধ ওপর তলায় অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছেন সিদ্ধার্থ।

সনাতন চক্রবর্তী জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের সহায়তায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে অনেকে নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ পুলিশের কাছে ছোট ছোট কিছু বিষয় গোপন করলেও আদালতে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে বিভ্রান্ত হবার কিছু নেই। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া যাবে।

 

রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। তিনি নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এরপর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। দোতলা বাড়ির নিচতলার কাজ শেষ হয়নি। দুই-তিন বছর ধরে দোতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।

অবসরে যাওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগীও দেখতেন গণপতি। গত শনিবার রাতে বাসা থেকে গণপতি (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার হয়।

তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার ভোরে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন নগরীর মাছয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

এদিন দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে তারা গণপতির বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন। শব্দ শুনে গণপতি সেখানে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য তিন সদস্যকেও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয় বলে জানায় পুলিশ।